আশুলিয়ায় শ্রমিক আন্দোলন, ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা, আশুলিয়ায় শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ, আশুলিয়ায় ১৩ কারখানা বন্ধ, টিয়ারশেল নিক্ষেপ
গার্মেন্টস শ্রমিকদের সাথে পুলিশের সংঘর্ষে উত্তপ্ত আশুলিয়া। নয়া দিগন্ত

ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে শ্রমিক বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে শিল্পাঞ্চল আশুলিয়ায় শ্রমিক ও পুলিশের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে পুলিশ। এতে পুলিশের এক সদস্যসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।

Advertisement

শনিবার সকাল থেকে আশুলিয়ার কাঠগড়া বাজার, নয়াপাড়া ও নিশ্চিন্তপুর এলাকায় বিভিন্ন পোশাক কারখানায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

পরে দুপুরের দিকে আবদুল্লাহপুর-বাইপাইল সড়কের নিশ্চিন্তপুর এলাকায় অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন শ্রমিকরা। এ সময় পুলিশ তাদের ধাওয়া দিলে শ্রমিক ও পুলিশের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। এতে পুলিশের এক সদস্যসহ বেশ কয়েকজন আহত হন।

এদিকে শ্রমিক অসন্তোষের জেরে শিল্পাঞ্চল আশুলিয়ায় অন্তত ১৩টি পোশাক কারখানা বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। বন্ধ থাকা কারখানাগুলোর মধ্যে রয়েছে নিউ এইজ, নীট এশিয়া, স্টার্লিং ক্রিয়েশন, কন্টিনেন্টাল ও এআর জিন্সসহ আরো কয়েকটি কারখানা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শনিবার সকাল ৮টার পর থেকে শ্রমিকরা কারখানার ভেতরে কাজ বন্ধ করে বাইরে বেরিয়ে এসে বিক্ষোভ শুরু করেন।

এ সময় কন্টিনেন্টাল, এআর জিন্স ও সিডব্লিউএসহ কয়েকটি কারখানায় শ্রমিকরা ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও ভাঙচুর করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সংশ্লিষ্ট কারখানা কর্তৃপক্ষ এবং এআর জিন্সের পক্ষ থেকে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

এ বিষয়ে কারখানাগুলোর দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি।

শিল্প পুলিশ-১-এর অফিসার ইনচার্জ আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘শিল্পাঞ্চলজুড়ে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন রয়েছে এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। আহত হওয়ার খবর এসেছে। তবে প্রাথমিকভাবে জানাতে পারছি না।’

শিল্প পুলিশ-১-এর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, এ পর্যন্ত ১৩টি পোশাক কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। সময়ের সাথে এ সংখ্যা বাড়তে পারে। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাজ করছে।