মানব পাচার, ইতালি পাঠানোর প্রলোভন, মানব পাচারকারী গ্রেফতার, সিআইডি
আটক মো: আবুল হোসেন। সংগৃহীত

ইতালি পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ গ্রহণ, লিবিয়ায় পাঠিয়ে আটক এবং মুক্তিপণ দাবির অভিযোগে মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনের মামলায় মো: আবুল হোসেন (৬৯) নামে এক আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

Advertisement

বুধবার সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) মো: ছুফি উল্লাহ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এর আগে, মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে গাজীপুরের কাপাসিয়া থানাধীন কাড়িহাতা গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে সিআইডির একটি দল।

মো: আবুল হোসেন কাপাসিয়ার কাড়িহাতা গ্রামের বান্দুমিয়ার ছেলে।

সিআইডি জানায়, মামলার বাদিনীকে ইতালি পাঠানোর কথা বলে আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে বিভিন্ন সময়ে তার কাছ থেকে মোট ২৫ লাখ ৯৫ হাজার টাকা গ্রহণ করেন। পরে ২০২৪ সালের ১২ জুন তাকে লিবিয়ায় পাঠানো হয় বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। লিবিয়ায় পৌঁছানোর পর মানব পাচার চক্রের সহযোগীরা বাদিনীকে একটি স্থানে আটক রেখে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে এবং তার কাছে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। মুক্তিপণের অর্থ দিতে না পারায় তাকে আরো নির্যাতন করা হয় বলে বাদিনী অভিযোগ করেন।

একপর্যায়ে সুযোগ বুঝে আটকস্থান থেকে পালিয়ে অন্যত্র আশ্রয় নেন বাদিনী। পরে লিবিয়া পুলিশ তাকে আটক করে ২০২৪ সালের ১৬ অক্টোবর বাংলাদেশে ফেরত পাঠায়।

২০২৫ সালের ২১ সেপ্টেম্বর এ ঘটনায় বাদিনী ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মিরপুর মডেল থানায় মামলা করেন। মামলাটি মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০১২-এর ৭, ৮, ৯ ও ১০ ধারায় করা হয়।

মামলার তদন্তভার গ্রহণের পর সিআইডি প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্ত যাচাই-বাছাই করে মানব পাচারের সাথে জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত শুরু করে। তদন্তের প্রাথমিক পর্যায়ে আবুল হোসেনের মামলার ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে তথ্য পাওয়া যায়।

এরই ধারাবাহিকতায় তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য ও গোয়েন্দা সংবাদের ভিত্তিতে তার অবস্থান শনাক্ত করে মঙ্গলবার রাতে কাড়িহাতা গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

সিআইডি আরো জানায়, গ্রেফতার আবুল হোসেনের বিরুদ্ধে মিরপুর থানায় মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনে আরো একটি মামলা রয়েছে। ২০২৫ সালের ২ অক্টোবর করা ওই মামলাতেও তিনি এজাহারনামীয় আসামি। গ্রেফতার আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদনসহ আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।