
নাটোরের গুরুদাসপুরে নিহত পৌর ছাত্রদলের সদস্যসচিব শাকিল ইসলাম (৩২) হত্যা মামলায় বিএনপির সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজের ছেলে নুরুজ্জামান মিন্টুকে গ্রেফতার দেখিয়ে মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বিকেলে আদালতে হাজির করে পুলিশ।
এ সময় ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হলে বিচারক ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
গত সোমবার রাতে শাকিলের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে নাটোরের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) পুলিশ নাটোর-৪ (বড়াইগ্রাম-গুরুদাসপুর) আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজের ছেলে নুরুজ্জামান মিন্টুকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে জেলা ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে আসে।
এর আগে সোমবার (১৯ অক্টোবর) নিহত শাকিলের বাবা রবিউল ইসলাম বাদী হয়ে গুরুদাসপুর থানায় অজ্ঞাতনামা ৮/১০ জনকে আসামি করে একটি এজাহার দায়ের করেন।
নিহত শাকিল ইসলাম গুরুদাসপুর পৌর শহরের খামারনা চাচকৈড় টলটলিপাড়া গ্রামের রবিউল মিস্ত্রির ছেলে।
স্থানীয়রা জানান, এমপির দুই ছেলে নুরুজ্জামান মিন্টু ও মাহমুদুজ্জামান সোহাগের আলাদা দুটি অনুসারী ও সমর্থক গোষ্ঠী আছে। আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুই ভাইয়ের অনুসারীদের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। নিহত শাকিল এমপির ছোট ছেলে মাহমুদুজ্জামান সোহাগের অনুসারী ছিলেন। দ্বন্দ্বের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে বলে তাদের ধারণা।
নিহত শাকিলের বাবা ও বাদী রবিউল করিম বলেন, ‘নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে (আইসিইউ) লাইফ সাপোর্টে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত সোমবার রাত ৮টার দিকে ঢাকায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে মারা যায় শাকিল। আমি ছেলে হত্যার বিচার চাই।’
বাদ এশা গুরুদাসপুর বিলচলন শহীদ সামসুজ্জোহা সরকারি কলেজ মাঠে শাকিলের জানাজা শেষে রাতেই পুরানপাড়া কেন্দ্রীয় গোরস্থানে দাফন করা হবে বলেও জানান শাকিলের বাবা।
জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মারুফ হোসেন সৃজন বলেন, ‘শাকিলের হত্যাকারী যত শক্তিশালীই হোক, সে যদি দলেরও হয়, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।’ শাকিলকে হত্যার সাথে স্থানীয় সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজের ছেলে মিন্টু জড়িত সন্দেহে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান তিনি।
এ বিষয়ে গুরুদাসপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হান্নান জানান, এ ঘটনায় থানায় নিহত শাকিলের বাবা বাদী হয়ে ৮/১০ জন অজ্ঞাতনামা আসামির বিরুদ্ধে একটি এজাহার দায়ের করেছেন।
নাটোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইফতেখায়ের আলম জানান, ছাত্রদল নেতা শাকিল হত্যা মামলায় নুরুজ্জামান মিন্টুকে গ্রেফতার দেখিয়ে গুরুদাসপুর আমলি আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। শুনানি শেষে বিচারক তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
উল্লেখ্য, বুধবার (১৪ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে শাকিল ইসলাম তার বাড়িতে যাওয়ার সময় বিলচলন শহীদ সামসুজ্জোহা সরকারি কলেজের পাশে পিছন থেকে একটি মোটরসাইকেলে দুর্বৃত্তরা এসে তাকে ধারালো ছুরি দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে পালিয়ে যায়। একই সময় তারা এক রাউন্ড ফাঁকা গুলিও ছোড়ে। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে আশঙ্কাজনক অবস্থায় শাকিল ইসলামকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
পরে সেখান থেকে বৃহস্পতিবার সকালে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিক্যালে প্রেরণ করা হয়। এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করে বিক্ষোভ করেছেন স্থানীয় ও বিএনপিসহ অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








