
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালি আসিফ ইনানসহ সাত আসামির মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) এলাকায় তিনটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।
মঙ্গলবার রাত পৌনে ১১টার পর জগন্নাথ হলের মূল ফটকের বাইরের সড়ক ও টিএসসি মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে এসব বিস্ফোরণ ঘটে। এ ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও বিবৃতি দিয়ে প্রক্টরের দায়বদ্ধতা ও ক্যাম্পাসের সার্বিক নিরাপত্তা নিয়ে ক্ষোভ জানিয়েছে বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাত ১০টা ৪৫ মিনিটের দিকে দু’জন ব্যক্তি মোটরসাইকেলে এসে জগন্নাথ হলের পূর্ব গেটের বাইরের সড়কে পরপর দু’টি ককটেল নিক্ষেপ করে পালিয়ে যান। জগন্নাথ হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক দেবাশীষ পাল বিস্ফোরণের কথা নিশ্চিত করে জানান, ঘটনার পরপরই হলে বহিরাগত প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপসহ নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। এর কিছুক্ষণ পর টিএসসি মেট্রোরেল স্টেশনের নিচের সড়কে আরো একটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে।
ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিম ও পুলিশ স্থান দু’টি পরিদর্শন করে। শাহবাগ থানার ওসি মো: মনিরুজ্জামান জানান, জড়িতদের শনাক্ত করতে সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের কাজ চলছে। ঢাবি প্রক্টর ইসরাফিল রতন প্রাং বলেন, তদন্ত শেষ হওয়ার আগে সুনির্দিষ্ট কাউকে দায়ী করা যাবে না; রাজনৈতিক পরিবেশ অস্থিতিশীল করতে কোনো পক্ষ এটি ঘটিয়ে থাকতে পারে।
ছাত্র সংগঠনগুলোর প্রতিবাদ
ঘটনার পরপরই ঢাবি ছাত্রদলের সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস ও সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপনের নেতৃত্বে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। তারা ক্যাম্পাসে সন্ত্রাস ও পেশিশক্তির রাজনীতি বন্ধের দাবি জানান। জাতীয় ছাত্রশক্তিও টিএসসি থেকে মিছিল বের করে প্রক্টরের কাছে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ, ছাত্রলীগের ছদ্মবেশী কর্মীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা ও ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা জোরদারের ৩ দফা দাবি জানায়।
এ দিকে ঢাবি ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি মুহা. মহিউদ্দিন খান ও সেক্রেটারি কাজী আশিক যৌথ বিবৃতিতে বিস্ফোরণের ঘটনাকে ‘বিএনপিপন্থী প্রশাসনে’র ব্যর্থতা ও অদক্ষতার নগ্ন বহিঃপ্রকাশ বলে উল্লেখ করেন। তারা অভিযোগ করেন, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের গোপন নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে প্রশাসন প্রক্টরীয় নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে এবং ডাকসুকে প্রতিপক্ষ বানাতে ব্যস্ত রয়েছে। এ ছাড়া সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের আহ্বায়ক মোজাম্মেল হক ও সাধারণ সম্পাদক আকাশ আলী এক যৌথ বিবৃতিতে ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দ্রুত সিসিটিভি ফুটেজ দেখে দায়ীদের গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন।







