
নাটোরের নলডাঙ্গার যুবক মো: সাব্বির আহমেদ শুভ (৩০) পরিবারের ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে ভাগ্য বদলের আশায় বিদেশে গিয়েছিলেন। কিন্তু ঋণ শোধ হওয়ার আগেই প্রবাসে অগ্নিকাণ্ডে নিহত হন। মৃত্যুর প্রায় তিন মাস পর তার লাশ দেশে ফিরেছে। গত ৯ আগস্ট বাংলাদেশ সময় বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে সৌদি আরবের রিয়াদের মুসাসা এলাকার একটি সোফা তৈরির কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে সাব্বির মারা যান।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) বিকেলে নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার খাজুরা ইউনিয়নের শ্রীপুরপাড়া গ্রামে জানাজা শেষে তার দাফন সম্পন্ন হয়।
এর আগে সকালে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ফ্লাইটে তার লাশ ঢাকায় পৌঁছায়। আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়।
নিহত সাব্বির আহমেদ শুভ খাজুরা ইউনিয়নের শ্রীপুরপাড়া গ্রামের মো: গোলাম রাব্বানীর ছেলে।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাব্বিরের পরিবারে দীর্ঘদিনের অভাব-অনটন ছিল। সংসারের খরচ জোগাতে বাবা-মা ও বোনকে স্থানীয় গার্মেন্টসে কাজ করতে হতো। স্বল্প আয়ের পাশাপাশি ছিল ঋণের চাপ। পরিবারের এ কষ্ট দূর করতেই চার বছর আগে বিভিন্ন জায়গা থেকে ঋণ করে সৌদি আরবে পাড়ি জমান সাব্বির। স্বপ্ন ছিল, প্রবাসে কঠোর পরিশ্রম করে নিজের ও পরিবারের সব ঋণ শোধ করবেন এবং বাবা-মা ও বোনকে গার্মেন্টসের কষ্টের কাজ থেকে মুক্তি দেবেন। দুই বছর আগে নওগাঁর আত্রাই উপজেলার খাসখামার গ্রামের আব্দুল জলিলের মেয়ে জলি খাতুনের সাথে ফোনে তার বিয়ে হয়েছিল। নতুন সংসার আর ঋণমুক্ত জীবনের স্বপ্ন দেখছিলেন তিনি।
কিন্তু গত ৯ আগস্ট বাংলাদেশ সময় বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে সৌদি আরবের রিয়াদের মুসাসা এলাকার সোফা তৈরির কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে সাব্বির মারা যান। অগ্নিকাণ্ডে শরীর মারাত্মকভাবে পুড়ে যাওয়ায় নিহতদের পরিচয় শনাক্তকরণে জটিলতা দেখা দেয়। ফলে মৃত্যুর প্রায় তিন মাস পর তার লাশ দেশে পৌঁছায়।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে সাব্বিরের মা বলেন, ‘আমার ছেলে সংসারের জন্যই বিদেশে গিয়েছিল। বলেছিল, কষ্ট করে সব ঋণ শোধ করবে, আমাদের আর কষ্ট করতে হবে না। আজ আমার ছেলে ফিরল নিথর দেহ হয়ে। এখন এই ঋণ কে শোধ করবে?’
সাব্বিরের বাবা মো. গোলাম রাব্বানী বলেন, ‘আমরা গার্মেন্টসে কাজ করে সংসার চালিয়েছি। ছেলে আমাদের কষ্ট দেখে বিদেশে গিয়েছিল। ভেবেছিলাম ছেলে আয় করলে সব ঋণ শোধ হয়ে যাবে। এখন ছেলে নেই, ঋণ আছে, আর আমাদের বুকফাটা কান্না আছে।’
বোন বলেন, ‘ভাই আমাদের কষ্ট কমানোর জন্য বিদেশে গিয়েছিল। কিন্তু ভাইটাই যখন নেই, তখন আমাদের সব স্বপ্ন শেষ।’
নলডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাম্মী আক্তার জানান, ‘শনিবার সকালে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ফ্লাইটে মরদেহ ঢাকায় পৌঁছায়। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয় এবং গ্রামের বাড়িতে পাঠানো হয়। বিকেলে জানাজা শেষে তার দাফন সম্পন্ন হয়েছে। দাফন কাজে উপজেলা প্রশাসন প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করেছে।’
ইউএনও শাম্মী আক্তার জানান, ‘পরিবারের পক্ষ থেকে সরকারের কাছে সাব্বিরের বিদেশ যাওয়ার ঋণসহ পরিবারের অন্যান্য ঋণ মওকুফ বা পরিশোধে সহযোগিতার আবেদন জানানো হয়েছে।’
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








