
ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে সিরিজে হোয়াইটওয়াশ এড়াতে আগামীকাল বৃহস্পতিবার সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে জয়ের লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামবে বাংলাদেশ। সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে শুরু হবে ম্যাচটি।
ঢাকায় সিরিজের প্রথম টেস্টে ব্যাটিং ব্যর্থতায় ৮ উইকেটে পরাজিত হয় স্বাগতিকরা। এতে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের (ডব্লিউটিসি) পয়েন্ট তালিকায় এগিয়ে যাবার স্বপ্নে বড় ধাক্কা লাগে বাংলাদেশের।
আরো পড়ুন—ঢাবির ডিনের ছেলের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ
সিলেটে জিততে পারলে শুধু সিরিজে সমতা ফেরানোই নয়, দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে আসন্ন অ্যাওয়ে সিরিজের আগে আত্মবিশ্বাসও ফিরে পাবে বাংলাদেশ।
ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারাতে স্পিননির্ভর কৌশল নিয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু ঢাকার টেস্টে সেই পরিকল্পনায় বড় ধাক্কা লাগে। প্রায় সব বিভাগেই বাংলাদেশের স্পিনারদের চেয়ে ভালো করেছেন সফরকারী স্পিনাররা। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের পেস আক্রমণের পুনর্জাগরণ এবং বিভিন্ন কন্ডিশনে পেসারদের ম্যাচ জেতানোর সামর্থ্য প্রতিষ্ঠার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে স্পিননির্ভর কৌশল নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
যে কারণে সিলেটে স্পিননির্ভরতা থেকে সরে এসে তুলনামূলক স্পোর্টিং উইকেটে খেলার সম্ভাবনা রয়েছে বাংলাদেশের।
সিলেটের উইকেটে সাধারণত ম্যাচের শুরুতে পেসাররা সুবিধা পান। চতুর্থ ও পঞ্চম দিনে স্পিনাররা কার্যকর হয়ে ওঠেন। এই মাঠে এখন পর্যন্ত ছয়টি টেস্ট খেলেছে বাংলাদেশ। এর মধ্যে তিনটিতে জয় এবং তিনটিতে হেরেছে তারা। ২০১৮ ও ২০২৫ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দুটি ম্যাচে পরাজয়ের স্বাদ পেয়েছে স্বাগতিকরা। তবে এই মাঠে সর্বশেষ দুটি টেস্টে পাকিস্তান ও আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে দাপুটে জয় পেয়েছিল বাংলাদেশ।
একজন স্পিনারের পরিবর্তে একাদশে জায়গা পেতে পারেন তাসকিন আহমেদ কিংবা সিলেটের স্থানীয় ছেলে এবাদত হোসেন চৌধুরী।
মাথায় আঘাত পাওয়ায় মুমিনুল হক দ্বিতীয় টেস্ট থেকে ছিটকে গেছেন। তবে চোটের কারণে প্রথম টেস্টে খেলতে না পারা অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিমের ফেরার সম্ভাবনায় স্বস্তি ফিরেছে বাংলাদেশ শিবিরে।
মুমিনুলের পরিবর্তে দলে ডাক পাওয়া অমিত হাসানও একাদশে জায়গা পাওয়ার দৌড়ে রয়েছেন। চলমান জাতীয় ক্রিকেট লিগে (এনসিএল) দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করেছেন তিনি। প্রথম শ্রেণির সর্বশেষ দুই ইনিংসে একটি ডাবল সেঞ্চুরির পর ৯৪ রানের ইনিংস খেলেছেন এই ব্যাটার।
সম্প্রতি সিলেটের এই মাঠেই এনসিএলের ম্যাচ খেলেছেন অমিত। তার মতে, উইকেটটি স্পোর্টিং। পিচে কিছুটা ঘাসও রয়েছে, যা পেসারদের সহায়তা করতে পারে।
