
রাজধানীর চকবাজারের মনসুর খান প্লাজায় অগ্নিকাণ্ডের প্রায় ২১ ঘণ্টা পরও ধোঁয়া উড়ছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও পুরোপুরি নির্বাপণ সম্ভব হয়নি। ভবনের ভেতরে জমে থাকা তাপ ও ধোঁয়া এবং পুড়ে যাওয়া মালামাল সরানোর কাজ চলায় ঘটনাস্থলে অবস্থান করছেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা।
মঙ্গলবার দুপুর ২টার দিকে ঘটনাস্থল ঘুরে দেখা যায়, ভবন থেকে ধোঁয়া বের হচ্ছে। আশপাশের এলাকায় পোড়া গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে। ভবনের ভেতরে তীব্র তাপে জানালার কাচ ভেঙে পড়ছে। নিরাপত্তার কারণে ভবনের সামনের সড়কের দুই পাশে ব্যারিকেড দিয়ে সাধারণ মানুষের চলাচল সীমিত রেখেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের আগুন নির্বাপণের কাজ করতে দেখা যায়। পাশাপাশি ভবনের নিচের দোকানিরা তাদের মালামাল সরিয়ে নিচ্ছিলেন। ওয়াসার পানিবাহী গাড়িতে করে ঘটনাস্থলে পানি আনা হচ্ছিল।
ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, মঙ্গলবার ভোর ৫টা ২০ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে ভবনের গুদামে থাকা মালামাল সরানো এবং সেগুলোতে পানি দেয়ার কাজ চলছে। এসব মালামালের নিচে জমে থাকা তাপ থেকে আবার আগুন ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এর আগে, সকালে সংবাদ সম্মেলনে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সহকারী পরিচালক কাজী নজমুজ্জামান জানান, আগুনে ভবনের ছয়তলা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সাততলায় সামান্য ক্ষতি হয়েছে। এ ঘটনায় ফায়ার সার্ভিসের চার সদস্য আহত হয়েছেন।
তিনি জানান, গতকাল সোমবার বিকেল ৫টা ৪ মিনিটে মনসুর খান প্লাজায় আগুন লাগার খবর পায় ফায়ার সার্ভিস। খবর পেয়ে লালবাগ থেকে দুইটি, সদর দফতর সিদ্দিকবাজার থেকে দুইটি এবং পলাশী থেকে দুইটি ইউনিটসহ মোট ছয়টি ইউনিট ঘটনাস্থলে যায়। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা পৌঁছে ভবনের ছয় ও সাততলায় প্রচণ্ড ধোঁয়া ও তাপ দেখতে পান। ছয়তলার গুদামগুলোতে শাটার ও তালা লাগানো থাকায় আগুন নেভাতে বেগ পেতে হয়। প্রতিটি গুদামে চার-পাঁচটি তালা এবং ভেতরের কলাপসিবল গেটেও তালা ছিল। প্রচণ্ড তাপ ও ধোঁয়ার মধ্যে তালা কেটে আগুন নির্বাপণের কাজ করতে হয়েছে।
আগুন নেভানোর কাজে কয়েকটি চ্যালেঞ্জের কথা জানিয়ে কাজী নজমুজ্জামান বলেন, চকবাজারের সরু রাস্তা ও যানজটের কারণে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে কিছুটা সময় লাগে। এছাড়া ভবনের ছয় ও সাততলায় ধোঁয়া বের হওয়ার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় কর্মীদের তীব্র তাপ ও ধোঁয়ার মধ্যে কাজ করতে হয়েছে। পানির সঙ্কটও আগুন নির্বাপণে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। আশপাশের পানির রিজার্ভ শেষ হয়ে আসায় পাম্প ও রিজার্ভার পরিবর্তন করে অন্য উৎস থেকে পানি নিয়ে কাজ চালাতে হয়।
ফায়ার সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, ভবনের ভেতরে এখন আর দৃশ্যমান আগুন নেই। তবে গুদামে পুড়ে যাওয়া মালামাল সরানো, বিভিন্ন অংশ পরীক্ষা করা এবং পানি দেয়ার কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত আগুন পুরোপুরি নির্বাপণ করা সম্ভব নয়। এ কারণে ছয়টি ইউনিট ঘটনাস্থলে কাজ করছে।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সহকারী পরিচালক কাজী নজমুজ্জামান বলেন, আগুন পুরোপুরি নির্বাপণ না করে ফায়ার সার্ভিস চলে গেলে আবার আগুন জ্বলে উঠতে পারে।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








