
নাটোরের নলডাঙ্গায় মেয়ে সংক্রান্ত বিরোধের জেরে মো: আক্তার হোসেন (২৬) নামের এক যুবককে বেধড়ক মারপিটের অভিযোগ উঠেছে। এতে ভিকটিম গুরুতর আহত অবস্থায় রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় উপজেলা যুবদলের এক নেতা ও ছাত্রদলের দুই কর্মীসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) নলডাঙ্গা থানায় ভিকটিমের বাবা মো: এরশাদ আলী (৫৫) বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৬ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক ৭টার দিকে নলডাঙ্গা থানাধীন ২নম্বর মাধনগর ইউনিয়নের বাঁশিলা গ্রামের আক্কাচের মোড় এলাকায় মেয়ে সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে পাকা রাস্তার ওপর ভিকটিম আক্তার হোসেনের ওপর হামলা চালানো হয়। ১ নম্বর বিবাদী মো: মাহবুবুর রহমান (মেয়ের বাবা) ও ২ নম্বর বিবাদী মো: মহসিন (মেয়ের বড় চাচা)-সহ অন্য বিবাদীরা বাঁশের লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি ও লাথি মেরে ভিকটিমকে গুরুতর জখম করে।
আঘাতে ভিকটিম ঘটনাস্থলেই জ্ঞান হারিয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়লে স্থানীয়রা তাকে রাত ১০টার দিকে উদ্ধার করে নাটোর সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় রাত সাড়ে ১১টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর পরামর্শ দেন।
এ ঘটনায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে বাঁশিলা গ্রামের তিন আসামিকে গ্রেফতার করেছে।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন মরহুম জমসেদ খানের ছেলে, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো: জিয়াউর রহমান ওরফে জিয়া (৪৫); মো: মাসুদের ছেলে, ছাত্রদল কর্মী মো: শাকিল (২৫) এবং সেন্টু ওরফে কান্টুর ছেলে, ছাত্রদল কর্মী মো: হিমেল (২৫)।
ঘটনার সংবাদ পেয়ে নলডাঙ্গা থানার তদন্ত ইন্সপেক্টর, সেকেন্ড অফিসার এসআই সুব্রত কুমার, এসআই মো: আব্দুল মালেক, এসআই হাসান মাহমুদ, এসআই শাহিন বাদশা, এসআই মেহেদী ও এএসআই জাকির সঙ্গীয় ফোর্সসহ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
নলডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনোয়ার জাহান বলেন, ‘ঘটনার পরে থানায় একটি এজাহার দায়ের হয়েছে। এজাহার দায়েরের ভিত্তিতে তিন আসামিকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। বাকিদের গ্রেফতারের প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। বর্তমানে ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে।’







