লোড হচ্ছে...
তেহরানের রাজপথে এখন মানুষের ঢল। সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুসংবাদ ছড়িয়ে পড়তেই হাজার হাজার মানুষ শোকে আচ্ছন্ন হয়ে রাস্তায় নেমে এসেছেন। কেউ কাঁদছেন, কেউ আকাশের দিকে হাত তুলে দোয়া করছেন। সরকার ইতোমধ্যে ৪০ দিনের জাতীয় শোক ঘোষণা করেছে। আগামী দিনগুলোতে রাষ্ট্রীয় শোক-সভা, জানাজা ও স্মরণসভার আয়োজন হবে। কিন্তু সেই শোকানুষ্ঠানগুলো হবে বোমার গর্জন আর বিস্ফোরণের আলোয়।
১ মার্চ, ২০২৬
তাসনিম ও ফার্স নিউজ এজেন্সি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। এ বিষয়ে আমরা শিগগিরই আরও বিস্তারিত তথ্য জানাব। খামেনির এই হত্যাকাণ্ড তেহরান, ইরান এবং পুরো মধ্যপ্রাচ্যের জন্য একটি সম্পূর্ণ নতুন অধ্যায়ের সূচনা করছে।
১ মার্চ, ২০২৬
বাহরাইন নিশ্চিত করেছে যে, দেশটিতে অবস্থিত মার্কিন নৌবাহিনীর ‘ফিফথ ফ্লিট’ বা পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তর লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। আল জাজিরা আরবির খবরে বলা হয়েছে, কুয়েতে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। বিস্ফোরণের পরপরই সেখানে সতর্কতামূলক সাইরেন বেজে উঠেছে। এদিকে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবিতেও একটি বিকট বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য শীঘ্রই জানানো হবে।
২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
ইরানের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা আল-জাজিরাকে বলেছেন: “ইসরায়েলকে আমরা সতর্ক করছি—যা আসছে তার জন্য প্রস্তুত হও। আমাদের জবাব হবে প্রকাশ্য, জনসমক্ষে। এবার আর কোনো লাল রেখা (red line) নেই।” তিনি আরও বলেন: “এই আগ্রাসনের পর মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সব সম্পদ, স্বার্থ ও ঘাঁটি—সবই এখন বৈধ লক্ষ্যবস্তু। কোনো সীমারেখা রইল না। এখন এমন সব পদক্ষেপও সম্ভব যা আগে কখনো ভাবা হয়নি।”
২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, ইরানের ওপর চালানো এই হামলার একমাত্র লক্ষ্য হলো ইসরায়েলের জন্য একটি “অস্তিত্বগত হুমকি” সম্পূর্ণভাবে নিশ্চিহ্ন করা। তিনি আরও বলেন, “ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের এই যৌথ অভিযান সাহসী ইরানি জনগণের জন্য পথ প্রশস্ত করবে—যাতে তারা নিজেদের ভাগ্য নিজেদের হাতে তুলে নিতে পারে।” নেতানিয়াহু মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তাঁর এই সিদ্ধান্তকে “ঐতিহাসিক নেতৃত্ব” হিসেবে প্রশংসা করেছেন।
২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
ইরানের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া না গেলেও, দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম নিশ্চিত করেছে যে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সম্পূর্ণ ‘সুস্থ ও নিরাপদ’ রয়েছেন। এখন পর্যন্ত ইরান সরকারের কাছ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি আসেনি, তবে দেশটির ‘ফার্স’ নিউজ এজেন্সি থেকে ক্রমাগত বিভিন্ন তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। তাদের প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, কেবল রাজধানী তেহরানেই নয়, বরং রাজধানীর অদূরে ‘কোম’ এবং দেশের মধ্যাঞ্চলীয় শহর ‘ইসফাহানে’ও হামলা চালানো হয়েছে।
২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ইরান থেকে নিক্ষিপ্ত ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ইসরায়েলের দিকে ধেয়ে আসছে বলে শনাক্ত করা হয়েছে। এর ফলে দেশটির বিভিন্ন এলাকায় সতর্কতামূলক সাইরেন বেজে উঠেছে। ইসরায়েলের সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, “জনসাধারণকে ‘হোম ফ্রন্ট কমান্ড’-এর নির্দেশনা মেনে চলার অনুরোধ করা হচ্ছে। হুমকি মোকাবিলায় ইসরায়েলি বিমানবাহিনী বর্তমানে সক্রিয় রয়েছে এবং প্রয়োজনে তারা হামলা প্রতিহত ও পাল্টা আঘাত হানছে।”
২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
