
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের যাত্রী পরিচালনা অপারেটর হিসেবে নির্বাচিত হলে ১২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ এবং প্রথম বছরে এক হাজারের বেশি কর্মসংস্থান সৃষ্টির পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক মেনজিস অ্যাভিয়েশন।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর একটি হোটেলে সংবাদ সম্মেলনে কোম্পানির কর্মকর্তারা প্রস্তাবিত বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান পরিকল্পনা তুলে ধরেন।
তারা বলেন, মেনজিসের কার্যক্রম বাংলাদেশের বৃহত্তর অর্থনীতি ও সরবরাহ শৃঙ্খলের মাধ্যমে আরো সাড়ে চার হাজারের বেশি কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে পারে।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন মেনজিসের মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা ও এশিয়ার নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট চার্লস ওয়াইলি এবং মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকা অঞ্চলের কার্যক্রমের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট জন হেন্ডারসন।
ঢাকায় ব্রিটিশ হাইকমিশনের ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট ডিরেক্টর সাকিব এরশাদও বক্তব্য দেন।
মেনজিস জানিয়েছে, তাদের প্রস্তাবিত বিনিয়োগের মধ্যে বিমানবন্দর পরিচালনা, কর্মী উন্নয়ন ও স্থানীয় বিমান চলাচল খাতের সক্ষমতা উন্নয়নের বিষয়গুলো থাকবে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, কোম্পানিটি ঢাকায় একটি মেনজিজ ট্রেনিং একাডেমি স্থাপন করবে। সেখানে বিমান চলাচল-সম্পর্কিত আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ দেয়া হবে এবং বাংলাদেশী নাগরিকদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি ক্যারিয়ারের সুযোগ তৈরি করা হবে।
এছাড়া স্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ ও স্কুলের সাথে সমন্বয় করে বিমান চলাচল-সম্পর্কিত একাডেমিক কর্মসূচি, ইন্টার্নশিপ ও স্নাতক পর্যায়ের ক্যারিয়ার তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে মেনজিসের।
এসব উদ্যোগ স্থানীয় পরিচালনাগত, কারিগরি ও ব্যবস্থাপনা দক্ষতা জোরদারের পাশাপাশি জ্ঞান ও দক্ষতা স্থানান্তরে ভূমিকা রাখবে বলেও কোম্পানিটির কর্মকর্তারা জানান। এর ফলে বাংলাদেশী কর্মীরা আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন শিল্পে ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ পাবেন।
মেনজিস আরো জানিয়েছে, তারা স্থানীয়ভাবে নিজেদের ইউনিফর্ম তৈরি ও সংগ্রহের পরিকল্পনা করছে। এতে বাংলাদেশের বস্ত্র ও পোশাক শিল্পে ব্যবসার সুযোগ তৈরি হতে পারে এবং তাদের সরবরাহ শৃঙ্খলে স্থানীয় অংশগ্রহণ বাড়তে পারে।
সংস্থাটি বলছে, স্থানীয় নিয়োগ, পেশাগত প্রশিক্ষণ, নেতৃত্ব বিকাশ ও দীর্ঘমেয়াদি জ্ঞান স্থানান্তরের মাধ্যমে তাদের কার্যক্রম টেকসই জাতীয় বিমান চলাচল খাতের কর্মী গড়ে তুলতে সহায়তা করবে।
মেনজিসের ভাষ্য, প্রস্তাবিত এ বিনিয়োগ বাণিজ্যিক সম্পৃক্ততা সম্প্রসারণ এবং দক্ষতা ও জ্ঞান বিনিময়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্যের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক জোরদার করবে। পাশাপাশি যাত্রী পরিচালনা অপারেটর নিয়োগের মাধ্যমে প্রতিযোগিতা বাড়বে এবং গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং ব্যবস্থার উন্নতি হবে বলেও আশা করছে তারা। বাসস







