
বগুড়ার সোনাতলায় পরকীয়া প্রেমিকের সাথে আপত্তিকর অবস্থায় দেখে ফেলায় ছয় বছরের শিশু ইউসুফ আলীকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার মা রিনি বেগমের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় তাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রিনি বেগম হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। হত্যায় কথিত প্রেমিক সজলের সম্পৃক্ততাও তদন্ত করা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকালে শিশুটির মাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়। পরে শিশুটির বাবা পলাশ মিয়ার দায়েরকৃত মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়।
এর আগে, বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে সোনাতলা উপজেলার বালুয়াহাট গ্রামের একটি ধানক্ষেত থেকে শিশু ইউসুফের ক্ষতবিক্ষত ও অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করা হয়। নিখোঁজ হওয়ার চার দিন পর তার লাশ পাওয়া যায়।
সোনাতলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন বলেন, শিশুটির মৃত্যুর ঘটনায় তার মাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি হত্যার দায় স্বীকার করেছেন।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ইউসুফের মা রিনি বেগমের সাথে তার প্রথম স্বামী পলাশ মিয়ার প্রায় দেড় বছর আগে বিচ্ছেদ হয়। পরে রিনি দ্বিতীয় বিয়ে করে সোনাতলার বড় বালুয়া এলাকায় বসবাস শুরু করেন। ইউসুফ মায়ের সাথেই থাকত।
পুলিশের কাছে দেয়া জবানবন্দির বরাতে জানা গেছে, দ্বিতীয় সংসারে থাকার সময় সজল নামে এক যুবকের সাথে সম্পর্কে জড়ান রিনি। ওই যুবক মাঝেমধ্যে তার বাড়িতে আসতেন। গত ১০ অক্টোবর তাদের আপত্তিকর অবস্থায় দেখে ফেলে ইউসুফ। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার আশঙ্কায় ওই রাতেই সজলকে সাথে নিয়ে একটি বাগানে ধারালো অস্ত্র দিয়ে শিশুটিকে হত্যা করেন বলে রিনি পুলিশকে জানিয়েছেন। পরে লাশ পাশের একটি ধানক্ষেতে ফেলে রাখা হয়।
পুলিশ জানায়, ইউসুফ নিখোঁজ হওয়ার পর সোমবার (১২ অক্টোবর) থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন রিনি। বুধবার স্থানীয় লোকজন বাড়ির কাছের একটি ধানক্ষেতে দুর্গন্ধ পেয়ে শিশুটির লাশ দেখতে পান।
এ ঘটনায় ইউসুফের বাবা পলাশ মিয়া রিনি বেগম ও সজলের বিরুদ্ধে সোনাতলা থানায় মামলা করেছেন। সজলের সম্পৃক্ততার বিষয়টি তদন্ত করছে পুলিশ।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








