কাউখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
কাউখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ছবি: নয়া দিগন্ত

পিরোজপুর জেলায় ডেঙ্গুর প্রকোপ আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। যার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে জেলার কাউখালী উপজেলায়। প্রতিনিয়ত নতুন রোগী ভর্তি হওয়ায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শয্যা ও স্থান সঙ্কট দেখা দিয়েছে।

পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় বাধ্য হয়ে অনেক ডেঙ্গু রোগীকে হাসপাতালের মেঝে ও করিডোরে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে, যা সাধারণ রোগীদের জন্য স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সরেজমিনে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায়, ওয়ার্ডে নির্ধারিত শয্যা পূর্ণ হয়ে যাওয়ায় করিডোর ও সাধারণ রোগীদের খুব কাছাকাছি মেঝেতে ডেঙ্গু রোগীদের রাখা হয়েছে।

যদিও ডেঙ্গু আক্রান্তদের মশারির ভেতরে রাখা হয়েছে। তবুও একই স্থানে সাধারণ রোগীদের অবস্থানের কারণে মশাবাহিত এই রোগের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করছেন রোগী ও তাদের স্বজনরা।

এদিকে সম্প্রতি কাউখালীর এক স্কুলশিক্ষক ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে বরিশাল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়ার পর স্থানীয়দের মাঝে আতঙ্ক আরো বেড়েছে।

হাসপাতালে আসা রোগীদের স্বজনরা বলেন, রোগীর অতিরিক্ত ভিড়ে সীমাহীন ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। ডেঙ্গু রোগীদের জন্য অবিলম্বে পৃথক ভবন বা আলাদা কক্ষের ব্যবস্থা করা জরুরি। অবহেলিত এই উপজেলার মানুষের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে নির্মাণাধীন ১০১ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের কাজ দ্রুত বাস্তবায়ন করা দরকার।

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের ১৭ সেপ্টেম্বরের তথ্য অনুযায়ী, কাউখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এ পর্যন্ত ১৬১ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে ১৪৭ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন এবং বর্তমানে হাসপাতালে ১৪ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন আছেন।

অবশ্য স্বাস্থ্য বিভাগের দাবি, প্রতিদিন নতুন রোগী ভর্তি হলেও জেলার অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় কাউখালীতে বর্তমানে ডেঙ্গু পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতির দিকে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা: সুব্রত কর্মকার জানান, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পর্যাপ্ত ওষুধ, প্রয়োজনীয় স্যালাইন ও বিনামূল্যে ডেঙ্গু পরীক্ষার অ্যান্টিজেন কিট সরবরাহ রয়েছে। এই অঞ্চলে প্রচুর সুপারি ও নারিকেল গাছ থাকায় গাছের গোড়ায় বা পাতায় জমে থাকা পানিতে এডিস মশার লার্ভা জন্মায়। এ বিষয়ে আমরা সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে কাজ করে যাচ্ছি।

ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার বিষয়ে কাউখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মিজ রেহানা আক্তার জানান, উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও জলাশয়ে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি মশার বংশবৃদ্ধি রোধে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে নিয়মিত মশক নিধন ওষুধ ছিটানো ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।