কুলাউড়া রেলওয়ে স্টেশনে আটকে থাকা চট্টগ্রাম অভিমুখী উদয়ন এক্সপ্রেস
কুলাউড়া রেলওয়ে স্টেশনে আটকে থাকা চট্টগ্রাম অভিমুখী উদয়ন এক্সপ্রেস। নয়া দিগন্ত

সিলেট থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখী ‘উদয়ন এক্সপ্রেস’ (৭২৪) ট্রেনের সময়সূচি নিয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ের ভুল বার্তার কারণে ভোগান্তিতে পড়েছেন শতাধিক যাত্রী। এক ঘণ্টা বিলম্বে ট্রেন ছাড়ার তথ্যসম্বলিত মেসেজ পাঠিয়ে এক ঘণ্টা আগে ট্রেন ছেড়ে যাওয়ায় নির্ধারিত ট্রেনটি ধরতে পারেননি উদয়ন এক্সপ্রেসের যাত্রীরা। পরে অন্য ট্রেনে করে কুলাউড়ায় এসে দুই ঘণ্টা পর চট্রগ্রামগামী ট্রেনটি ধরেন সিলেট স্টেশনে আটকা পড়া যাত্রীরা।

Advertisement

জানা যায়, রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের পাঠানো মোবাইল ও অনলাইন বার্তায় বলা হয়েছিল,
শনিবার (৩ অক্টোবর) সিলেট থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখী উদয়ন এক্সপ্রেস ট্রেনটি রাত ১০টার পরিবর্তে এক ঘণ্টা বিলম্বে অর্থাৎ রাত ১১টায় যাত্রা শুরু করবে। এই মেসেজের ওপর ভরসা করে অনেক যাত্রী ১১টার সময়কে কেন্দ্র করে সিলেট স্টেশনে পৌঁছান।

তবে বাস্তবে ট্রেনটি বিলম্ব না করে তার নির্ধারিত সময় রাত ১০টায় সিলেট স্টেশন থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশে ছেড়ে যায়। এদিকে মেসেজ অনুযায়ী বিলম্বে সিলেট স্টেশনে আসা শতাধিক যাত্রী ট্রেনটি মিস করেন। পরে ট্রেনে যাত্রা করতে না পারা প্রায় শতাধিক যাত্রীর প্রতিবাদের কারণে উদয়ন এক্সপ্রেস ট্রেনটি রাত ১১টা ১৪ মিনিটে কুলাউড়া জংশন স্টেশনে এসে পৌঁছালেও প্রায় দুই ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হয় যাত্রা মিস করা যাত্রীদের জন্য।

রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের ভুল তথ্যের কারণে মাঝরাতে এমন ভোগান্তিতে পড়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন ভুক্তভোগী অনেক যাত্রী। সিলেটে আটকে পড়া যাত্রী মিনহাজ আহমদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘রেলওয়ে নিজেই ভুল মেসেজ দিয়ে আমাদের হয়রানি করল। এখন মাঝরাতে অন্য ট্রেনে চেপে কুলাউড়া গিয়ে আবার ওই ট্রেন ধরতে হবে। এই ভোগান্তি ও দায়িত্বে অবহেলার দায় কে নেবে?’

এদিকে ​উদ্ভূত পরিস্থিতি সামাল দিতে তাৎক্ষণিক বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করে রেলওয়ের স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। রাত সাড়ে ১১টার দিকে কুলাউড়া স্টেশন সূত্রে জানানো হয়, সিলেট স্টেশনে আটকে পড়া উদয়ন এক্সপ্রেসের যাত্রীদের পরবর্তী ঢাকা অভিমুখী ‘উপবন এক্সপ্রেস’ (৭৪০) ট্রেনে তুলে দেয়া হবে। তারা উপবন এক্সপ্রেসে করে কুলাউড়া স্টেশনে পৌঁছালে তাদের পুনরায় উদয়ন এক্সপ্রেসে স্থানান্তর করা হবে।

সিলেট থেকে উপবন এক্সপ্রেসে করে যাত্রীরা কুলাউড়ায় পৌঁছানোর পর আনুমানিক রাত ১টার দিকে উদয়ন এক্সপ্রেস চট্টগ্রামের উদ্দেশে পুনরায় যাত্রা করবে বলে কুলাউড়া স্টেশন কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে।

পরে কুলাউড়ায় প্রায় দুই ঘণ্টা অপেক্ষার পর রাত সোয়া ১টা দিকে সিলেটে ফেলে আসা যাত্রীদের নিয়ে চট্টগ্রামের উদ্দেশে যাত্রা করে উদয়ন এক্সপ্রেস। এমন ঘটনায় রাত সোয়া ১টা পর্যন্ত কুলাউড়া জংশন স্টেশনে অপেক্ষমাণ ও ক্ষুব্ধ যাত্রীদের ভিড় লক্ষ্য করা যায়। 

সিলেট থেকে চট্টগ্রামগামী উদয়ন এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রী মাসুম বিল্লাহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিমত প্রকাশ করে লেখেন, রেল কর্তৃপক্ষ কী পরিমাণ কাণ্ডজ্ঞানহীন আচরণ করেছে যাত্রীদের সাথে। এক দিন আগে শুক্রবার (২ অক্টোবর) মেসেজ দিয়েছিল, আজকের ৩ অক্টোবর সিলেট থেকে উদয়ন এক্সপ্রেস রাত ১০টার পরিবর্তে ছাড়বে ১১টায়।

আমি মনে করেছি, ভুলে মেসেজ এসেছে। তাই সাড়ে ৯টায় স্টেশনে চলে আসছি এবং ১০টায় ট্রেন ছেড়ে দেয়। কুলাউড়া এসে তাদের মনে হয়েছে, ১১টার বদলে ট্রেন ছেড়ে দিছে ১০টায়। এতে প্রায় ট্রেনের অর্ধেক যাত্রী সিলেটে রয়ে গেছে। তখন অন্য ট্রেনে যাত্রীদের নিয়ে আসায় উদয়ন এক্সপ্রেস কুলাউড়ায় দুই ঘণ্টা যাত্রা বিলম্ব হয়।

কুলাউড়া জংশন রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার রোমান আহমদ জানান, শুক্রবার লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের পাহাড়ি এলাকায় পাহাড়িকা এক্সপ্রেস প্রায় তিন ঘণ্টা আটকে থাকে। ফলে সিলেট-চট্টগ্রামগামী ট্রেনের যাত্রা বিলম্ব হয় কিছুটা। সিডিউল সমস্যার কারণে মেসেজে আগেই যাত্রীদের জানানো হয়েছিল ভোগান্তি না পোহাতে। পরে টাইমিং ঠিক হয়ে যাওয়ায় সঠিক সময়ে সিলেট থেকে উদয়ন এক্সপ্রেস ছেড়ে আসায় অনেক যাত্রী ট্রেন যাত্রা মিস করেন।

বিষয়টি বুঝতে পেরে কুলাউড়া রেলওয়ে স্টেশনে উদয়ন এক্সপ্রেস ট্রেনটি প্রায় দুই ঘণ্টা দাঁড়িয়ে রেখে ঢাকাগামী উপবনে করে কুলাউড়ায় নিয়ে আসা হয় চট্টগ্রামগামী উদয়ন এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রীদের। পরে রাত ১টার পর উদয়ন এক্সপ্রেস ট্রেনটি কুলাউড়া থেকে ছেড়ে যায়।