
লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে মেঘনা নদীতে মা ইলিশ সংরক্ষণে অভিযান চালানোর সময় মৎস্য বিভাগের অভিযানকারী দলের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। এতে মো: সোহেল হোসেন (২১) নামে এক শ্রমিক আহত হয়েছেন। এ সময় অভিযানে আটক করা একটি ট্রলার ছিনিয়ে নেয়ার অভিযোগও উঠেছে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬টার দিকে উপজেলার উত্তর চরবংশী ইউনিয়নের সাজু মোল্লার ঘাটসংলগ্ন মেঘনা নদীতে এ ঘটনা ঘটে।
আহত সোহেল উত্তর চরবংশী ইউনিয়নের জালিয়ার চর এলাকার বাসিন্দা। তিনি রায়পুর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়ের অধীনে অভিযানে সহায়তাকারী শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন। ঘটনার পর তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেয়া হয়।
এজাহার সূত্রে জানা গেছে, মা ইলিশ সংরক্ষণে সরকারি নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে মেঘনা নদীতে অভিযান চালায় মৎস্য বিভাগের একটি দল। অভিযানের একপর্যায়ে প্রায় ৫০ হাজার মিটার জালসহ দুটি ইঞ্জিনচালিত ট্রলার আটক করা হয়। এ সময় নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ ধরার অভিযোগে ব্যবস্থা নেয়ার উদ্যোগের পর হামলার ঘটনা ঘটে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহারে অভিযোগ করা হয়, সন্ধ্যার দিকে এমরান চৌকদার ও কামাল শেখের নেতৃত্বে একদল জেলে দেশীয় অস্ত্র, ধারালো ছুরি ও লোহার রড নিয়ে অভিযানকারী দলের ওপর হামলা চালান। এ সময় সোহেল হোসেনকে মারধর করা হয়। এতে তার মাথায় আঘাত লাগে। হামলাকারীরা আটক করা একটি ট্রলার ছিনিয়ে নিয়ে যান এবং প্রাণনাশের হুমকি দেন বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় সোহেল রায়পুর থানায় লিখিত এজাহার দিয়েছেন। এতে কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরো ১৫ থেকে ২০ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে এমরান চৌকদার ও কামাল শেখের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
রায়পুর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মাহফুজুল হাসনাইন বলেন, ‘মা ইলিশ সংরক্ষণে সরকারি নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে মেঘনা নদীতে অভিযান চালানো হচ্ছিল। এ সময় অভিযানকারী দলের ওপর হামলা হয় ও আটক করা একটি ট্রলার ছিনিয়ে নেয়া হয়। অভিযানে সহায়তাকারী সোহেল আহত হয়েছেন। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। সরকারি নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে অভিযান অব্যাহত থাকবে। অভিযানে জব্দ করা ৫০ হাজার মিটার জাল পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে।’
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








