জামায়াত, চীন
চীনা দূতাবাসের অনুষ্ঠানে অংশ নেয় জামায়াতের প্রতিনিধিদল। নয়া দিগন্ত

ঢাকাস্থ চীনা দূতাবাসের আয়োজনে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর একটি প্রতিনিধিদল।

Advertisement

বুধবার (৪ নভেম্বর) দুপুর আড়াইটায় রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টালের ক্রিস্টাল হলে অনুষ্ঠানটির আয়োজন করা হয়।  
 
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ারে নেতৃত্বে অনুষ্ঠানে জামায়াতের প্রতিনিধিদলে ছিলেন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের; কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন এমপি, মোবারক হোসাইন, নুরুল ইসলাম বুলবুল এমপি এবং মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন; ডা: মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ এমপি, মীর আহমাদ বিন কাসেম এমপি, নাজিবুর রহমান মোমেন এমপি, নুরুন্নিসা সিদ্দিকা এমপি, অ্যাডভোকেট সাবিকুন্নাহার এমপি এবং জামায়াত আমিরের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা কমিটির সদস্য আলী আহমদ মাবরুর।

আরো পড়ুন—জয়ী ডেমোক্র্যাটরা কি ইরান যুদ্ধ থামাতে পারবে?

চীনের কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইসিং,  ঢাকাস্থ চীনা দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স ড. লিউ ইউয়িন ও দূতাবাসের কর্মকর্তাবৃন্দ, বাংলাদেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার ‘দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়নে দলের সাথে দলের মতবিনিময়ের ভূমিকা’ প্রতিপাদ্যের ওপর বক্তব্য রাখেন। 

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরো জোরদার করতে দুই দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ, পারস্পরিক সহযোগিতা ও অভিজ্ঞতা বিনিময় বাড়ানো প্রয়োজন।

তিনি বলেন, ১৯৭৫ সাল থেকে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বিদ্যমান। গত বছর দুই দেশ এ সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তি উদযাপন করেছে। আমাদের দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও চীনের মধ্যেও দীর্ঘদিনের যোগাযোগ ও সম্পর্ক রয়েছে। ২০০৬ সালে তৎকালীন শিল্পমন্ত্রী ও জামায়াতের আমির মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী রহ: চীন সফর করেন। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে দলের নায়েবে আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় উপনেতা ডা: সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের এমপির নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল চীন সফর করে। পরে ২০২৫ সালের জুলাই মাসে চীনের আমন্ত্রণে জামায়াতের আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা: শফিকুর রহমান এমপির নেতৃত্বে আরেকটি প্রতিনিধিদল চীন সফর করে।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, এসব সফর থেকে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়েছে, সরকার পরিবর্তন হলেও রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যকার সম্পর্ক ও যোগাযোগ অব্যাহত থাকে। তাই দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক সুদৃঢ় করতে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

চীনের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা গ্রহণের আগ্রহ প্রকাশ করে তিনি বলেন, চীনের উন্নয়ন অভিজ্ঞতা বাংলাদেশ গভীর আগ্রহের সাথে অনুসরণ করে। বিশেষ করে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) ২০তম কেন্দ্রীয় কমিটির পঞ্চম পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনের কার্যক্রম আমরা গুরুত্বের সাথে পর্যবেক্ষণ করেছি। সেখানে শৃঙ্খলা, সততা ও জনগণের সাথে নিবিড় সম্পর্ক বজায় রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। দারিদ্র্য বিমোচন, তৃণমূল পর্যায়ে সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং পরিবেশ সংরক্ষণে চীনের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের জন্য বিশেষভাবে শিক্ষণীয়। পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও নিজ নিজ আদর্শিক মূল্যবোধ অক্ষুণ্ন রেখে আমরা একে অপরের কাছ থেকে শিক্ষা নিতে চাই।

ভবিষ্যৎ সহযোগিতা জোরদারে তিনটি প্রস্তাব তুলে ধরে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, প্রথমত, বাংলাদেশ-চীন সেন্টার ফর পার্টি অ্যান্ড স্টেট গভর্ন্যান্স স্টাডিজের কার্যক্রমকে আরো কার্যকর করতে হবে। এ কেন্দ্রটি বাংলাদেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সাথে শাসনব্যবস্থা ও উন্নয়ন অভিজ্ঞতা বিনিময়ের নিয়মিত প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গড়ে তোলা যেতে পারে। দ্বিতীয়ত, দুই দেশের তরুণ রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের মধ্যে যোগাযোগ, সফর, যৌথ অধ্যয়ন ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচি বাড়াতে হবে। কারণ, আজকের তরুণ নেতৃত্বই আগামী দিনে দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক এগিয়ে নেবে। তৃতীয়ত, পারস্পরিক সহযোগিতা ও অভিজ্ঞতা বিনিময়কে সভাকক্ষের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে সমাজের সর্বস্তরে ছড়িয়ে দিতে হবে। কৃষক, শ্রমিক, শিক্ষার্থী ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাসহ সাধারণ মানুষের কাছে এ বন্ধুত্বের সুফল পৌঁছে দিতে হবে।

রোহিঙ্গাদের দুরাবস্থা ও সঙ্কটের বিষয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া প্রায় ২০ লাখ রোহিঙ্গার কারণে শুধু বাংলাদেশ নয়, পুরো অঞ্চলই নানা সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে। আমরা মনে করি, রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও স্বেচ্ছায় নিজ মাতৃভূমিতে প্রত্যাবাসন আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য অপরিহার্য।

তিনি আরো বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বন্ধুত্ব এক দিনে গড়ে ওঠে না। নিয়মিত যোগাযোগ, আন্তরিক সম্পৃক্ততা ও পারস্পরিক আস্থার মধ্য দিয়েই তা বিকশিত হয়। এ সম্পর্ক জোরদারে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নিজস্ব অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে প্রস্তুত রয়েছে।

বক্তব্যের শুরুতে মিয়া গোলাম পরওয়ার বাংলাদেশে সফররত চীনের কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইসিং এবং তার নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদলকে স্বাগত জানান। একইসাথে এ আয়োজনের জন্য চীনা দূতাবাসকে ধন্যবাদ জানান। তিনি অনুষ্ঠানের সার্বিক সফলতা কামনা করেন।