স্ট্যান ওয়ারিঙ্কা
স্ট্যান ওয়ারিঙ্কা। সংগৃহীত

মঙ্গলবার বাসেল ওপেনের প্রথম রাউন্ড থেকে বিদায়ের মধ্য দিয়ে টেনিসকে বিদায় জানিয়েছেন স্ট্যান ওয়ারিঙ্কা। এর মধ্য দিয়ে শেষ হলো সুইস তারকার বর্ণাঢ্য ২৪ বছরের পেশাদার ক্যারিয়ার।

Advertisement

মৌসুমের শুরুতেই ৪১ বছর বয়সী ওয়ারিঙ্কা ঘোষণা দিয়েছিলেন, নিজ দেশে আয়োজিত এটিপি ৫০০ পর্যায়ের এই টুর্নামেন্টই হবে পেশাদার খেলোয়াড় হিসেবে তার শেষ আসর। চেক প্রজাতন্ত্রের জিরি লেহেচকার কাছে ৭-৫, ৭-৬ (৭/২) গেমে হেরে তিনটি গ্র্যান্ড স্ল্যাামজয়ী এই তারকার ক্যারিয়ারের সমাপ্তি ঘটে।

সাবেক বিশ্ব তিন নম্বর ওয়ারিঙ্কা ও অ্যান্ডি মারে ছিলেন এমন দুই খেলোয়াড়, যারা রজার ফেদেরার, রাফায়েল নাদাল ও নোভাক জকোভিচের আধিপত্যের সময়ে একাধিক গ্র্যান্ড স্ল্যাম জিতেছিলেন।

২০২৪ সালে ওয়ারিঙ্কা বলেছিলেন, তাদের সাথে খেলতে পেরেছি, এমনকি কখনো কখনো তাদের হারাতেও পেরেছি- এ জন্য আমি নিজেকে ভাগ্যবান মনে করি।

২০১৪ সালে অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের ফাইনালে নাদালকে হারিয়ে প্রথম গ্র্যান্ড স্ল্যাম শিরোপা জেতেন ওয়ারিঙ্কা। পরের বছর ফ্রেঞ্চ ওপেনের ফাইনালে জকোভিচকে হারান তিনি। এরপর ২০১৬ সালে ইউএস ওপেনের শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচেও জকোভিচকে পরাজিত করেন এই সুইস তারকা।

নিজ দেশের আরেক কিংবদন্তি ফেদেরারের সাথে জুটি বেঁধে সুইজারল্যান্ডকে ডেভিস কাপ জেতান লুজানের এই খেলোয়াড়। ২০০৮ সালের বেইজিং অলিম্পিকে দ্বৈত ইভেন্টে স্বর্ণপদকও জেতেন তিনি।

বাসেলে কোর্টে ওয়ারিঙ্কার প্রতিটি পয়েন্ট জয়ের সাথে তার পরিচিত শক্তিশালী ব্যাকহ্যান্ড শটগুলোতেও স্বাগতিক দর্শকেরা উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েন।

তবে ১১তম গেমে ওয়ারিঙ্কার সার্ভিস ভেঙে এগিয়ে যান লেহেচকা। এরপর একটি এসের সাহায্যে প্রথম সেট জিতে নেন তিনি।

দ্বিতীয় সেটে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পর খেলা গড়ায় টাইব্রেকারে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আর পেরে ওঠেননি ওয়ারিঙ্কা। বিশ্বের ২১ নম্বর খেলোয়াড় লেহেচকা টাইব্রেকারে আধিপত্য দেখিয়ে ম্যাচের জয় নিশ্চিত করেন।

সোমবারই বাসেলে বিদায়ী সংবর্ধনা পেয়েছিলেন ওয়ারিঙ্কা। ম্যাচ শেষে দর্শকদের ধন্যবাদ জানাতে কোর্ট প্রদক্ষিণ করেন তিনি। এরপর শেষবারের মতো টানেলের ভেতর দিয়ে কোর্ট ছেড়ে চলে যান।

ম্যাচ শেষে স্কাই স্পোর্টসকে লেহেচকা বলেন, তিনি টেনিসের সবচেয়ে বড় টুর্নামেন্টগুলো জিতেছেন। তার জীবনের এমন একটি মুহূর্তে এখানে উপস্থিত থাকতে পারাটা আমার কাছে কিছুটা অদ্ভুত লাগছে। তবে একইসাথে এটি আমার জন্য আনন্দের বিষয়। এই ম্যাচের কথা আমি কখনো ভুলব না।

তবে চলতি বছর ওয়ারিঙ্কাকে আরো একবার কোর্টে দেখার সুযোগ পাবেন ভক্তরা।

গত জুনে তিনি ঘোষণা দিয়েছিলেন, আগামী ১৯ ডিসেম্বর জেনেভায় তার বিদায়ী অনুষ্ঠান আয়োজন করা হবে। ‘ওয়ান লাস্ট ব্যাকহ্যান্ড’ নামের সেই আয়োজনে ফেদেরার ও মারেও অংশ নেবেন।

টুর্নামেন্ট শুরুর আগে রোববার পুরোনো বন্ধু ও প্রতিদ্বন্দ্বী ওয়ারিঙ্কার সাথে অনুশীলন করেছিলেন জকোভিচ। বুধবার ফ্রান্সের উগো হামবার্টে বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে আসর শুরু করবেন তিনি।