খাও, বিক্ষোভে ফেটে পড়ো, আবার খাও , ইন্ডিয়া জোটের কর্মসূচি,  রেস্তোরাঁ,  রাজঘাট,
খাও, বিক্ষোভে ফেটে পড়ো, আবার খাও- ইন্ডিয়া জোটের বিক্ষোভের একটি দৃশ্য। সংগৃহীত

বিক্ষোভের তৃতীয় দিনেও কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছেন ভারতের বিরোধী ইন্ডিয়া জোটের সংসদ সদস্যরা। বুধবার সাগর রত্না রেস্তোরাঁয় দুপুরের খাবারের পর বিক্ষোভে নামার পর বৃহস্পতিবার কনট প্লেসের আরেক পরিচিত রেস্তোরাঁ মোয়েটসে দুপুরের ভোজের আয়োজন করা হয়। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে ইন্ডিয়া জোটের এমপিদের জন্য এই মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করেন। খাবারের পর এমপিরা বাসে করে রাজঘাটে গিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে প্রচণ্ড বিক্ষোভ চালিয়ে যান।

Advertisement

এনডিটিভি বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) জানায়, শুক্রবার বিরোধী এমপিদের সাথে প্রেসিডেন্ট দ্রৌপদী মুর্মুর সাক্ষাতের সময় নির্ধারিত হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানাতে ইন্ডিয়া জোট ১৫ এমপির সাক্ষাতের আবেদন করেছিল। তবে রাষ্ট্রপতি ভবন ১০ এমপির একটি প্রতিনিধিদলকে সাক্ষাতের অনুমতি দিয়েছে। এতে বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী, খাড়গে, সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব, আরজেডির তেজস্বী যাদব ও তৃণমূল কংগ্রেসের প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় থাকতে পারেন।

বিক্ষোভে প্রিয়াংকা ও রাহুল গান্ধী

 

বুধবারের মতো আবারো বিক্ষোভ হতে পারে, এমন আশঙ্কায় দিল্লির কেন্দ্রীয় এলাকায় এবং নির্বাচন কমিশনের কার্যালয়ের আশপাশে নিরাপত্তা আরো কড়া করা হয়। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের দিল্লির বাসভবন, নির্বাচন কমিশনের কার্যালয় এবং তার ব্যক্তিগত নিরাপত্তায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তার বাসভবনের আশপাশে ২৪ ঘণ্টা পুলিশ মোতায়েন থাকবে বলেও সূত্র জানিয়েছে। বর্তমান হুমকির মাত্রা বিবেচনায় নিয়েই নিরাপত্তা ব্যবস্থা কঠোর করা হয়।

বুধবার সাগর রত্নায় মধ্যাহ্নভোজের পর বিরোধী নেতারা বাসে উঠে জন্তর মন্তরের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করেন। পুলিশ তাদের আটকে দিলে রাস্তায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধীসহ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতাকে আটক করা হয়। প্রায় তিন ঘণ্টার বাসযাত্রা এবং পরে শাংগ্রি-লা হোটেলের সামনের মোড়ে আকস্মিক অবস্থান কর্মসূচিতে নাটকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। নিরাপত্তাকর্মীরা তাদের আটকে দিলে প্রিয়াঙ্কা গান্ধী সংবিধানের একটি কপি হাতে রাস্তায় চিৎ হয়ে শুয়ে পড়েন। অন্য নারী নেতারাও তার সাথে অবস্থান নেন। রাহুল গান্ধীকে আটক করতে পুলিশ ভ্যানে তোলার চেষ্টা করলে তিনি বারবার বাধা দেন। ইন্ডিয়া জোটের নেতারাও তাদের আটক ও এলাকা খালি করার চেষ্টায় থাকা নিরাপত্তাকর্মীদের সাথে ধস্তাধস্তি করেন।

বৃহস্পতিবার পুলিশ জানায়, বিক্ষোভের সময় পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা এবং সরকারি কাজে বাধা দেয়ার অভিযোগে রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর বিরুদ্ধে এফআইআর করা হয়েছে। বিক্ষোভে অংশ নেয়া কংগ্রেসের কয়েকজন নেতা ও কর্মীর বিরুদ্ধেও মামলা হয়েছে। এর আগে মঙ্গলবারের বিক্ষোভের সময় আকাশবাণী ভবনে ঢোকার অভিযোগেও বুধবার রাহুল ও প্রিয়াঙ্কার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। নিজের বিরুদ্ধে এফআইআর নিয়ে রসিকতা করে রাহুল বলেন, তার লক্ষ্য ১০০টি এফআইআর। তিনি বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে ৪৫টি এফআইআর আছে, আমার লক্ষ্য ১০০।’

প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে বিরোধীদের এই আক্রমণের সূত্রপাত ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের একটি প্রতিবেদনের পর। এতে বলা হয়, বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে গত ১০ মাসে অন্তত ১৪ বার নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক যোশী আপত্তি জানিয়েছিলেন। তাদের দাবি ছিল, তাদের না জানিয়ে বা সুপারিশ ছাড়াই এসব সিদ্ধান্ত ও নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তবে দুই কমিশনারের আপত্তি নিয়ে সমালোচনার মুখে নির্বাচন কমিশনের দাবি, যেকোনো প্রতিষ্ঠানের সিদ্ধান্ত গ্রহণের সময় ভিন্নমত ও পর্যবেক্ষণ থাকা স্বাভাবিক। কমিশনের সব আদেশের পূর্ণ আইনি বৈধতা রয়েছে এবং প্রচলিত আইনি প্রক্রিয়া মেনেই সেগুলো দেয়া হয়েছে।