
আলজাজিরা ও আনাদোলু
সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন জোটের কড়া প্রতিক্রিয়া জানানোর যৌথ ঘোষণার পরপরই ইয়েমেনের বিভিন্ন এলাকায় বিমান হামলা চালিয়ে। এতে দুই শিশুসহ বেশ কয়েকজন আহত হন। ইয়েমেনের হাউছি বিদ্রোহীদের দাবি অনুযায়ী, রাজতন্ত্রটির তিনটি শহরে তাদের পেণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় ১৩ জন আহত হওয়ার পর সৌদি বাহিনী এই পাল্টা তোপ দাগে।
সৌদি জোটের প থেকে গত পরশু ভোরে জানানো হয়, খামিস মুশাইত, আবহা ও তায়েফে হাউছি আক্রমণে সাতটি আবাসন ও দু’টি যান তিগ্রস্ত হয়েছে। জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি একে জাতীয় সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত হিসেবে উল্লেখ করে দায়িত্বশীল জবাব দেয়ার হুঁশিয়ারি দেন। পরবর্তীতে আনসারুল্লাহ নামে পরিচিত হাউছিরা দাবি করে, গত ২৪ ঘণ্টায় তাদের ৫৪টি পয়েন্টে হামলা চালিয়েছে সৌদি যুদ্ধবিমান। তাইজ প্রদেশের প্রশাসনিক ভবন ল্য করে চালিত এসব অভিযানে য়তি ও হতাহতের ঘটনা ঘটে। হাউছি সেনা মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারে এফ-১৫ এবং টাইফুন যুদ্ধবিমানের ব্যবহারের কথা জানিয়ে বদলা নেয়ার ঘোষণা দেন। তবে এ বিষয়ে রিয়াদ আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেনি। ইতঃপূর্বে ইয়েমেনজুড়ে ৩০০টির বেশি সৌদি আগ্রাসনের জবাবে বাদশাহ খালিদ বিমানঘাঁটি ও রানওয়ে ল্য করে বিপুল পরিমাণ রকেট ও ড্রোন ছোড়ার কথা জানিয়েছিল হাউছিরা। সম্প্রতি লোহিত সাগরের কৌশলগত বাব আল-মানদেব প্রণালীর নিকটবর্তী বিস্তীর্ণ উপকূলভাগ ও গুরুত্বপূর্ণ দ্বীপগুলোর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেয় এই বিদ্রোহী গোষ্ঠী।
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানিয়েছেন, মাইয়ুন দ্বীপের বর্তমান অবস্থা নিয়ন্ত্রণে ওয়াশিংটন সরাসরি হাউছিদের সাথে যোগসূত্র বজায় রাখছে। তিনি জানান, সৌদি আরব ও আমিরাতের মতো মিত্রদের সাথে সমন্বয় রেখে ওয়াশিংটন সরাসরি বিরোধীপরে সাথে বার্তা আদান-প্রদান করছে। পুরো পরিস্থিতি পরিবর্তনশীল হলেও পরিস্থিতি আমেরিকার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে তিনি আশ্বাস প্রদান করেন। এ দিকে ক্রমাগত যুদ্ধ ও সামরিক তৎপরতায় চরম মানবিক সঙ্কট দেখা দিয়েছে। জাতিসঙ্ঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছে যে, লোহিত সাগর উপকূলের সহিংসতায় অন্তত এক লাখ ৩৭ হাজার শিশুর শিার স্বাভাবিক পরিবেশ বিনষ্ট হয়েছে।
গত শুক্রবার হতে পশ্চিম উপকূলীয় অঞ্চল থেকে বাস্তুচ্যুত প্রায় ১৪ হাজার নাগরিককে জরুরি মানবিক সেবা জোগাচ্ছে জাতিসঙ্ঘ।







