কয়রায় আ’লীগ নেতাকর্মীদের নিয়ন্ত্রণেই খাদ্যবান্ধব ও ওএমএস কর্মসূচি

 কয়রা (খুলনা) সংবাদদাতা
খুলনার কয়রা উপজেলায় দেড় বছর ধরে ঝুলে আছে খাদ্যবান্ধব ও খোলা বাজারে খাদ্যশস্য বিক্রয় (ওএমএস) কর্মসূচির নতুন ডিলার নিয়োগ প্রক্রিয়া। নির্ধারিত সময়ে নিয়োগ সম্পন্ন না হওয়ায় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের মাধ্যমেই চলছে সরকারি খাদ্যশস্য বিতরণ কার্যক্রম। এতে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, সংশ্লিষ্টদের অনৈতিক সুবিধা দিয়ে আগের ডিলারদের লাইসেন্স নবায়ন করে বহাল রাখা হয়েছে। কয়েকটি বিক্রয়কেন্দ্রে সুবিধাভোগীদের নির্ধারিত পরিমাণের চেয়ে কম চাল দেয়া এবং কার্ড বা পাসবই নবায়নের নামে অর্থ নেয়ার অভিযোগও উঠেছে। এসব অভিযোগের প্রতিকার চেয়ে উত্তর বেদকাশী ইউনিয়নের ৫০ জন কার্ডধারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত আবেদন করেছেন বলে জানা গেছে।
উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ডিলার নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়। উপজেলার সাত ইউনিয়নের ২১টি বিক্রয়কেন্দ্রের বিপরীতে ১২৫টি আবেদন জমা পড়ে। যাচাই-বাছাইয়ে দুটি আবেদন বাতিল হয়। এ ছাড়া উপজেলা সদরের তিনটি ওএমএস কেন্দ্রের জন্য ২০টি আবেদন জমা পড়ে।
ডিলার নির্বাচনে গত বছরের ১৩ জুলাই ও ৭ সেপ্টেম্বর দুই দফায় লটারির তারিখ নির্ধারণ করা হলেও তা অনুষ্ঠিত হয়নি। ফলে নতুন ডিলার নিয়োগ প্রক্রিয়া আটকে আছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের ৭ অক্টোবর ‘খোলা বাজারে খাদ্যশস্য বিক্রয় (ওএমএস) নীতিমালা, ২০২৪’ জারি করা হয়। এতে আগের ডিলারদের অব্যাহতি দিয়ে ৩০ নভেম্বরের মধ্যে নতুন ডিলার নিয়োগ এবং ১ ডিসেম্বর থেকে তাদের মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশনা দেয়া হয়েছিল। তবে কয়রায় তা বাস্তবায়ন হয়নি।
কয়রা উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর যুব বিভাগের সেক্রেটারি মুনায়েম বিল্লাহ ও খুলনা জেলা বিএনপির সদস্য এম এ হাসান অভিযোগ করেন, আগের ডিলারদের অনেকেই আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন। তাদের পরিবর্তে দ্রুত নতুন ডিলার নিয়োগের দাবি জানান তারা। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ডিলারদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক দেবপ্রসাদ দাস বলেন, ডিলার নির্বাচনে দুইবার লটারির উদ্যোগ নেয়া হলেও তা সফল হয়নি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা যে সিদ্ধান্ত দেবেন, সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ওএমএস কমিটির সভাপতি আব্দুল্লাহ আল বাকী বলেন, টিসিবি ও সারের ডিলার নিয়োগের মতো নতুন করে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে ডিলার নিয়োগের ব্যবস্থা করা হবে।