
ইরানের জাতীয় সংসদের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, শত্রুরা বোকার ‘স্বর্গে’ বাস করছে। ইরান কখনো আত্মসমর্পণ করবে না।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সংসদের অধিবেশনের শুরুতে দেয়া বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।
গালিবাফ বলেন, ইরানের জনগণের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের শত্রুতার মূল কারণ হলো ইরানিদের প্রতিরোধ, দৃঢ় অবস্থান ও স্বাধীনতাকামী মনোভাব।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, শত্রুর হুমকি ও সামরিক পদক্ষেপের মুখেও ইরানের জনগণ কখনো আত্মসমর্পণ করবে না।
ইরানি স্পিকার বলেন, যুক্তরাষ্ট্র শুরু থেকেই ইরানকে গ্রাস করার চেষ্টা করে আসছে এবং সুযোগ পেলে ভবিষ্যতেও সেই চেষ্টা অব্যাহত রাখবে। একসময় তারা অনুগত ও নির্ভরশীল শাসকদের মাধ্যমে ইরানকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করতে চেয়েছিল। কিন্তু এখন ঐক্যবদ্ধ ও স্বাধীনচেতা ইরানি জনগণের প্রতিরোধের মুখে পড়ে তারা সামরিক, অর্থনৈতিক ও মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধের আশ্রয় নিচ্ছে।
তিনি আরো বলেন, ইরানের জনগণের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের গভীর শত্রুতার মূল কারণ হলো, ইরানিরা তাদের আধিপত্যবাদী লক্ষ্য বাস্তবায়নের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইরানের স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা বিশ্বের অন্যান্য স্বাধীনতাকামী জাতির কাছেও অনুপ্রেরণার প্রতীকে পরিণত হয়েছে।
গালিবাফ বলেন, ইরানি জনগণের এই দৃঢ় অবস্থান ও প্রতিরোধ দখলদার ইসরাইলি শাসকগোষ্ঠী এবং যুক্তরাষ্ট্রকে দিশেহারা করে তুলেছে। তারা বুঝতে পারছে না, কিভাবে এই প্রতিরোধী জনগণকে মোকাবেলা করবে। ধারাবাহিক ব্যর্থতার মুখে তারা মাঝেমধ্যেই সামরিক হুমকি ও হামলার মাধ্যমে ইরানকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করার চেষ্টা করছে। কিন্তু তারা বোকার ‘স্বর্গে’ বাস করছে! ইরান আত্মসমর্পণ করবে না। তাদের এই স্বপ্ন কেবল অতীতের সেই অনুগত ও পরাধীন শাসনামলেই সম্ভব ছিল।
তিনি আরো বলেন, সাম্প্রতিক দু’টি চাপিয়ে দেয়া যুদ্ধের মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের আঞ্চলিক সহযোগীরা বুঝতে পেরেছে যে, আধিপত্য বিস্তারের দিন শেষ হয়ে এসেছে। সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক সম্ভাব্য শত্রু হামলা মোকাবেলায় আমাদের সামরিক কৌশল নির্ধারণ করে দিয়েছেন। সেই অনুযায়ী, শত্রুপক্ষের যেকোনো ভুল হিসাব-নিকাশের জবাবে আমাদের সামরিক ও কৌশলগত প্রতিক্রিয়া হবে কল্পনাতীত। কোনো ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতা বিবেচনা না করেই আমরা তাদের ভুল হিসাব-নিকাশ এবং সব ধরনের বস্তুগত ও অবস্তুগত সম্পদের হিসাব-নিকাশ ওলটপালট করে দেবো।
গালিবাফ বলেন, আঞ্চলিক দেশগুলোর জানা উচিত, ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান যেমন ট্রিগারে আঙুল রেখে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত, তেমনি যুক্তরাষ্ট্রকেও শক্তিশালী ও যুক্তিসংগত বার্তা দিয়েছে। এখন বল যুক্তরাষ্ট্রের কোর্টে—যুদ্ধ এড়ানোর দায়িত্ব তাদের।
সূত্র : পার্সটুডে
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








