নিকলীসহ হাওরাঞ্চলে টপ সয়েল কাটার হিড়িক

নিকলী (কিশোরগঞ্জ) সংবাদদাতা 

Advertisement

কিশোরগঞ্জের হাওর উপজেলা নিকলীসহ আশপাশের হাওরাঞ্চলে শুরু হয়েছে অবৈধভাবে টপ সয়েল (জমির উপরিভাগের উর্বর মাটি) কাটার হিড়িক পড়েছে । গত রোব ও সোমবার  দুই দিন প্রশাসনের চাপে মাটিকাটা বন্ধ ছিল কিন্তু আবার গতকাল মঙ্গলবার থেকে পুরোদমে টপ সয়েল কাটা শুরু হয়েছে। অপরিকল্পিতভাবে হাওরের জমি থেকে মাটি তুলে নেয়ায় কৃষিজমির ভবিষ্যৎ উর্বরতা ও উৎপাদনশীলতা মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। অন্য দিকে অতিরিক্ত বোঝাই মাটিবাহী ট্রাক চলাচলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত গুরুত্বপূর্ণ সাবমারসিবল বা ডুবো সড়ক। ইতোমধ্যে নিকলীসহ কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চলের বর্ষার পানি সরে গেছে। এখন পুরোদমে শুরু হয়েছে রবিশস্য ফসলের আবাদ। আরো দুই মাস পর শুরু হবে বোরো মৌসুম। প্রতিদিন সকাল থেকে রাত অবধি ভেকু দিয়ে  চলছে মাটিকাটা। মনে হয় দেখেও যেন না দেখার ভান করছে স্থানীয় প্রশাসন। 
সরেজমিন দেখা যায়, এ অবৈধ টপসওয়েল মাটিকাটা কর্মকাণ্ডের নেপথ্যে রয়েছে স্থানীয় কয়েকটি ইটভাটা মালিকপক্ষের একটি প্রভাবশালী চক্র। জানা যায়, নিকলী  উপজেলার সদর  ইউনিয়নের কুর্শা গ্রাম থেকে হিলচিয়া বাজার পর্যন্ত ভায়া চেতরা  গুরুই ডুবো সড়কের পূর্ব পাশে  ১০-১২টির বেশি এক্সকেভেটর (ভ্যাকু) ও মাটিবাহী ট্রাক ব্যবহার করে দিন-রাত প্রকাশ্যে মাটি কেটে বিভিন্ন ইটভাটায় ইট তৈরির জন্য মাটি সরবরাহ করা হচ্ছে; বরং স্থানীয় প্রশাসনের দ্বিতীয় এবং তৃতীয় লেবেলের বেশ কয়েকজন কর্মচারী, রাজনৈতিক নেতা এই অপকর্মের সাথে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। অন্য দিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইট ভাটার মালিকপক্ষের একজন জানান, আমরা বিনামূল্যে কিংবা জোর জবরদস্তি করে কোনো কৃষকের জমি থেকে মাটি কেটে আনি না; বরং আমরা কৃষককে উপযুক্ত মূল্য দিয়ে ইটভাটার জন্য মাটি সংগ্রহ করছি। বর্তমানে মাটির ট্রাক এবং অন্য যানবাহন চলাচলের কারণে ডুবো সড়ক গুলো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। ফলে ডুবো সড়ক ব্যবহারকারী স্থানীয় বাসিন্দাদেরকে দুর্ভোগে পোহাতে হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন এবং যথাযথ কর্তৃপক্ষ এই বিষয়ে তদন্ত করলেই অবৈধ মাটি কাটার ব্যাপকতা ও ক্ষয়ক্ষতির চিত্র স্পষ্ট হবে বলে মনে করছেন স্থানীয় ভুক্তভোগী ও সচেতন মহল। নিকলী ইউএনও শামীম আরা গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমি বিষয়টি খুব সিরিয়াসলি দেখছি এবং  শিগগিরই এ ব্যাপারে পদক্ষেপ গ্রহণ করছি।’