সাজেক
মানববন্ধন। নয়া দিগন্ত

সাজেক ভ্রমণে প্রশাসনিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে খাগড়াছড়িতে মানববন্ধন করেছে পর্যটন সংশ্লিষ্ট জনগণ ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার না হলে কঠোর আন্দোলনের হুশিয়ারিও দেন তারা। 

Advertisement

বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকালে খাগড়াছড়ির মুক্ত মঞ্চের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করে পর্যটন সংশ্লিষ্ট পরিবহন মালিক-শ্রমিক, হোটেল ব্যবসায়ী ও স্থানীয় জনগণ। মানববন্ধন শেষে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীকে স্মারকলিপি দেয়া হয়।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, পার্বত্য যানবাহন মালিক কল্যাণ সমিতির সভাপতি আয়ুস চাকমা, সহঅধিকার আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক মো: আসাদ উল্লাহ, ই-ট্যুরিজম অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য উজ্জ্বল দে, কটেজ মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক রাহুল চাকমা এবং মাহিন্দ্র মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জসিম প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, পাহাড়ের আঞ্চলিক সশস্ত্র সংগঠনগুলোর বাস, ট্রাক, মোটরসাইকেল, হোটেল-রেস্তোরাঁ ও ঠিকাদারদের কাছ থেকে জোরপূর্বক অবৈধ চাঁদা আদায় করছে। চাঁদা না দিলে গাড়ি ভাঙচুর এবং চালক, শ্রমিক ও ব্যবসায়ীদের ওপর নির্যাতন করছে। পাহাড়ে সংঘাত সৃষ্টকারী ও চাঁদাবাজির সাথে জড়িত সশস্ত্র সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে বেড়াতে আসা  প্রশাসনক ও সাধারণ জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান বক্তারা।

বক্তারা আরো বলেন, আসন্ন দুর্গাপূজার ছুটিতে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার কারণে সাজেকে পর্যটক আসতে না পারলে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। সাজেক বন্ধ থাকায় ব্যাংক ঋণগ্রস্ত পরিবহন মালিক, চালক, হোটেল, কটেজ, রেস্তোরাঁসহ পর্যটননির্ভর অসংখ্য মানুষের জীবন-জীবিকা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত।

এসময় বক্তারা, সাজেকে পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করণ, পর্যটক ভ্রমণে আরোপিত প্রশাসনিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, পর্যটননির্ভর মানুষের জীবন-জীবিকা সুরক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ সহ সাজেকে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও নিরাপদ পর্যটন পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানান।

উল্লেখ্য, ১১ অক্টোবর রোববার এক গণবিজ্ঞপ্তিতে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত অনিবার্য কারণবশত : সাজেক পর্যটন কেন্দ্র সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করে জেলা প্রশাসন।