লোড হচ্ছে...
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এবং অন্যান্য শীর্ষ কর্মকর্তার হত্যাকাণ্ডের প্রতিশোধ হিসেবে ইরান পাল্টা হামলা চালাচ্ছে। এর জেরে উপসাগরীয় দেশগুলোতে আরও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। রোববার সকালে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই, বাহরাইনের রাজধানী মানামা এবং কাতারের রাজধানী দোহায় টানা দ্বিতীয় দিনের মতো বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। অশান্ত মধ্যপ্রাচ্যের বুকে এই অঞ্চলটিকে দীর্ঘদিন ধরে শান্তি ও নিরাপত্তার স্বর্গ হিসেবে দেখা হতো, কিন্তু এখন সেখানেও বড় ধরনের সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
১ মার্চ, ২০২৬
ওমানের মেরিটাইম সিকিউরিটি সেন্টার জানিয়েছে, দেশটির মুসান্দাম উপকূল থেকে প্রায় পাঁচ নটিক্যাল মাইল দূরে পালাউয়ের পতাকাবাহী তেল ট্যাঙ্কার ‘স্কাইলাইট’-এ হামলা চালানো হয়েছে। এ ঘটনায় চারজন আহত হয়েছেন এবং জাহাজের ২০ জন ক্রু বা নাবিকের সবাইকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে আর কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
১ মার্চ, ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক উপ-সহকারী প্রতিরক্ষামন্ত্রী মাইকেল মালরয় আল জাজিরাকে বলেছেন, ভেনেজুয়েলার পর ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনিকে হত্যার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র দ্বিতীয়বারের মতো কোনো দেশের সরকার পতনের চেষ্টা চালালেও, ইরানের পরিস্থিতি ‘সম্পূর্ণ ভিন্ন’।
১ মার্চ, ২০২৬
পাকিস্তানের করাচিতে মার্কিন কনস্যুলেটের একেবারে সামনে ভয়াবহ দাঙ্গা বেধে গেছে। এদহি রেসকিউ সার্ভিস জানিয়েছে, এই সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত ৬ জন নিহত এবং অনেকে গুরুতর আহত হয়েছেন। আগেই খবর এসেছিল—হাজার হাজার ক্ষুব্ধ মানুষ কনস্যুলেটের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল। তারা ভবনের দিকে তেড়ে যেতেই পুলিশ লাঠিচার্জ, টিয়ারগ্যাস ও গুলি চালায়।
১ মার্চ, ২০২৬
সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শনিবার ইরান দেশটির ওপর ১৩৭টি ক্ষেপণাস্ত্র এবং ২০৯টি ড্রোন নিক্ষেপ করেছে। আবুধাবি বিমানবন্দরে কর্তৃপক্ষের ভাষায় ‘একটি ঘটনায়’ অন্তত একজন নিহত এবং সাতজন আহত হয়েছেন।এছাড়া আন্তর্জাতিক চলাচলের জন্য বিশ্বের ব্যস্ততম বিমানবন্দর—দুবাই বিমানবন্দরেও হামলা চালানো হয়েছে। কাতারেও এমন হামলার খবর পাওয়া গেছে, যদিও কোনো হতাহত হওয়ার বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
১ মার্চ, ২০২৬
ইরানের শনিবারের প্রতিশোধমূলক হামলায় তেল আবিবের অন্তত ৪০টি ভবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম হারেৎজ। তেল আবিব পৌরসভার বরাত দিয়ে হারেৎজ লিখেছে, এই ক্ষতিগ্রস্ত ভবনগুলোর দুই শতাধিক বাসিন্দাকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তাদেরকে শহরের তিনটি হোটেলে স্থানান্তর করা হয়েছে।
১ মার্চ, ২০২৬
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে ভারত-শাসিত কাশ্মীরের রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন হাজারো শিয়া মুসলিম। লাল, কালো ও হলুদ পতাকা হাতে বিক্ষোভকারীরা শ্রীনগরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত প্রধান চত্বরে সমবেত হন। আবেগঘন অথচ শান্তিপূর্ণ এই সমাবেশে অনেকেই ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র-বিরোধী স্লোগান দেন।
১ মার্চ, ২০২৬
