
বিএনপির নেতাকর্মীরা ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগের আমলের মতো কোনো আচরণ করছে না মন্তব্য করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেছেন, আওয়ামী লীগ দেশ থেকে টাকা লুট করেছে, মানুষের জায়গা দখল করেছে, মানুষের গোয়ালঘরের গরু নিয়ে গেছে, পুকুরের মাছ পর্যন্ত তারা ধরে নিয়ে যেত, গোটা দেশটাকে অরাজকতার মধ্যে ফেলে নিজেদের লুটপাটের রাজত্ব কায়েম করেছিলো ফ্যাসিস্টরা। সেটার পুনরাবৃত্তি বিএনপি করবেও না, এবং হতেও দেবে না। বিএনপি হচ্ছে শান্তি, স্থিতি এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা একটি রাজনীতিক দল।
সোমবার (১২ অক্টোবর) সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মরহমু আ. স.ম হান্নান শাহর ১০তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে স্মরণ সভায় তিনি এসব কথা বলেন। স্মরণ সভার আয়োজন করে হান্নান শাহ স্মৃতি সংসদ। স্মরণ সভায় বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ অংশ নেন।
নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে রিজভী বলেন, আমরা প্রত্যেকে কিন্তু সরকারের অংশ। আমরা কে কোন পদ পেলাম না পেলাম, সেটা বিষয় না। আজকে এই সরকার যদি তার ভাবমূর্তি ভালো রাখে এবং যে নিষ্ঠার সাথে দেশ পরিচালনা করছে, সেটা যদি অব্যাহত রাখে, সে ব্যাপারে আমাদের সকলকে সহযোগিতা করতে হবে। আজকে এমপিদের এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে; এক্ষেত্রে দলীয় নেতাকর্মীদের চেষ্টা করতে হবে তাদেরকে সহযোগিতা করা।
তিনি বলেন, আমরা তো রাজনীতি করিনি রাতারাতি বড়লোক হওয়ার জন্য, সারের ডিলার আর ঠিকাদারি পাওয়ার জন্য। এতদিনের রাজনীতি আর সংগ্রামকে যদি ডিলার বা ঠিকাদারের কাজের জন্য বিক্রি করে দেই, তাহলে তো আমরা বড় কিছু অর্জন করতে পারব না। আমাদের বৃহত্তর অর্জন হবে সাধারণ মানুষ, ভোটাররা যাতে দেখে যে বিএনপির নেতাকর্মীরা অত্যন্ত সহনশীল। বিএনপির নেতাকর্মীরা ওই ফ্যাসিবাদী আমলের মতো কোনো আচরণ করছে না। সহিষ্ণুতার সাথে কাজ করে শান্তিময় অবস্থা বজায় রাখতে হবে।
রিজভী বলেন, নানা ধরনের চক্রান্ত ষড়যন্ত্র কিন্তু থেমে নেই। গতকাল অবসরপ্রাপ্ত দুজন সামরিক কর্মকর্তাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ, কারণ তাদের পরিকল্পনা হচ্ছে—আপনাদের মাথায় এই জিনিসটা রাখতে হবে—সামনে দুর্গাপূজা। নানাভাবে সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করার জন্য পরাজিত শক্তি কাজ করছে।
নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কুচক্রী মহলের ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে আমাদের থাকতে হবে ঘুমহীন, একেবারে একজন গার্ডের মতো, প্রহরীর মতো। পূজা কমিটি যাদের রয়েছে, হিন্দুদের সাথে আলাপ আলোচনা করে প্রত্যেকটি পূজায় আমাদের পাহারার ব্যবস্থা, পর্যবেক্ষণের মধ্যে থাকতে হবে, নজরদারীর মধ্যে থাকতে হবে। এবং সেই ক্ষেত্রে প্রত্যেকটি নেতাকর্মী নিজের ইচ্ছায়, স্বেচ্ছায়, স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে এই দায়িত্ব পালন করবে।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








