
বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগা বলেছেন, ‘শহীদ আবরার ফাহাদ ছিলেন মানুষের অধিকার ও দেশের স্বার্থের কথা বলা সময়ের সাহসী কণ্ঠস্বর। ফ্যাসিবাদী শাসনামলে ছাত্রলীগের তত্ত্বাবধানে থেকেও তিনি দেশের স্বার্থ ও মানুষের অধিকার নিয়ে কথা বলেছেন। তাকে রাতভর নির্মমভাবে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছিল। তার মতো গত ১৬ বছরে বাংলাদেশের বিভিন্ন ক্যাম্পাসে অসংখ্য মানুষকে নির্যাতন-নিপীড়নের শিকার হতে হয়েছে।’
বুধবার (৭ অক্টোবর) বিকেলে কুমারখালী উপজেলার রায়ডাঙ্গা গ্রামের ঈদগাহ ময়দানে শহীদ আবরার ফাহাদের সপ্তম শাহাদতবার্ষিকী ও নিপীড়নবিরোধী দিবস উপলক্ষে কুষ্টিয়া শহর ছাত্রশিবির আয়োজিত বিশেষ আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।
সিবগাতুল্লাহ সিবগা বলেন, ‘আমরা জুলাই বিপ্লব ও জুলাই অভ্যুত্থানের মাধ্যমে একটি নতুন বাংলাদেশ গঠন করেছি। সমগ্র দেশে যারা রাজপথে জীবন দিয়েছেন, তাদের অন্যতম আইকন ছিলেন শহীদ আবরার ফাহাদ। তিনি ছিলেন সময়ের সাহসী সন্তান।’
তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের জন্য যারা জীবন দিয়েছেন, শহীদ আবরার ফাহাদ তাদের অন্যতম আইকন ছিলেন। সাহসের সাথে কথা বলার ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন অনন্য। ফ্যাসিষ্ট শাসনামলে ছাত্রদের ওপর প্রতিষ্ঠানের ভেতরে যে নিপীড়ন চলেছে, তার বিরুদ্ধে যারা কথা বলেছেন, শহীদ আবরার ফাহাদ ছিলেন তাদের অন্যতম।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমরা যারা এ বাংলাদেশে আছি, আমরা যুগ যুগ ধরে আজাদির লড়াই করে আসছি। এ ভূখণ্ডের মানুষ বছরের পর বছর যুদ্ধ, লড়াই ও সংগ্রামের মধ্য দিয়ে গেছে। আমরা ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ দেখেছি, আমরা তিতুমীরের বাঁশের কেল্লা ও ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন দেখেছি। ১৮৫৭ সালের সিপাহী বিপ্লবও আমাদের লড়াই-সংগ্রামের সাক্ষী।’
ঐতিহাসিক শোষণের প্রসঙ্গ তুলে ধরে শিবির সেক্রেটারি বলেন, ‘আমাদের দেশের মানুষকে দীর্ঘদিন শোষণ করা হয়েছে। এ দেশের সম্পদ ও কাঁচামাল নিয়ে অন্যত্র শিল্প ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে। একটি জমিদার শ্রেণি তৈরি করে সাধারণ মানুষকে শোষণ করা হয়েছে।
কিন্তু বাংলাদেশের মানুষ কখনো অন্যায় শোষণ মেনে নেয়নি।’
বিগত ১৬ বছরের রাজনৈতিক পরিস্থিতির সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘আপনারা জানেন দীর্ঘ ১৬ বছর বাংলাদেশে একটি সরকার ছিল। কিন্তু সে সরকারের একটি বড় অংশ বাংলাদেশকে নিজেদের স্বার্থে নয় বরং ভারতের কাছে তাবেদার রাষ্ট্র হিসেবে পরিচালনা করেছে। আমরা দেখেছি বাংলাদেশের একজন মন্ত্রী বলেছেন, বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক। আবার ফ্যাসিবাদী প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ভারতকে তিনি যা দিয়েছেন, তা আর কেউ কেড়ে নিতে পারবে না।’
তিনি আরো বলেন, ‘শহীদ আবরার ফাহাদ এ ধরনের অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলেছেন। আমাদের বিশ্বাস ও আত্মমর্যাদার জায়গা থেকে আমাদের সামনে এগিয়ে যেতে হবে। উত্তরবঙ্গের মানুষ শুকনো মৌসুমে পানির সঙ্কটে ভোগে, আবার বর্ষায় বন্যার শিকার হয়। এ ধরনের সমস্যার মধ্য দিয়েই আমাদের চলতে হচ্ছে।’
প্রতিবেশী রাষ্ট্রের আধিপত্যবাদী ভূমিকার সমালোচনা করে সেক্রেটারি বলেন, ‘আমাদের পাশের রাষ্ট্র একটি আধিপত্যবাদী শক্তি। তাদের হাতে হায়দ্রাবাদ হারিয়ে গেছে, সিকিম হারিয়ে গেছে। বিভিন্ন অঞ্চলের স্বাধীনতাও তাদের আধিপত্যের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমরা দেখেছি, গত ১৬ বছর বাংলাদেশকে নত করে রাখার চেষ্টা করা হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে চায়। এ দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও মর্যাদা রক্ষার জন্য যারা জীবন দিয়েছেন, তাদের আত্মত্যাগ আমাদের প্রেরণা। শহীদ আবরার ফাহাদ মতো সাহসী মানুষদের আদর্শ ধারণ করেই আমাদের সামনে এগিয়ে যেতে হবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘দেশের স্বার্থ, সার্বভৌমত্ব ও মানুষের অধিকার রক্ষার প্রশ্নে আবরার ফাহাদ যে সাহস দেখিয়েছিলেন, তা আমাদের জন্য অনুপ্রেরণার। তার আত্মত্যাগকে স্মরণ করে আমাদের অন্যায়, নিপীড়ন ও আধিপত্যের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে দাঁড়াতে হবে।’
কুষ্টিয়া শহর ছাত্রশিবিরের সভাপতি হাফেজ আব্দুল্লাহ আল মামুনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি এনামুল হক, ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় মিডিয়া সম্পাদক হাফেজ মোজাহেরুল ইসলাম, শহীদ আবরারের চাচা রবিউল ইসলাম মাস্টার, ছাত্রশিবির কুষ্টিয়া জেলা সভাপতি ইমরান বিশ্বাস, কুমারখালী উপজেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মনিরুল ইসলাম মাস্টার, কয়া ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মাসুদ রানা, ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি হোসাইন ও শহীদ আবরার ফাহাদ স্পোর্টিং ক্লাবের সভাপতি ইমরান হোসেন প্রমুখ। আলোচনা শেষে আবরার ফাহাদের রূহের শান্তি কামনা করে দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।
এর আগে বাদ জোহর ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগা নেতাকর্মীদের নিয়ে শহীদ আবরার ফাহাদের কবর জিয়ারত করেন। পরে তার রূহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করা হয়।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








