গ্রেফতার
গ্রেফতার মুজাহিদ। নয়া দিগন্ত

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে দুই নারী নৃত্যশিল্পীকে ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি মুজাহিদকে সিলেটের বিয়ানীবাজার থেকে গ্রেফতার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি-৯)। 

Advertisement

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। 

এসআরবি জানায়, বাহিনীটির আত্মপ্রকাশের পর এটি তাদের প্রথম অভিযান।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) এসআরবি-৯ সদর দফতরে অনুষ্ঠিত ব্রিফিংয়ে এই তথ্য তুলে ধরেন এসআরবি-৯ সিলেটের অধিনায়ক উইং কমান্ডার তাজমিনুর রহমান চৌধুরী। 

তিনি জানান, মামলার অন্যতম আসামি সত্য বিশ্বাসকে পুলিশ গ্রেফতারের পর তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে মুজাহিদের পরিচয় ও অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে পুলিশের সহযোগিতায় অভিযান চালিয়ে বিয়ানীবাজারে তার নানার বাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

এসআরবি সূত্র জানায়, গত ৮ সেপ্টেম্বর মুজাহিদ ‘রাকিব’ নামে ফেসবুকের মাধ্যমে একটি পেশাদার নৃত্যশিল্পী দলের সাথে যোগাযোগ করেন। ১০ সেপ্টেম্বর বিকেলে ওই দলের তিন সদস্য—১৬ ও ১৯ বছর বয়সী দুই নারী এবং সাঈদ হোসেন নামের এক পুরুষ—ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলের কুট্টাপাড়া বিশ্বরোড এলাকায় আসেন। সেখান থেকে তাদের নৌকায় করে তিতাস নদীর একটি এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়।

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, সন্ধ্যার পর নৌকার ছাউনিতে সাঈদ হোসেনকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে দুই নারী নৃত্যশিল্পীকে ধর্ষণ করা হয়। পরে তাদের নাসিরনগরের গোকর্ণঘাট এলাকায় নামিয়ে দেয়া হয়। ভুক্তভোগীরা প্রথমে নাসিরনগর থানায় গেলেও ঘটনাস্থল সরাইল থানার আওতাধীন হওয়ায় পরে সরাইল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন।

ব্রিফিংয়ে এসআরবি-৯-এর অধিনায়ক জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মুজাহিদ ফেসবুকের একটি গ্রুপের মাধ্যমে নৃত্যশিল্পীদের সাথে যোগাযোগের কথা স্বীকার করেছেন। একটি অনুষ্ঠানে নেয়ার জন্য ৯ হাজার টাকার চুক্তি হয়েছিল এবং এর মধ্যে ২ হাজার টাকা বিকাশে অগ্রিম দেয়া হয়েছিল বলে তিনি জানিয়েছেন।

এসআরবি আরো জানায়, মুজাহিদের অবস্থান শনাক্তে এক ডেকোরেটর ব্যবসায়ীর কাছ থেকে তথ্য পাওয়া যায়। পরে সে সেখান থেকে পালিয়ে বিয়ানীবাজারে নানার বাড়িতে আশ্রয় নেয়। এ ঘটনায় আরো পাঁচজন সহযোগীর তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এসআরবি-৯-এর অধিনায়ক বলেন, ‘জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং প্রচলিত আইন, বিধিবিধান ও মানবাধিকারের নীতিমালা অনুসরণ করেই এসআরবি কাজ করবে।’ 

মাদক, হত্যা, ধর্ষণ, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, উগ্রপন্থা ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের মতো অপরাধ দমনে বাহিনীটি ভূমিকা রাখবে বলে প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।