
শিল্পাঞ্চল আশুলিয়ায় হানিট্র্যাপ চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। নারীকে ব্যবহার করে ‘হানিট্র্যাপ’ ফাঁদে ফেলে এক ব্যক্তিকে অপহরণ, মারধর ও ধারালো অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগে তাদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারদের মধ্যে একজন নারী ও ১৬ বছর বয়সী এক কিশোর রয়েছে।
অপহরণকারীরা ভুক্তভোগীর পরিবারের কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা ও তার মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টে থাকা আরো চার হাজার ৩০০ টাকাসহ মোট ২৪ হাজার ৩০০ টাকা মুক্তিপণের জন্য আদায় করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
বুধবার (২১ অক্টোবর) বিকেলে আশুলিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে আশুলিয়া থানা পুলিশ।
এর আগে, একইদিন ভোর সাড়ে ৫টার দিকে আশুলিয়ার এনায়েতপুর এলাকার একটি বাড়ি থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতার তিনজন হলেন— খন্দকার মেহেদী হাসান (২৪), সাবিনা ইসলাম (২০) ও শামীম মিয়া (১৬)।
এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেফতার, টাকা ও মোবাইলফোন উদ্ধারে অভিযান চলছে বলে জনিয়েছে পুলিশ।
থানা পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৬ অক্টোবর সন্ধ্যা ৬টার দিকে সাভারের বাসা থেকে ব্যক্তিগত মোটরসাইকেল নিয়ে ঘুরতে বের হন পারভেজ বিশ্বাস (৩৪)। পরে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে আশুলিয়ার পল্লীবিদ্যুৎ ওভারব্রিজের নিচ দিয়ে ফেরার পথে এক নারী তার কাছে লিফট চান।
ওই নারীকে মোটরসাইকেলে তুলে নিয়ে পল্লীবিদ্যুৎ এলাকার আল নূর মসজিদের সামনে পৌঁছালে অজ্ঞাত পরিচয় পাঁচ থেকে ছয়জন ব্যক্তি পারভেজকে মোটরসাইকেল থেকে নামিয়ে মারধর করেন। পরে তাকে জোরপূর্বক অপহরণ করে একটি বাঁশবাগানে নিয়ে হাত-পা বেঁধে আবারো মারধর করে। এ সময় ধারালো অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তার কাছে পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি এবং টাকা না দিলে হত্যার হুমকিও দেয়া হয়।
এ সময় অপহরণকারীরা পারভেজের কাছে টাকা না পেয়ে তার পরিবারের সদস্যদের মোবাইলফোনে যোগাযোগ করে মুক্তিপণ দাবি করেন। পরে পরিবারের সদস্যরা উপায় না পেয়ে পারভেজের মোবাইল নম্বরে থাকা নগদ অ্যাকাউন্টে ২০ হাজার টাকা পাঠান। ওই অ্যাকাউন্টে আগে থেকে থাকা চার হাজার ৩০০ টাকাসহ মোট ২৪ হাজার ৩০০ টাকা তুলে নেয় অপহরণকারীরা।
এছাড়া পারভেজের ব্যবহৃত দু’টি মোবাইলফোন ও একটি ব্লুটুথ হেডফোন ছিনিয়ে নিয়ে তাকে রাস্তায় ছেড়ে দেয়া হয়।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পারভেজ বিশ্বাস বিষয়টি জানিয়ে আশুলিয়া থানায় একটি মামলা (নম্বর ৯৯) দায়ের করলে পুলিশ অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেফতার করে।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার শামীমা পারভীনের তত্ত্বাবধান ও দিকনির্দেশনায় তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে হানিট্র্যাপ চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত, গ্রেফতার ও ভুক্তভোগীর কাছ থেকে নেয়া টাকা ও মোবাইলফোন উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলেও প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








