এআই খাতে বিনিয়োগ নিয়ে উদ্বেগে এশিয়ার শেয়ারবাজারে মিশ্র প্রবণতা
এআই খাতে বিনিয়োগ নিয়ে উদ্বেগে এশিয়ার শেয়ারবাজারে মিশ্র প্রবণতা। সংগৃহীত ছবি

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে বিপুল বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দেয়ায় শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে এশিয়ার শেয়ারবাজারে মিশ্র প্রবণতা দেখা গেছে। 

Advertisement

অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্বাচনের আগে ইরানে হামলার সম্ভাবনা নাকচ করে দেয়ার পর তেলের দাম কমেছে। এর আগে অবশ্য তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছিল।

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা প্রযুক্তি খাতে নতুন করে আশাবাদ তৈরি করেছে। সামনে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশের মৌসুম ঘিরেও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল। এ সপ্তাহে চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এনভিডিয়ার শেয়ারের দাম রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছায়। একইসাথে প্রতিষ্ঠানটির বাজারমূল্য ছয় ট্রিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি চলে যায়।

তবে ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, চ্যাটজিপিটির নির্মাতা ওপেনএআই চলতি বছর বার্ষিক হিসাবে ৫০ বিলিয়ন ডলার আয় করবে বলে ধারণা করছে। এর আগে প্রতিষ্ঠানটির সম্ভাব্য আয় ৭০ বিলিয়ন ডলার হতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছিল। নতুন এই তথ্য প্রযুক্তি খাতের বিনিয়োগকারীদের আশাবাদে ধাক্কা দিয়েছে।

এসপিআই অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের স্টিফেন ইনেস বলেন, ‘এই উত্থানের বেশিভাগ সময় বাজারে বিনিয়োগকারীরা অর্থ কোথায় বিনিয়োগ হচ্ছে, সেটিকেই গুরুত্ব দিয়েছেন। বড় ডেটা সেন্টার, আরো বেশি জিপিইউ, মেমোরি, বিদ্যুৎ, ঋণ এবং মূলধনি ব্যয়— সবকিছুর পরিমাণই বেড়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘প্রতিবার নতুন বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতিকে বাজার ইতিবাচকভাবে নিয়েছে। কারণ, ধারণা ছিল— শিল্প খাত যখন এত বিপুল অর্থ ব্যয় করতে প্রস্তুত, তখন শেষ পর্যন্ত সেই বিনিয়োগের যৌক্তিকতা প্রমাণ করার মতো চাহিদাও তৈরি হবে। কিন্তু ওপেনএআইয়ের নতুন আয়ের পূর্বাভাস বাজারকে হিসাবের অন্য দিকটিও বিবেচনা করতে বাধ্য করেছে।’

এ পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াল স্ট্রিটে প্রযুক্তিনির্ভর নাসডাক সূচক ১ শতাংশের বেশি কমেছে। এনভিডিয়ার শেয়ারের দাম কমেছে প্রায় ৩ শতাংশ। মাইক্রোসফট, এএমডি ও অ্যামাজনসহ আরো কয়েকটি বড় প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠানের শেয়ারেও উল্লেখযোগ্য দরপতন হয়েছে।

তবে পেপারস্টোনের বিশ্লেষক ক্রিস ওয়েস্টন বলেন, ‘আয়ের হিসাব করার পদ্ধতিতে পার্থক্যের কারণেও এই অসংগতি দেখা যেতে পারে। এর অর্থ এই নয় যে ওপেনএআইয়ের ব্যবসার মৌলিক অবস্থার অবনতি হয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘যে বাজারে শেয়ারের মূল্যায়ন ক্রমেই উচ্চাভিলাষী আয় ও নগদ অর্থপ্রবাহের পূর্বাভাসের ওপর নির্ভরশীল হয়ে উঠছে, সেখানে এ ধরনের খবরই এক দিনে বিনিয়োগকারীদের অবস্থানে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন ঘটানোর জন্য যথেষ্ট।’

এশিয়ার বাজারগুলোর মধ্যে টোকিওর শেয়ারবাজারে দরপতন হয়েছে। প্রযুক্তি খাতে বড় বিনিয়োগকারী সফটব্যাংকের শেয়ারের দাম ৪ শতাংশের বেশি কমেছে। কিওক্সিয়া ও অ্যাডভানটেস্টের শেয়ারেও উল্লেখযোগ্য দরপতন দেখা গেছে।

