কিউবার আরো কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা

কিউবার ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। কিউবার নির্মাণ মন্ত্রণালয় এবং ধাতু ও খনি খাতের কয়েকটি রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানকে এই নিষেধাজ্ঞার তালিকায় রাখা হয়েছে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও |সংগৃহীত

কিউবার ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও নতুন এই নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দেন। নিষেধাজ্ঞার আওতায় কিউবার নির্মাণ মন্ত্রণালয়ও রয়েছে।

কিউবার ধাতু ও খনি খাতের কয়েকটি রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানকেও নিষেধাজ্ঞার তালিকায় রাখা হয়েছে।

রুবিও বলেন, এসব প্রতিষ্ঠান গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক খাতের নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে কিউবার সরকারের ‘দমনমূলক কর্মকাণ্ডকে টিকিয়ে রাখতে সহায়তা করছে’।

এছাড়া কিউবান ইনস্টিটিউট অব ফ্রেন্ডশিপ উইথ দ্য পিপলস (আইক্যাপ)-এর তিন শীর্ষ কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি কিউবার বিভিন্ন স্থানে আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিদল ও ব্রিগেডের সদস্যদের আতিথ্য দিয়ে থাকে।

নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়া আইক্যাপের সভাপতি ফার্নান্দো গনজালেস ইয়োর্তকে যুক্তরাষ্ট্রে কিউবার গুপ্তচর হিসেবে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের কারাগারে ১৫ বছর ছিলেন। পরে কিউবায় ফিরে আইক্যাপের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ‘অস্থিতিশীলতামূলক কর্মকাণ্ড’ চালিয়ে যেতে থাকেন বলে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের অভিযোগ।

রুবিও বলেন, ‘আজকের নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে স্পষ্ট হয়েছে যে, কিউবার সরকার দমন-পীড়নে অর্থায়ন করবে কিংবা কয়েক দশক ধরে চলে আসা যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখবে- ট্রাম্প প্রশাসন তা কোনোভাবেই মেনে নেবে না।’

তবে কিউবা এই পদক্ষেপের প্রতিবাদ জানিয়েছে। কিউবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রুনো রদ্রিগেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া এক পোস্টে বলেন, রুবিও কিউবার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়ে দেশটির অর্থনীতির ক্ষতি করার চেষ্টা করছেন।

তার অভিযোগ, এর উদ্দেশ্য হলো কিউবা সরকারকে জনগণের জন্য প্রয়োজনীয় মৌলিক সেবা নিশ্চিত করতে বাধা দেয়া।

ট্রাম্প প্রশাসন চলতি বছরের জানুয়ারিতে কিউবার কমিউনিস্ট সরকারের ওপর নতুন করে চাপ সৃষ্টি শুরু করে। এর আগে কিউবার ঘনিষ্ঠ মিত্র ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ক্ষমতাচ্যুত হন।

কিউবার ওপর আরোপ করা তেল অবরোধ দেশটির আগে থেকেই সঙ্কটপূর্ণ জীবনযাত্রাকে আরো কঠিন করে তুলেছে। পাশাপাশি সামরিক বাহিনীর নিয়ন্ত্রণাধীন বড় ব্যবসায়িক গোষ্ঠী জিএইএসএসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা বিদেশী ব্যবসা ও বিনিয়োগকারীদের কিউবা থেকে দূরে সরিয়ে দিয়েছে এবং দেশটিতে অর্থের প্রবাহ কমিয়েছে।

ট্রাম্প প্রশাসনের অভিযোগ, কিউবা রাশিয়া, চীন ও ইরানের মতো যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোর সাথে সহযোগিতা করে মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ওয়াশিংটন কিউবার সাথে যুক্তরাষ্ট্রের বামপন্থী বিভিন্ন আন্দোলনের কথিত যোগাযোগের বিষয়টিকেও গুরুত্ব দিচ্ছে।

রুবিও বলেন, কিউবার সরকার দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রে একটি বিস্তৃত ‘গোপন প্রভাব বিস্তারকারী নেটওয়ার্ক’ পরিচালনা করে আসছে।

তার দাবি, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ের মতো কর্মসূচির আড়ালে এই নেটওয়ার্কের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন ব্যক্তিকে চিহ্নিত করা, তাদের সাথে যোগাযোগ তৈরি করা এবং ধীরে ধীরে উগ্রপন্থী করে তোলার চেষ্টা করা হয়।

রুবিও আরো দাবি করেন, কয়েক দিন আগে কিউবার সাবেক নেতা ও কমিউনিস্ট বিপ্লবী ফিদেল কাস্ত্রোর জন্মশতবার্ষিকীকে কাজে লাগিয়ে দেশটি এই নেটওয়ার্ককে আবার সক্রিয় করার চেষ্টা করেছে। এ উদ্দেশ্যে আন্তর্জাতিক সমর্থকদের একটি নতুন দলকে কিউবায় নিয়ে গিয়ে দেশটির সরকারি কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ ও মতবিনিময়ের সুযোগ করে দেয়া হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।

তবে ওই ব্যক্তিরা কারা, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি রুবিও।

সূত্র: বাসস