
শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলায় নিখোঁজের ছয় ঘণ্টা পর সোয়াইফ হোসেন (৩) নামে এক শিশুর বস্তাবন্দী অবস্থায় গলাকাটা লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
শনিবার (৩ অক্টোবর) দুপুর দেড়টার দিকে উপজেলার শিধলকুড়া ইউনিয়নের পশ্চিম আদাসন এলাকার একটি ডোবা থেকে শিশুটির লাশ উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় বিক্ষুব্ধ জনতা সন্দেহভাজন প্রতিবেশী আলী আকবর সিকদারের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে। হত্যার ঘটনায় জড়িত সন্দেহে রাসেল সিকদার (৩০) নামে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ।
নিহত শিশু সোয়াইফ শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলার শিধলকুড়া ইউনিয়নের পশ্চিম আদাসন এলাকার সেলিম সরদারে ছেলে।
ডামুড্যা থানা ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকাল ৭টার দিকে শিশু সোয়াইফ বাড়ি থেকে খেলতে বের হয়ে নিখোঁজ হয়। এরপর পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে অনেক খোঁজাখুঁজির পর তার সন্ধান না পেয়ে ডামুড্যা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করে।
পরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা সন্দেহভাজন প্রতিবেশী আলী আকবর শিকদারের বসতঘরের পেছনের ডোবা থেকে বস্তাবন্দী অবস্থায় শিশুটির গলাকাটা লাশ উদ্ধার করে।
এদিকে শিশুটির লাশ উদ্ধারের পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতা আলী আকবর শিকদারের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। পুলিশ ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে আলী আকবর শিকদারের ছেলে রাসেল শিকদারকে হেফাজতে নেয়।
নিহত শিশু সোয়াইফের বাবা সেলিম সরদার বলেন, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুক্রবার (২ অক্টোবর) সন্ধ্যায় আমার মায়ের সাথে প্রতিবেশী আলী আকবরের ঝগড়া হয়। আমার মা রাতে আমাকে বিষয়টি জানায়। আজ সকালে আমি বাজার থেকে বাড়িতে গিয়ে আমার সন্তানকে পাইনি। পরে সম্ভাব্য স্থানে খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে থানায় গিয়ে জিডি করি।
তিনি আরো বলেন, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের লোকজন খোঁজাখুঁজি করে আলী আকবরের বাড়ির পেছনের ডোবা থেকে আমার ছেলের বস্তাবন্দী গলাকাটা লাশ উদ্ধার করে। আমার ছেলেকে ওরা নির্মমভাবে হত্যা করেছে। আমি এই হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি। ঘটনার পর থেকে আলী আকবরের পরিবারের সদস্যরা পলাতক রয়েছে।
এ ব্যাপারে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গোসাইরহাট সার্কেল) শামসুল আরেফীন বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে শিশুটির গলাকাটা বস্তাবন্দী লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন একজনকে আটক করেছি। তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
_GDN_970x90px_English.gif&w=2048&q=75)