অমিত বলেন, উইকেটে এখনো কিছুটা ঘাস রয়েছে। এক-দুই দিন পর উইকেটের অবস্থা কেমন হবে, তা জানি না। এনসিএল ও আন্তর্জাতিক ম্যাচ সম্পূর্ণ ভিন্ন। তবে টেস্ট খেলার সুযোগ পেলে নিজের সামর্থ্য প্রমাণের চেষ্টা করব।
চলমান সিরিজের প্রথম টেস্টসহ বাংলাদেশ ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ এখন পর্যন্ত ১১টি টেস্ট সিরিজে মুখোমুখি হয়েছে। এর মধ্যে ২০০৯ ও ২০১৮ সালে দুটি সিরিজ জিতেছে বাংলাদেশ। ওয়েস্ট ইন্ডিজ জিতেছে আটটি সিরিজ। একটি সিরিজ ড্র হয়েছে।
দুই দলের মধ্যে এখন পর্যন্ত ২৩টি টেস্ট অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর মধ্যে পাঁচটিতে জিতেছে বাংলাদেশ, হেরেছে ১৬টিতে। বাকি দুটি ড্র হয়েছে। ২০২১ সালে বাংলাদেশ সফরে এসে সর্বশেষ দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে টাইগারদেও হোয়াইটওয়াশ করেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
একসময় বিশ্ব ক্রিকেটে আধিপত্য বিস্তার করা ওয়েস্ট ইন্ডিজের পারফরম্যান্সের গ্রাফ দীর্ঘদিন নিম্নমুখী। তবে মাঝেমধ্যে নিজেদের সামর্থ্যরে ঝলক দেখিয়েছে দলটি। চলতি বছরে দ্বিপক্ষীয় সিরিজগুলোতে অপরাজিত থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছে তারা।
বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজে হোয়াইটওয়াশ নিশ্চিত করতে এবং ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে সতীর্থদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটিং কোচ ফ্লয়েড রেইফার।
চলমান ডব্লিউটিসি চক্রে এটিই ওয়েস্ট ইন্ডিজের শেষ টেস্ট। তাই ইতিবাচকভাবে সফর শেষ করতে এই টেস্টেও জয়ভিন্ন অন্য কিছুই ভাবছে না ক্যারিবীয়রা। রেইফার বলেন, ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং ভালো পারফরম্যান্স করা আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। হ্যাঁ, ঢাকায় আমরা ভালো খেলেছি। তবে এখানে এসেও ভালো খেলতে হবে। নতুন ম্যাচটি আমাদের জন্য শূন্য থেকেই শুরু হচ্ছে।
‘একটি ম্যাচে প্রথম ও দ্বিতীয় ইনিংস থাকে। ইনিংসের শুরু কিভাবে করতে হবে, কিভাবে ইনিংস গড়ে তুলতে হবে এবং কখন আমরা নিয়ন্ত্রণে রয়েছি- এসব বিষয় বুঝে খেলতে হবে। আগের ম্যাচে যেভাবে প্রতিটি ধাপ অনুসরণ করেছি, এবারও সেভাবেই এগোতে হবে।’
স্কোয়াড
বাংলাদেশ : নাজমুল হোসেন শান্ত (অধিনায়ক), তাসকিন আহমেদ, জাকের আলী অনিক, লিটন দাস, মুমিনুল হক, নাঈম হাসান, তানজিদ হাসান তামিম, এবাদত হোসেন চৌধুরী, তাওহিদ হৃদয়, সাদমান ইসলাম, শরিফুল ইসলাম, তাইজুল ইসলাম, হাসান মাহমুদ, মেহেদী হাসান মিরাজ, মুশফিকুর রহিম ও অমিত হাসান।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ : রোস্টন চেজ (অধিনায়ক), জোমেল ওয়ারিকান (সহ-অধিনায়ক), জশুয়া বিশপ, জন ক্যাম্পবেল, তেজনারায়ণ চন্দরপল, জশুয়া ডা সিলভা, জাস্টিন গ্রিভস, কেভাম হজ, আমির জাঙ্গু, শামার জোসেফ, ব্র্যান্ডন কিং, কিমো পল, কেমার রোচ, জেইডেন সিলেস ও কেভিন উইকহ্যাম।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








