নুর আলম, তার স্ত্রী ফারিহা কবির ও ছেলে ফাইজান আহম্মেদ
নুর আলম, তার স্ত্রী ফারিহা কবির ও ছেলে ফাইজান আহম্মেদ। সংগৃহীত

কক্সবাজারে টুপটুপ রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে স্ত্রী-সন্তান, তিন শ্যালিকা ও এক শ্যালকের মৃত্যুতে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন নুর আলম। আনন্দময় সময় কাটাতে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কক্সবাজারে যাওয়া সেই ভ্রমণই তার জীবনে নিয়ে এসেছে এক মর্মান্তিক ও অপূরণীয় শোক।

Advertisement

নুর আলম বরিশাল জেলার উজিরপুর উপজেলার বাসিন্দা। চাকরির সুবাদে স্ত্রী ফারিহা কবির ও ছেলে ফাইজান আহম্মেদকে নিয়ে তিনি চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার দক্ষিণ হাসপাতালপাড়ার একটি ভাড়াবাড়িতে টানা আট বছর ধরে বসবাস করে আসছেন। তিনি ড্রাগ ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের চুয়াডাঙ্গায় মেডিক্যাল প্রমোশন অফিসার (এমপিও) হিসেবে কর্মরত।

অগ্নিকাণ্ডে নিহতরা হলেন— নুর আলমের স্ত্রী ফাবিহা কবির, ছেলে ফাইজান আহম্মেদ, শ্যালক কৌশিক জেরিফ, তিন শ্যালিকা ইসরাত জাহান মালিহা, মিলিতা মেহজাবিন আলভি ও লায়লা জাহান নাভিলা। নিহত অন্য আরেকজন হলেন নাফিসতা মীম কবির।

মোবাইলফোনে নুর আলম জানান, স্ত্রী ফারিহা কবির, সাত বছরের ছেলে ফাইজান আহম্মেদ, তিন শ্যালিকা ও এক শ্যালককে নিয়ে তিনি কক্সবাজারে বেড়াতে যান। অফিসের কাজ থাকায় শুক্রবার পরিবারের সদস্যদের সেখানে রেখে তিনি চুয়াডাঙ্গায় ফিরে আসেন। শনিবার বাকিদের কক্সবাজার থেকে ফেরার কথা ছিল। কিন্তু সকালে রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে তার স্ত্রী, সন্তান, তিন শ্যালিকা ও এক শ্যালক মারা যাওয়ার খবর পান তিনি।

নুর আলম বলেন, আজ তাদের ফিরে আসার কথা ছিল। কিভাবে আগুন লাগলো জানি না। আমার স্ত্রী, সন্তানসহ পরিবারের ছয়জন মারা গেছে। এর বেশি কিছু বলার মতো অবস্থায় নেই।

নুর আলমের একমাত্র ছেলে ফাইজান আহম্মেদ চুয়াডাঙ্গার প্রদীপন মাধ্যমিক বিদ্যাপীঠের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

শনিবার বিকেলে চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার দক্ষিণ হাসপাতালপাড়ায় নুর আলমের ভাড়া বাসায় গিয়ে দেখা যায়, তৃতীয় তলার কক্ষটি তালাবদ্ধ। স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে যে বাসায় আট বছর ধরে সংসার করছিলেন নুর আলম, তাদের অনুপস্থিতিতে সেই বাসা এখন সম্পূর্ণ নিস্তব্ধ।

বাড়ির মালিক হারুন আর রশিদ বলেন, নুর আলম প্রায় আট বছর ধরে আমার বাড়ির তৃতীয় তলায় স্ত্রী-সন্তান নিয়ে ভাড়া থাকেন। তারা অত্যন্ত ভালো মানুষ। ঘটনা শোনার পর তিনি শ্বশুরবাড়িতে চলে গেছেন। ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক।

উল্লেখ্য, শনিবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের মেরিন ড্রাইভ-সংলগ্ন পাটুয়ারটেক সৈকতের টুপটুপ রিসোর্টে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। একইদিন বেলা ১১টার দিকে আগুন সম্পূর্ণ নির্বাপণ করা হয়।