
নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে ছিনতাইকারীর হ্যাঁচকা টানে রিকশা থেকে পড়ে নিহত প্রধান শিক্ষিকা রনজিলা পারভিন (৫৬) হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের তেজগাঁও বিভাগ। এ ঘটনায় সরাসরি জড়িত দুই পেশাদার ছিনতাইকারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে লুণ্ঠিত মালামালসহ ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল বুধবার ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (গোয়েন্দা) মো: শফিকুল ইসলাম। তিনি জানান, গ্রেফতারকৃত রাজিব মাতুব্বরের বিরুদ্ধে অস্ত্র, দ্রুত বিচার আইন, দস্যুতা, চুরি ও মারামারির মামলাসহ মোট আটটি মামলা রয়েছে এবং খোকনের বিরুদ্ধে তিনটি মাদকের মামলা রয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদেই তারা ছিনতাই ও হত্যাকাণ্ডে সরাসরি সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে।
এদিকে, চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রাথমিক তদন্ত ও মিডিয়ায় তথ্য প্রচার নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এর আগে র্যাব ১২টি মামলার আসামি অন্য দু’জনকে ধরে এই ঘটনার সাথে জড়িত বলে দাবি করেছিল। তবে পরবর্তীতে ডিবি পুলিশ তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে নিশ্চিত হয় যে তারা এই ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত নয়।
যাচাই-বাছাই ছাড়া অন্যান্য আসামিদের অপরাধী হিসেবে প্রচার করা এবং তদন্তের গুণগত পরিবর্তন নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মো: শফিকুল ইসলাম জানান, প্রাথমিকভাবে সন্দেহভাজনদের জিজ্ঞাসাবাদ করা তদন্তেরই একটি অংশ। ডিবি পুলিশ সঠিক তথ্য-উপাত্ত, সিসিটিভি ফুটেজ ও ভিকটিমের জিনিসপত্র উদ্ধারের মাধ্যমেই প্রকৃত অপরাধীদের চিহ্নিত করতে সক্ষম হয়েছে এবং তদন্ত শেষে মামলায় যাদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যাবে না, তাদের নাম বাদ দেয়া হবে।
মামলা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২৯ আগস্ট সকালে প্রধান শিক্ষিকা রনজিলা পারভিন তার স্বামী মো: আব্দুল মতিনের (৫৩) সাথে রিকশায় চড়ে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা সংলগ্ন সড়ক দিয়ে যাচ্ছিলেন। মানিক মিয়া অ্যাভিনিউর ১২ নম্বর গেট পার হয়ে খেজুরবাগান অভিমুখে পৌঁছালে মোটরসাইকেল আরোহী দুই ছিনতাইকারী তাদের পিছু নেয়। খেজুর বাগানের সামনে পৌঁছামাত্র বাইকের পেছনে থাকা ছিনতাইকারী খোকন সজোরে রনজিলা পারভিনের হাতের ব্যাগ ধরে হ্যাঁচকা টান দেয়। এতে তিনি ভারসাম্য হারিয়ে চলন্ত রিকশা থেকে পাকা রাস্তায় পড়ে গিয়ে মাথায় মারাত্মক আঘাত পান। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় নিহতের স্বামী বাদি হয়ে শেরেবাংলা নগর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
হত্যাকাণ্ডের পর ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যবেক্ষণ, তথ্যপ্রযুক্তি ও প্রমাণের বিশ্লেষণের মাধ্যমে ডিবি পুলিশের তেজগাঁও বিভাগ জড়িতদের শনাক্ত করে। পরে ঢাকা, সাভার ও মিরপুরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ছিনতাইয়ে সরাসরি জড়িত আসামি মো: খোকন (৩৫) ও মো: রাজিব মাতুব্বরকে (৩৬) গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের সময় রাজিবের হেফাজত থেকে ৬২২ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
আসামিদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে মিরপুরের বড়বাগ এলাকা থেকে নিহতের ছিনতাই হওয়া ব্যাগ, মিরপুর-১-এর কো-অপারেটিভ মার্কেট থেকে মোবাইল ফোন এবং ভাসানটেকের দেওয়ান পাড়া এলাকা থেকে ঘটনায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি জব্দ করা হয়। পাশাপাশি ভিকটিমের পরিহিত কাপড়, প্রয়োজনীয় ওষুধ ও বাস টিকিটও উদ্ধার করা হয়।