ইরাক সরকার সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেয়ীর শাহাদাতের শোকে তিন দিনের জাতীয় শোক ঘোষণা করেছে। সরকারি মুখপাত্র বাসেম আল-আওয়াদি রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইএনএ-কে দেওয়া বিবৃতিতে বলেছেন: “অপার দুঃখ ও শোকের সাথে আমরা সম্মানিত ইরানি জাতি এবং সমগ্র ইসলামি উম্মাহর প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি। আলেমে দ্বীন, মুজাহিদে আজম, নবী পরিবারের প্রথম সারির সন্তান, আমাদের প্রিয় সর্বোচ্চ নেতা হযরত গ্র্যান্ড আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী আল-হুসাইনি আল-খামেনেয়ী (দা.) মানবতা ও নৈতিকতার সব সীমা লঙ্ঘনকারী একটি নগ্ন আগ্রাসন ও নিন্দনীয় অপরাধের শিকার হয়ে শহীদ হয়েছেন। এই বর্বরতা আন্তর্জাতিক আইন ও সকল চুক্তির প্রকাশ্য লঙ্ঘন।”
১ মার্চ, ২০২৬
ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ আমেরিকা ও ইসরায়েলের নেতাদের উদ্দেশে কঠিন হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন: “তোমরা নোংরা অপরাধী। ইরানের ওপর চালানো এই হামলার জন্য তোমরা এমন ধ্বংসাত্মক আঘাত পাবে যে, শেষে নিজেরাই এসে আমাদের কাছে ক্ষমা ভিক্ষা করতে বাধ্য হবে।”
১ মার্চ, ২০২৬
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেয়ীর পরবর্তী উত্তরাধিকারী কে হবেন, তা নিয়ে এবার আনুষ্ঠানিকভাবে আলোচনায় বসতে যাচ্ছে বিশেষজ্ঞ পরিষদের ৮৮ জন সদস্য। এই মুহূর্তে দুটি প্রধান সম্ভাব্য পরিস্থিতির কথা উঠে আসছে, প্রথমত, আলী খামেনি নিজে মৃত্যুর আগে চারজনের নাম প্রস্তাব করেছেন বলে জানা গেছে। এটিই একটি সম্ভাব্য পথ। এছাড়া অন্য পরিস্থিতিটি হলো— অন্তর্বর্তীকালীন সময়ের জন্য চার সদস্যের একটি নেতৃত্ব পরিষদ গঠন করা হবে, যারা নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত হওয়ার আগ পর্যন্ত দেশ পরিচালনা করবেন।
১ মার্চ, ২০২৬
ডোনাল্ড ট্রাম্প কথা দিয়েচিলেন, তিনি নতুন করে যুক্তরাষ্ট্রকে যুদ্ধে জড়াবেননা। কিন্তু ইরানে নতুন করে হামলার মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ঠিক সেই কাজটিই করেছেন, যা তিনি করবেন না বলে জানিয়েছিলেন। এমনকি অতীতে একই কাজের জন্য তিনি পূর্ববর্তী প্রেসিডেন্টদের সমালোচনাও করেছিলেন। এখানে মূল বিষয়টি কেবল এটা নয় যে তিনি ইরানে হামলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন; বরং তিনি এই হামলার ক্ষেত্রে কংগ্রেসকে পাশ কাটিয়ে বা উপেক্ষা করে সিদ্ধান্তটি নিয়েছেন।
১ মার্চ, ২০২৬
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে চলমান আলোচনার মাঝখানেই এখন পর্যন্ত দু’বার ইরানের ওপর সামরিক হামলা চালিয়েছেন। অনেক বিশ্লেষকের মতে, এই পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।কিন্তু সিবিএস নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেছেন, তিনি মনে করেন, ‘হামলার পর এখন ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সমাধানে পৌঁছানো যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অনেক বেশি সহজ হয়ে গেছে।’
১ মার্চ, ২০২৬
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) দাবি করেছে—ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বোমাবর্ষণের জবাবে তারা পাল্টা হামলার ‘ষষ্ঠ ধাপ’ শুরু করেছে। বাহিনীটি জানায়, তারা এই অঞ্চলে ইসরায়েল ও মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ‘ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন’ হামলা চালিয়েছে। তাদের দাবি অনুযায়ী, ২৭টি মার্কিন ঘাঁটির পাশাপাশি ইসরায়েলের ‘তেল নফ’ বিমানঘাঁটি, তেল আবিবের ‘হাকিরিয়া’য় অবস্থিত ইসরায়েলি সেনাসদর এবং একই শহরে অবস্থিত একটি বিশাল প্রতিরক্ষা শিল্প কমপ্লেক্সে হামলা চালানো হয়েছে।