লেবাননের বিভিন্ন এলাকায়, বিশেষ করে ‘ইকলিম আল-তুফাহ’ অঞ্চলে ইসরায়েল একনাগাড়ে বিমান হামলা চালিয়েছে। গত কয়েক দিনে হিজবুল্লাহর কৌশলগত অবকাঠামো মনে করে ইসরায়েল তাদের হামলার মাত্রা বাড়িয়েছে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর ধারণা, হিজবুল্লাহর কাছে রকেট লঞ্চার ও দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র মজুদ রয়েছে।
২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
ইরানে ইসরায়েলের হামলার চালানোর প্রেক্ষিতে মার্কিন প্রেসিডেন্টের ট্রাম্পের এতে যুক্ত হওয়াকে অদূরদর্শী মনে করছেন তার সমর্থকরাই। কারণ, যুক্তরাষ্ট্র এবারও জুন মাসের হামলার মতো একেবারে অক্ষত অবস্থায় পার পেয়ে যাবে—এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই। তাঁর নিজের ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ (MAGA) আন্দোলনের অনেক সমর্থকই বিশ্বাস করছেন—অর্ধেক পৃথিবী দূরের ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ ঠিক সেই “বোকার মতো বিদেশি যুদ্ধ” যা থেকে ট্রাম্প আমেরিকাকে মুক্ত রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।
২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
ইরানের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা রয়টার্স সংবাদ সংস্থাকে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জবাবে তেহরান এখন পূর্ণ শক্তি দিয়ে প্রতিশোধ নিতে প্রস্তুত। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, ইরানের পাল্টা আঘাত হবে অত্যন্ত শক্তিশালী ও ধ্বংসাত্মক—যাকে তিনি “চূর্ণবিচূর্ণ করে দেওয়ার মতো” আক্রমণ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
আরব সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি স্টাডিজের ইরানিয়ান স্টাডিজ ইউনিটের পরিচালক এবং কাতারের জর্জটাউন ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক মেহরান কামরাভা মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানে আক্রমণ করতে চাইছিল না, তবে ইসরায়েল "যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের আলোচনা বানচাল করতে নিজের ইচ্ছার কথা বেশ উচ্চস্বরেই বলে আসছিল"। আল জাজিরাকে কামরাভা বলেন, "গত জুনের মতোই এবারও মনে হচ্ছে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনা ভেস্তে দিতেই ইসরায়েল এই হামলার পরিকল্পনা করেছে।"
২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
সংঘাত এড়াতে অবশ্য বেশ কয়েক দফা আলোচনা হয়েছিল, যার সবশেষটি অনুষ্ঠিত হয় মাত্র দুই দিন আগে। সেই পরোক্ষ আলোচনার প্রধান মধ্যস্থতাকারী ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সংঘাত এড়ানোর শেষ চেষ্টা হিসেবে গত ১২ ঘণ্টার মধ্যে ওয়াশিংটনে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সঙ্গেও কথা বলেছিলেন। কিন্তু এখন আমরা নিশ্চিত হয়েছি যে, সংঘাতের সূচনা ইসরায়েল থেকেই হচ্ছে।
২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন, তারা ইরানের ওপর একটি ‘প্রতিরোধমূলক আক্রমণ’ বা আগাম হামলা চালিয়েছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তেহরানে প্রত্যক্ষদর্শীরা বিস্ফোরণের শব্দ শোনার পরপরই ইসরায়েলের পক্ষ থেকে এই হামলার খবর এলো। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনও বিস্ফোরণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে, তবে এ নিয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য দেয়নি।
২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানে হামলা চালানো হবে কি না, সে বিষয়ে তিনি এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে তিনি ‘মোটেও খুশি নন’ এবং সামরিক শক্তি প্রয়োগ—এমনকি ইরানে সরকার পরিবর্তনের বিষয়টিও—বিবেচনার টেবিলে রয়েছে।
২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
