
সৌদি আরবে কর্মস্থলে দায়িত্ব পালনকালে পাঁচতলা ভবনের ছাদ থেকে নির্মাণকাজে ব্যবহৃত একটি ব্লক মাথায় পড়ে এক প্রবাসী বাংলাদেশীর মৃত্যু হয়েছে।
শনিবার (১০ অক্টোবর) রাতে মক্কা নগরীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
এর আগে, মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) রাতে কর্মস্থলে দায়িত্ব পালনকালে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত সৌদিপ্রবাসীর নাম ফয়সাল মিয়া (৩৬)। তিনি কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী পৌরসভার নামা বোয়ালিয়া মহল্লার বাসিন্দা মো: চাঁন মিয়ার ছেলে। ফয়সাল সৌদি আরবের মক্কা নগরীর আল ইয়ামামা কোম্পানিতে শ্রমিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তার স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।
জানা যায়, পরিবারের সচ্ছলতা ফেরানোর স্বপ্ন নিয়ে ১০ বছর আগে সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়েছিলেন ফয়সাল মিয়া। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে স্ত্রী-সন্তানসহ স্বজনরা এখন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন।
পরিবারিক সূত্রে জানা যায়, ৬ অক্টোবর রাতে কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন করছিলেন ফয়সাল। এ সময় পাঁচতলা ভবনের ছাদ থেকে নির্মাণকাজে ব্যবহৃত একটি ব্লক তার মাথার উপর পড়ে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে তাকে উদ্ধার করে নিকটস্থ একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার রাতে তার মৃত্যু হয়।
নিহত ফয়সালের বড় ভাই মো: সজল মিয়া জানান, দুর্ঘটনার পর তার ভাইকে হাসপাতালে নেয়া হয়েছিল। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। ফয়সালের মৃত্যুর খবর মোবাইলফোনে জানান সৌদি আরবে তার সাথে একই কক্ষে থাকা রুমমেট জাকির হোসেন।
ফয়সালের স্ত্রী কোহিনুর বেগম বলেন, ‘আমার স্বামীই ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। আমাদের একটি ছেলে ও একটি মেয়ে রয়েছে। এখন সন্তানদের নিয়ে কিভাবে চলব, তা বুঝতে পারছি না।’
স্বামীর লাশ দেশে ফিরিয়ে আনার আকুতি জানিয়ে কোহিনুর বেগম জানান, তিনি স্বামীর মুখটি শেষবারের মতো দেখতে চান। এজন্য দ্রুত তার লাশ দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করতে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
কটিয়াদী পৌরসভার বোয়ালিয়া মহল্লার সাবেক কাউন্সিলর ও কটিয়াদী পৌর বিএনপির সভাপতি আশরাফুল হক দাদন বলেন, ফয়সালের মৃত্যুর খবর দেশে পৌঁছানোর পর তার বাড়িতে শোকের মাতম চলছে। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে স্ত্রী-সন্তান ও বৃদ্ধ বাবা-মা চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন। তিনি ফয়সালের লাশ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করেন।
দীর্ঘ ১০ বছর প্রবাসে শ্রম দিয়ে পরিবারের জন্য সচ্ছল জীবনের স্বপ্ন দেখেছিলেন ফয়সাল। কিন্তু তার আকস্মিক মৃত্যুতে সেই স্বপ্নের পাশাপাশি পরিবারটির ভবিষ্যৎও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এখন স্বজনদের চাওয়া, দ্রুত তার লাশ দেশে ফিরিয়ে আনা হোক। যাতে শেষবারের মতো প্রিয়জনের মুখ দেখতে পারেন তারা।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