এছাড়া সাংহাই ও সিঙ্গাপুরের শেয়ারবাজারও নিম্নমুখী ছিল। বিপরীতে হংকং, সিডনি, ওয়েলিংটন, ম্যানিলা ও জাকার্তার বাজারে সূচক বেড়েছে। প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠানের আধিক্য থাকা সিউল ও তাইপের শেয়ারবাজার ছুটির কারণে বন্ধ ছিল।

ইরানে হামলার সম্ভাবনা নাকচ করায় তেলের দামে স্বস্তি 
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইরানে হামলা চালানোর সম্ভাবনা নেই বলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দেয়ার পর তেলের দাম কমেছে। ট্রাম্প বলেছেন, তেহরানের সাথে ওয়াশিংটনের ‘ফলপ্রসূ আলোচনা’ চলছে।

এর আগে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইরানে সম্ভাব্য হামলার পরিকল্পনা তৈরি করতে হোয়াইট হাউস পেন্টাগনকে নির্দেশ দিয়েছিল। ধারণা করা হচ্ছিল, শক্ত অবস্থান দেখিয়ে রিপাবলিকানদের নির্বাচনী সম্ভাবনা বাড়ানোর চেষ্টা করা হতে পারে।

শুক্রবার আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের প্রধান দুই বেঞ্চমার্কের দাম প্রায় ০ দশমিক ৭ শতাংশ কমেছে। তবে এর আগে ইরানের হামলা ও পাল্টা হামলা বাড়তে পারে— এমন আশঙ্কায় হরমুজ প্রণালীতে নিরাপত্তাঝুঁকি তৈরি হলে তেলের দাম সর্বোচ্চ ৪ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে গিয়েছিল।

এর পাশাপাশি ইয়েমেনের হাউছি বিদ্রোহীরা ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে সৌদি আরবের রিয়াদ বিমানবন্দরকে লক্ষ্যবস্তু করার চেষ্টা করেছে। সংঘাত আরো বাড়তে থাকায় সৌদি আরবের তেল স্থাপনাগুলোর কর্মীদেরও সম্ভাব্য হামলা এড়াতে সরে যাওয়ার সতর্কতা দিয়েছে তারা।

বছর শেষে সুদের হার বাড়ানোর ইঙ্গিত ফেড কর্মকর্তাদের
যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের (ফেড) কর্মকর্তাদের সাম্প্রতিক মন্তব্যে চলতি বছরের শেষ নাগাদ আরো এক দফা সুদের হার বাড়ানোর প্রত্যাশা জোরালো হয়েছে। তবে চলতি মাসেই সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা কম বলে মনে করা হচ্ছে।

ফেডের গভর্নর ক্রিস্টোফার ওয়ালার বলেন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আরো কঠোর মুদ্রানীতি গ্রহণের প্রয়োজন হতে পারে। অন্যদিকে, সেন্ট লুইস ফেডের প্রধান আলবার্তো মুসালেম আগামী ছয় থেকে নয় মাসের মধ্যে সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনার কথা বলেছেন।

তবে ন্যাশনাল অস্ট্রেলিয়া ব্যাংকের কেন ক্রম্পটন বলেন, ওয়ালারের সাম্প্রতিক বক্তব্য তার আগের অবস্থানের তুলনায় কিছুটা কঠোর হলেও তা ফেডের ভাইস চেয়ারম্যান ফিলিপ জেফারসন এবং নিউইয়র্ক ফেডের প্রধান জন উইলিয়ামসের গত সপ্তাহের বক্তব্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

ক্রম্পটনের মতে, ওই কর্মকর্তাদের বক্তব্য এবং মূল্যস্ফীতির তথ্যের কারণে অক্টোবর মাসে সুদের হার বাড়ানোর বিষয়ে বাজারের প্রত্যাশা কমেছে। আগে বাজারে সুদের হার ১৫ বেসিস পয়েন্ট বাড়ানোর যে ধারণা ছিল, তা কমে ৫ বেসিস পয়েন্টের নিচে নেমে এসেছে।

সূত্র : বাসস