ইরান ও মার্কিন কর্মকর্তাদের মধ্যে আরেক দফা পরোক্ষ আলোচনা শেষ হয়েছে। মধ্যস্থতাকারী এই আলোচনাকে ‘তাৎপর্যপূর্ণ অগ্রগতি’ হিসেবে দাবি করলেও, কোনো পক্ষই যুদ্ধ এড়াতে তাদের অবস্থান থেকে কতটা ছাড় দিতে রাজি, সে বিষয়ে কোনো স্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। বৃহস্পতিবার জেনেভায় আলোচনা শেষে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি জানান, আগামী সপ্তাহে ভিয়েনায় আরও কারিগরি আলোচনা হবে এবং এবারের অগ্রগতি ‘ভালো’ হয়েছে।
২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা আরোপ এবং মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক শক্তি বৃদ্ধি অব্যাহত রাখলেও, কূটনৈতিক সমাধানের পথ খোলা রেখে সুইজারল্যান্ডে তৃতীয় দফার পরমাণু আলোচনায় বসতে যাচ্ছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। বুধবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় পৌঁছান এবং ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আলবুসাইদির সাথে সাক্ষাৎ করেন। ওমান এই পরোক্ষ আলোচনার মধ্যস্থতা করছে, যা বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, সংঘাত এড়াতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি চুক্তি "নাগালের মধ্যেই" রয়েছে। সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় দুই দেশের মধ্যে আলোচনার আগে তিনি এই মন্তব্য করেন। আরাগচি বলেন, "একটি অভূতপূর্ব চুক্তি সম্পাদনের ঐতিহাসিক সুযোগ" অনেকটাই নির্ভর করছে "কূটনীতিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয় কিনা" — তার এই কথায় সম্ভবত ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক শক্তি প্রয়োগের মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চলমান হুমকির প্রতি ইঙ্গিত ছিল।
২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
প্রাণঘাতী দেশব্যাপী বিক্ষোভের এক মাস পর বিশ্ববিদ্যালয়গুলো খোলার দ্বিতীয় দিনেও তেহরানসহ সারা দেশে হাজার হাজার শিক্ষার্থী বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছে। জানুয়ারির ৮ ও ৯ তারিখের রাতে রাষ্ট্র-আরোপিত যোগাযোগ ব্যবস্থা বা ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউটের সময় বিক্ষোভে হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়। একই সঙ্গে দেশটি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে আরেকটি যুদ্ধের হুমকির মুখে রয়েছে। রাজধানীর শীর্ষস্থানীয় উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান—যার মধ্যে তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়, শরিফ ইউনিভার্সিটি অফ টেকনোলজি, আমিরকবির বিশ্ববিদ্যালয় এবং শহীদ বেহেশতি বিশ্ববিদ্যালয় অন্যতম—সেখানে রবিবারের বিক্ষোভে বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে।
২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরমাণু আলোচনায় "উৎসাহজনক ইঙ্গিত" পাওয়া গেছে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, আগামী বৃহস্পতিবার নির্ধারিত পরবর্তী আলোচনার আগে তেহরান যেকোনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত রয়েছে। সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা যখন বাড়ছে, ঠিক তখনই রবিবার পেজেশকিয়ান এই মন্তব্য করলেন। একদিকে ওয়াশিংটন উপসাগরীয় অঞ্চলে সামরিক উপস্থিতি বাড়াচ্ছে, অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কোনো চুক্তি না হলে তাদের "খুবই খারাপ পরিণতির" মুখোমুখি হতে হবে।
২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে সীমিত হামলার কথা বিবেচনা করছেন বলে জানানোর পর, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান প্রতিজ্ঞা করেছেন যে তারা যুক্তরাষ্ট্রের চাপের মুখে ভেঙে পড়বেন না। শনিবার উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা বৃদ্ধির মধ্যেই পেজেশকিয়ানের এই মন্তব্য এল। সেখানে যুক্তরাষ্ট্র দুটি বিমানবাহী রণতরী এবং ডজনখানেক যুদ্ধবিমান মোতায়েনের মাধ্যমে তাদের সামরিক উপস্থিতি বাড়ানো অব্যাহত রেখেছে।
২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

