যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল, ট্রাম্প ,অভিযোগ, টাকার কার্লসন,
রক্ষণশীল ভাষ্যকার টাকার কার্লসন। সংগৃহীত

‘একজন নেতার পক্ষে নিজের দেশের চেয়ে অন্য দেশকে প্রাধান্য দেয়া অন্যায়’

Advertisement

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে নিজের দেশের স্বার্থের চেয়ে ইসরাইলের স্বার্থকে বেশি গুরুত্ব দেয়ার অভিযোগ তুলেছেন রক্ষণশীল ভাষ্যকার টাকার কার্লসন। ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের ভরাডুবির পর তিনি এ অভিযোগ করেন।

পাকিস্তানের ইংরেজি দৈনিক দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন বুধবার (৫ নভেম্বর) এ খবর জানায়।

যুক্তরাষ্ট্রের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত এক পডকাস্টে কার্লসন বলেন, ‘একজন নেতার পক্ষে নিজের দেশের চেয়ে অন্য একটি দেশকে বেছে নেয়া অন্যায়।’ ট্রাম্পের কর্মকাণ্ড বোঝাতে তিনি একটি উদাহরণও দেন। বলেন, নিজের সন্তানদের না খাইয়ে রেখে প্রতিবেশীর সন্তানদের ডিজনিল্যান্ডে ঘুরতে নিয়ে যাওয়ার মতো কাজ করেছেন ট্রাম্প।

কার্লসনের ভাষায়, ‘এটা অনৈতিক। ট্রাম্প ঠিক এই কাজটিই করেছেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে ইসরাইলকে বেছে নিয়েছেন। মানুষ এ নিয়ে মিথ্যা কথা বলে। কিন্তু সবাই বিষয়টি দেখতে পাচ্ছে।’ মার্কিন প্রেসিডেন্টের এমন সিদ্ধান্তকে তিনি সরাসরি ‘অন্যায়’ বলে উল্লেখ করেন।

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের জড়িত হওয়া নিয়েও সমালোচনা করেন কার্লসন। তার অভিযোগ, বারবার ইসরাইলের স্বার্থে যুদ্ধে জড়িয়েছে ওয়াশিংটন। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব স্বার্থ।

তিনি বলেন, ‘আপনার দেশ যদি ইসরাইলের স্বার্থে মধ্যপ্রাচ্যে একের পর এক অর্থহীন যুদ্ধ শুরু করে এবং প্রতিবারই পরাজিত হয়, তাহলে আপনার ক্ষমতা কমবে, দেশের নাগরিকদের প্রাণ যাবে, আর ধীরে ধীরে দেউলিয়া হয়ে পড়বেন। একসময় হয়তো মানুষ বলবে, এটা ভালো সিদ্ধান্ত নয়। ইসরাইলের সাথে তাল মিলিয়ে আর কোনো যুদ্ধে যাওয়া যায় না। কিন্তু তেমনটা ঘটেনি। কারণ, আসলে কী ঘটছে, তা বলার সাহস কারো হয়নি।’

২০০৩ সালের ইরাক যুদ্ধের প্রসঙ্গ টেনে কার্লসন দাবি করেন, ইসরাইলের চাপে ওই যুদ্ধে জড়িয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। তার মতে, দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে একই প্রবণতা চলছে।

তিনি বলেন, ‘২৩ বছর আগে ইরাক যুদ্ধেও আমরা একই কাজ করেছি। ইসরাইলের দাবি মেনে যুদ্ধে জড়িয়েছিলাম। ইতিহাসের ঘটনাপ্রবাহে বিষয়টি চাপা পড়ে গেছে। যারা ওই ঘটনার সাথে জড়িত ছিলেন, তাদের যে কাউকে জিজ্ঞাসা করুন। তারা বলবেন, ঠিক এটাই ঘটেছিল। আর এর পেছনে ছিলেন নেতানিয়াহু। সেই একই ব্যক্তি।’

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ইঙ্গিত করে কার্লসন আরো বলেন, ‘ভালো খবর হলো, এখন সবাই বিষয়টি দেখতে পাচ্ছে। শেষ পর্যন্ত এটাই হবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সবচেয়ে স্থায়ী অবদান।’