
চীনের গবেষকেরা এমন একটি ভবিষ্যৎ ট্যাংকের ধারণা তুলে ধরেছেন, যাতে থাকবে ১০ মেগাওয়াট ক্ষমতার পারমাণবিক চুল্লি এবং ৫০ মেগাজুল বা ৫ কোটি জুল শক্তির তড়িৎচৌম্বকীয় রেলগান।
প্রচলিত কামানের বদলে বিদ্যুৎ ও চৌম্বকীয় শক্তি ব্যবহার করে গোলা ছোড়ে রেলগান। এর শক্তি যত বেশি, গোলাকে তত বেশি গতিতে ছোড়ার সম্ভাবনা থাকে। মেগাজুল বা এমজে হলো শক্তি পরিমাপের একটি একক। ১ মেগাজুল সমান ১০ লাখ জুল। সহজভাবে বললে, কোনো অস্ত্রের গোলা ছোড়ার সময় কতটা শক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে, মেগাজুল দিয়ে তার পরিমাণ বোঝানো হয়। বেলগান বা তড়িৎচৌম্বকীয় কামান হলো এমন এক অস্ত্র, যা প্রচলিত বিস্ফোরকের বদলে বিদ্যুৎ ও চৌম্বকীয় শক্তি ব্যবহার করে গোলা ছোড়ে। শক্তিশালী চৌম্বকীয় ক্ষেত্রের সাহায্যে গোলাকে প্রচণ্ড গতিতে সামনে ঠেলে দেয়া হয়। ফলে প্রচলিত কামানের তুলনায় আরো বেশি গতিতে গোলা ছোড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়।
ওয়েবসাইট ইন্টারেস্টিং ইঞ্জিনিয়ারিং জানিয়েছে, প্রস্তাবিত ট্যাংকটির ওজন হবে প্রায় ৬০ টন। এর বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য ব্যবহার করা হবে ১০ মেগাওয়াট শ্রেণির একটি ছোট মডিউলার পারমাণবিক চুল্লি। গবেষকদের হিসাব অনুযায়ী, রেলগানটি গোলাকে প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৩ দশমিক ৫ কিলোমিটার গতিতে ছুড়তে পারবে। তাত্ত্বিকভাবে এর পাল্লা হতে পারে প্রায় ২৮০ মাইল। আধুনিক ট্যাংকের বর্ম বা আর্মার-ভেদী গোলা সাধারণত প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ১ দশমিক ৪ থেকে ১ দশমিক ৮ কিলোমিটার গতিতে ছোড়া হয়। এ সব কামানের কার্যকর পাল্লা থাকে কয়েক কিলোমিটারের মধ্যে। বিপরীতে, প্রস্তাবিত রেলগানটি গোলাকে প্রতি সেকেন্ডে ৩ দশমিক ৫ কিলোমিটার গতিতে ছুড়তে পারবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর তাত্ত্বিক পাল্লা হতে পারে প্রায় ২৮০ মাইল বা ৪৫০ কিলোমিটার।
পরমাণুশক্তির দিকে তিন ধাপ
এই ট্যাংক তৈরির পরিকল্পনা শুরু হবে প্রচলিত জ্বালানিচালিত ইঞ্জিন দিয়ে। প্রাথমিক পর্যায়ের ট্যাংকে ব্যবহার করা হবে ১ হাজার ৫০০ অশ্বশক্তির ডিজেল জেনারেটর। এতে থাকবে ১০ মেগাজুল শক্তির তড়িৎচৌম্বকীয় কামান, যার পাল্লা হতে পারে প্রায় ৯৩ মাইল। উচ্চ শক্তির প্রয়োজন হয় এমন ব্যবস্থাগুলোতে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ করবে সুপারক্যাপাসিটর ও ফ্লাইহুইল।
প্রথম নকশায় ২ মেগাজুল শক্তির তড়িৎচৌম্বকীয় বর্মও রাখা হবে। এটি প্রচলিত মোটা ধাতব বর্মের মতো শুধু আঘাত সহ্য করবে না; বৈদ্যুতিক ও তড়িৎচৌম্বকীয় শক্তি ব্যবহার করে শত্রুর গোলা বা অন্যান্য আঘাত ঠেকানোর জন্য কাজ করবে। দ্বিতীয় প্রজন্মের ট্যাংকে কামানের শক্তি বাড়িয়ে ২০ মেগাজুল করা হবে। তখন এর সম্ভাব্য পাল্লা বেড়ে দাঁড়াবে প্রায় ১৮৬ মাইল। এই সংস্করণে থাকবে ১০ মেগাজুল শক্তির তড়িৎচৌম্বকীয় বর্ম এবং প্রায় পাঁচ টন উন্নত শক্তি সঞ্চয়ব্যবস্থা।
গবেষকেরা কঠিন অবস্থার ব্যাটারি ও অতিপরিবাহী শক্তি সঞ্চয়প্রযুক্তি ব্যবহারের কথাও ভাবছেন। ট্যাংকের ভেতরে থাকা একটি বিদ্যুৎ সরবরাহ নেটওয়ার্ক বা মাইক্রোগ্রিড এর বিভিন্ন বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা সমন্বয় করবে।
পরিকল্পনার শেষ ধাপে, ২০৪৫ সালের পর, পারমাণবিক শক্তিচালিত ব্যবস্থা যুক্ত করা হবে। তখন ডিজেল জেনারেটরের বদলে ব্যবহার করা হবে একটি ছোট আকারের পারমাণবিক চুল্লি।
ক্ষুদ্র চুল্লি বসানোর চ্যালেঞ্জ
প্রস্তাবিত চুল্লিতে শীতলীকরণ ব্যবস্থা হিসেবে সিসা-বিসমাথ ব্যবহার করা হবে। এটি ১০ মেগাওয়াট তাপশক্তি উৎপাদন করবে। গবেষকদের লক্ষ্য, পুরো চুল্লি ব্যবস্থাকে মাত্র দুই ঘনমিটার জায়গার মধ্যে স্থাপন করা।







