তিস্তায় পাথর উত্তোলন : অভিযানে ১৬ নৌকা ও ৪ ইঞ্জিন ধ্বংস

অবৈধভাবে পাথর উত্তোলনের বিরুদ্ধে টাস্কফোর্সের অভিযানে ১৬টি নৌকা ও চারটি ইঞ্জিন ধ্বংস করা হয়েছে।

ডিমলা (নীলফামারী) সংবাদদাতা

Location :

Dimla
তিস্তা নদীতে টাস্কফোর্সের অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে
তিস্তা নদীতে টাস্কফোর্সের অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে |সংগৃহীত

নীলফামারীর ডিমলায় তিস্তা নদী থেকে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলনের বিরুদ্ধে টাস্কফোর্সের অভিযানে ১৬টি নৌকা ও চারটি ইঞ্জিন ধ্বংস করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টা ৪৫ মিনিট থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত তিস্তা নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে এ অভিযান পরিচালিত হয়।

ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো: ইমরানুজ্জামান, রংপুর বিজিবির মেজর জুলকার নাঈন ও ডিমলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শওকত আলী সরকারের নেতৃত্বে গঠিত টাস্কফোর্স এ অভিযান চালায়। অভিযানে পাথর উত্তোলনে ব্যবহৃত নৌকা ও ইঞ্জিন শনাক্ত করে ধ্বংস করা হয়।

এর আগে তিস্তা নদীতে অবাধে পাথর উত্তোলন, নদীর গতিপথ পরিবর্তন ও ভাঙনের ঝুঁকি নিয়ে নয়া দিগন্তে ‘তিস্তার পেটে মরণযন্ত্র : অবাধ লুটে গতিপথ বদল, সিন্ডিকেটের তাণ্ডবে ধসে পড়ছে বাঁধ ও জনপদ’ শিরোনামে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদন প্রকাশের পর অবৈধ পাথর উত্তোলন বন্ধে প্রশাসন কঠোর পদক্ষেপের ঘোষণা দেয়।

ইউএনও মো: ইমরানুজ্জামান নয়া দিগন্তকে বলেন, ‘তিস্তা নদী থেকে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন বন্ধে টাস্কফোর্স গঠন করে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। যারা এর সাথে জড়িত তাদের তালিকা করা হচ্ছে। খুব শিগগিরই তদন্ত ও অনুসন্ধানের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে। নদী থেকে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন অত্যন্ত কঠোর হস্তে দমন করা হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘এটি এককালীন অভিযান নয়। তিস্তা নদী রক্ষায় টাস্কফোর্সের নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে। কেউ পুনরায় এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত হলে তার বিরুদ্ধেও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে তিস্তার বিভিন্ন পয়েন্টে ইঞ্জিনচালিত নৌকা ও ভারী যন্ত্র দিয়ে পাথর উত্তোলন করা হচ্ছে। এতে নদীর তলদেশে গভীর খাদ সৃষ্টি ও নদীর স্বাভাবিক প্রবাহে পরিবর্তনের পাশাপাশি তীরভাঙনের ঝুঁকি বাড়ছে।

স্থানীয়দের দাবি, অবৈধ পাথর উত্তোলন স্থায়ীভাবে বন্ধে শুধু সরঞ্জাম ধ্বংস নয়, এর নেপথ্যে থাকা ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা ও নিয়মিত নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে।