চান্দিনা (কুমিল্লা) সংবাদদাতা
কুমিল্লার চান্দিনায় শালচর গ্রামে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে প্রবাসীর বাড়িতে ডাকাতি করে সংঘবদ্ধ ডাকাতদল। এসময় নারীদের শারীরিক নির্যাতনও করা হয়। একই সময় পাশের খিরাসার মোহনপুর গ্রামে চুরির ঘটনা ঘটে।
বুধবার (১২ আগস্ট) দিনগত রাত অনুমান আড়াইটার দিকে উপজেলার বরকইট ইউনিয়নের শালচর গ্রামের কুদ্দুস মেম্বারের বাড়িতে ওই ঘটনা ঘটে।
ডাকাতদল প্রবাসী কাদের ভূইয়া ও প্রবাসী কেফায়েত ভূইয়ার বাড়ির ছাদের দরজা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে। ডাকাতদের উপস্থিতি বুঝতে পেরে ঘুম ভাঙে গৃহকর্তা, তার স্ত্রী ও দুই ছেলের বউয়ের।
গৃহকত্রী মাজেদা বেগম জানান, আমার দুই ছেলে প্রবাসে থাকে। ডাকাতদল আমার ঘরের ছাদের দরজা ভেঙে ভিতরে প্রবেশ করে। একে একে প্রায় ৩০টি তালা ভেঙে ঘরের সব কক্ষ ও আলমারি খুলে ফেলে। প্রায় ১৫ জন ডাকাতের সবার সাথে ধারালো অস্ত্র। ডাকাতরা আমাদের সবার হাত, পা ও মুখ বেঁধে নির্যাতন করে এবং ঘরে থাকা অন্তত ছয় ভরি স্বর্ণালঙ্কার, নগদ চার লাখ টাকা, পাঁচটি এনড্রয়েড মোবাইল ফোনসহ প্রয়োজনীয় অনেক মালামাল লুটে নেয়।
একই দিন রাত ৩টার দিকে ওই ইউনিয়নের খিরাসার মোহনপুর গ্রামের প্রবাসী এরশাদুল হকের চুরির ঘটনা ঘটে।
প্রবাসীর বাবা আবুল কালাম জানান, রাত অনুমান ৩টার দিকে দরজার টিন কেটে ঘরে ঢুকে অন্তত আড়াই ভরি স্বর্ণালঙ্কার, নগদ এক লাখ ৭০ হাজার টাকা ও একটি মোবাইল ফোন নিয়ে যায় যায়।
পরে একই গ্রামের আব্দুল মালেকের পাকা ভবনের দরজা ভেঙে ডাকাতির চেষ্টা করে ডাকাতদল। এ সময় গৃহকর্তা টের পেয়ে চিৎকার দিলে ডাকাতদল পালিয়ে যায়।
তিনি জানান, ওই দুই গ্রামে গত এক সপ্তাহে অন্তত তিনটি চুরির ঘটনা ঘটেছে।
চান্দিনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: নুরুজ্জামান জানান, ডাকাতির ঘটনা শুনে আমি তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠাই। ভুক্তভোগী পরিবারকে থানায় ডেকে এনে মামলা নিচ্ছি। তবে চুরির ঘটনার বিষয়টি আমার জানা নেই। এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেব।


