টুপটুপ রিসোর্ট, কক্সবাজার
টুপটুপ রিসোর্ট, কক্সবাজার। সংগৃহীত

কক্সবাজারের ইনানীতে পাটুয়ারটেক সমুদ্রসৈকত এলাকার ‘টুপটুপ’ রিসোর্টে ভয়াবহ আগুনের ঘটনায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ছয়জন একই পরিবারের সদস্য।

Advertisement

এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরো ছয়জন। আগুনে ইট ও কাঠ দিয়ে তৈরি তিনতলা রিসোর্টটির প্রায় পুরো স্থাপনা পুড়ে গেছে।

রিসোর্টে আগুন লাগার ঘটনায় নিহত ১০ জন হলেন— ফারিয়া কবির (৩৩), তার ছেলে ফায়িজান আহম্মেদ (৫), তিন কাজিন ইসরাত জাহান মালিহা (৩০), ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী মেলিতা মেহেজাবিন আলভী (২৩) ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী লায়লা জাহান নাবিলা (২৭), নাফিসতা মীম (২৭), ঢাকার সাভারের ‘স্বপ্ন বিলাস স্কুল’ নামের একটি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক নাসরিন আক্তার মুক্তা (২৯), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মো: নাফিস তেহামী, জিহাদ হাওলাদার ও তারিকুল ইসলাম।

অগ্নিকাণ্ডে আহত ছয়জনকে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। তারা হলেন— মুগদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক শিহাব উদ্দীন সাদী (৩১), তার স্ত্রী নাফিজা নেওয়াজ খান (২৯), মান্নান (৩৪), মেহেরুন্নেসা (৩০), মাসুদ (৩০) ও সামিদা (৩২)।

এর আগে, শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকাল ৭টার দিকে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভের পাশে অবস্থিত রিসোর্টটিতে আগুন লাগে। আগুন লাগার সময় রিসোর্টের অনেক পর্যটক ঘুমিয়ে ছিলেন। ফলে তাদের অনেকে কক্ষের ভেতরে আটকা পড়েন। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করে। প্রাণ বাঁচাতে কয়েকজন রিসোর্ট থেকে লাফিয়ে বের হয়ে প্রাণে বেঁচে যান।

কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের উপসহকারী পরিচালক সৈয়দ মোরশেদ হোসেন হতাহতদের বিষয়ে তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, রিসোর্টের রান্নাঘরের দিক থেকে বিকট শব্দ হওয়ার পর আগুনের সূত্রপাত হয়। এরপর দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ে পুরো স্থাপনায়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট সকাল ৮টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় সকাল ১০টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। এ সময় উদ্ধার অভিযানও পরিচালনা করেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা।

অগ্নিকাণ্ডের কারণ সম্পর্কে প্রাথমিকভাবে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের কথা বলা হচ্ছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো: আবদুল মান্নান জানান, রিসোর্টের গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের কারণে আগুন লেগে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে আগুন লাগার প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হতে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। 
তিনি আরো জানান, কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর অগ্নিকাণ্ডের কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। তদন্ত কমিটি আজ রোববার ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন করতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

টুপটুপ রিসোর্ট অ্যান্ড রেস্তোরাঁয় আগুন লাগার ঘটনায় একসাথে ১০ জনের মৃত্যু স্থানীয় পর্যটনকেন্দ্রিক ব্যবসায়ীদের চিন্তার মুখে ফেলেছে। বিশেষ করে পর্যটন স্পটে স্থাপনা পরিচালনা, অগ্নিনিরাপত্তা, জরুরি বহির্গমন ব্যবস্থা ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি যথাযথ ছিল কি-না, এসব বিষয় তদন্তের ওপর নির্ভর করছে।

উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান বলেন, আগুনের ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় প্রতিষ্ঠানের একজন ব্যবস্থাপনা পর্যায়ের কর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

উখিয়া উপজেলা পরিষদের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট এ কে এম শাহজালাল চৌধুরী বলেন, পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারলে এখানে পর্যটক আসবে না। এখন পর্যটনের সময়। কক্সবাজার থেকে পর্যটকরা উখিয়ার ইনানীমুখী হচ্ছে। আমরা পর্যটকদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছি। এটা আমাদের ব্যর্থতা শিকার করতে হবে। ইনানী পর্যটন জোন হিসেবে এখানে ফায়ার সার্ভিস স্টেশন স্থাপন করতে হবে।

তিনি আরো বলেন, পাটুয়ারটেক টুপটুপ ট্রাজিডি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। এ ঘটনায় যারা নিহত হয়েছেন, আমি তাদের জন্য দোয়া করি, আল্লাহ যেন সবাইকে শহীদ হিসেবে কবুল করেন। আর তাদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করছি।