১ মার্চ, ২০২৬
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনির হত্যাকাণ্ডকে ‘মহাঅপরাধ’ হিসেবে আখ্যায়িত করে এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। রাষ্ট্রপতির কার্যালয় থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি এই হত্যার কঠোর জবাব দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
১ মার্চ, ২০২৬
ইসরায়েলি অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত হামলায় একজন ইসরায়েলি নারী নিহত হয়েছেন এবং আরও ১২১ জন আহত হয়েছেন। আহতদের বেশিরভাগেরই জখম গুরুতর নয়। ইসরায়েলের ওপর ইরানের ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পরপরই এসব হতাহতের ঘটনা ঘটে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দাবি করেছে, অধিকাংশ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন আকাশেই প্রতিহত বা ভূপাতিত করা হয়েছে। তবে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করে কিছু ক্ষেপণাস্ত্র তেল আবিব এবং জেরুজালেমের পশ্চিমে ‘বেইত শেমেস’ শহরে আঘাত হানতে সক্ষম হয়েছে।
১ মার্চ, ২০২৬
ওয়াশিংটন ডিসি-ভিত্তিক থিংক ট্যাংক ‘আটলান্টিক কাউন্সিল’-এর উপদেষ্টা এবং কৌশলগত পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ‘কিলোয়েন গ্রুপ’-এর চেয়ারম্যান হারলান উলম্যান মনে করেন, খামেনিকে হত্যা করে যুক্তরাষ্ট্র একটি ‘বিশাল ভুল’ করেছে। আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে উলম্যান বলেন, “তিনি (খামেনি) এখন একজন ‘শহীদ’ হিসেবে গণ্য হবেন। আর যদি আলী লারিজানি এখনো বেঁচে থাকেন, তবে জেনে রাখুন—তিনি অত্যন্ত দক্ষ একজন ব্যক্তি। তিনি সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের চেয়ারম্যান এবং একজন অত্যন্ত শক্তিশালী প্রতিপক্ষ।”
১ মার্চ, ২০২৬
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ‘ইরনা’ জানিয়েছে, তেহরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় খামেনির শীর্ষ রাজনৈতিক উপদেষ্টা এবং ইরানের প্রতিরক্ষা কাউন্সিলের সচিব আলী শামখানি নিহত হয়েছেন। প্রতিবেদনে আরও নিশ্চিত করা হয়েছে যে, এই হামলায় আইআরজিসি-র (ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী) প্রধান কমান্ডার বা কমান্ডার-ইন-চিফ মোহাম্মদ পাকপুরও নিহত হয়েছেন।
১ মার্চ, ২০২৬
আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পর ইরানের ভবিষ্যৎ কী হতে যাচ্ছে, তা এখন একটি বড় প্রশ্নের মুখে। নিঃসন্দেহে এটি দেশটির জন্য একটি নতুন অধ্যায়, একটি সম্পূর্ণ নতুন সূচনা। আমরা লক্ষ্য করছি যে, তাঁর চিন্তা ও আদর্শের পথ ধরেই দেশটি এগিয়ে যাবে কি না। অর্থাৎ, সামনে কি খামেনির চেয়েও আরও কঠোর ও বিপ্লবী কোনো ধারা আসবে, নাকি বাস্তববাদী কোনো পথে হাঁটবে ইরান?
১ মার্চ, ২০২৬
ফার্স নিউজ এজেন্সির বরাত দিয়ে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনির মৃত্যুতে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। এক বিবৃতিতে তারা বলেছে, “আমরা একজন মহান নেতাকে হারিয়েছি এবং তাঁর বিদেহী আত্মার প্রতি গভীর শোক প্রকাশ করছি।”
১ মার্চ, ২০২৬
ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় নিহত হয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৬ বছর। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক বিবৃতিতে জানান যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় খামেনির বাসভবন বা কম্পাউন্ডে আঘাত হানা হলে তিনি নিহত হন। এরপর রোববার ভোরের দিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে।
১ মার্চ, ২০২৬

