বেরোবির প্রধান ফটকের দেয়ালে ‘শিবির মুক্ত ক্যাম্পাস’ লিখল ছাত্রদল

প্রক্টর প্রফেসর ফেরদৌস রহমান বলেন, ‘এসব অতিরঞ্জিত ও শিষ্টাচারবহির্ভূত। এসব ঠিক নয়।’

সরকার মাজহারুল মান্নান, রংপুর ব্যুরো

Location :

Rangpur
বেরোবিতে শিবির মুক্ত ক্যাম্পাস’ লেখা হচ্ছে
বেরোবিতে শিবির মুক্ত ক্যাম্পাস’ লেখা হচ্ছে |নয়া দিগন্ত

রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) প্রধান ফটকের দেয়ালের দুটি অংশে ‘শিবির মুক্ত ক্যাম্পাস’ লিখেছে ছাত্রদল।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) রাত ৮টার দিকে ছাত্রদল নেতারা দেয়ালে একথা লিখে দেন।

দেখা যায়, বাংলা ১৪ ব্যাচের শিক্ষার্থী ও শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাকির জিম এবং কর্মী একই বিভাগের শিক্ষার্থী মামুনের নেতৃত্বে প্রধান ফটকের দুটি দেয়ালে লিখে দেন ‘শিবিরমুক্ত ক্যাম্পাস’। পরে তারা সেখানে ফটোসেশন করেন।

তখন প্রধান ফটকের পাশেই বসেছিলেন প্রক্টর প্রফেসর ফেরদৌস রহমান। তিনি বলেন, ‘এসব অতিরঞ্জিত ও শিষ্টাচারবহির্ভূত। এসব ঠিক নয়।’

এ প্রসঙ্গে রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক জাহির রায়হান বলেন, ‘ছাত্রদল রাজাকারের বিরুদ্ধে। আমিও রাজাকারের বিরুদ্ধে। তাই ছাত্রদল নেতাকর্মীরা রাজাকারদের ছবি বানিয়ে তাদের জুতা নিক্ষেপ করে ঘৃণা প্রদর্শন করেছে। কারণ তাদেরকে সবাই ঘৃণা করে। ’

রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি রাফায়েল ইমতিয়াজ ইয়ামিন বলেন, “৭১-এর প্রশ্নে ছাত্রদল কারো সাথে আপস করবে না। সোমবার ছাত্রশিবির সন্ত্রাসীরা আমাদের ভাইদের ওপর হামলা করেছে, তাদের আহত করেছে। তারা আজকে শহীদ আবু সাঈদ চত্বরে সমাবেশ করার ঘোষণা দিয়েও আসতে পারেনি। কারণ শিক্ষার্থীরা তাদের প্রত্যাখ্যান করেছে। সে কারণে প্রধান ফটকে ‘শিবির মুক্ত ক্যাম্পাস’ লিখে দিয়েছে নেতাকর্মীরা। জেলা ও মহানগর থেকে ছাত্রদল যুবদল স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীরা আমাদের সাহস জোগাতে এসেছিলেন।”

তবে শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারী ইমরান হোসেন বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে মহান জাতীয় সংসদে জুডিশিয়াল কিলিংয়ের শিকার বিএনপি ও জামায়াতের শীর্ষ নেতৃবৃন্দের নামে শোক প্রস্তাব আনুষ্ঠানিকভাবে নিয়েছেন স্পিকার। কিন্তু ছাত্রদল সরকারি দলের ছাত্র সংগঠন হওয়া সত্ত্বেও সরকারের সিদ্ধান্ত মানে না, প্রধানমন্ত্রীসহ সরকারি ও বিরোধী দলের সর্বসম্মত প্রস্তাব মানে না। এটা তাদের দেউলিয়াত্ব। তাদের এই অপকর্মের দায়ে শিক্ষার্থী সমাজ বিচার করবে। অতীতে ছাত্রলীগও এধরনের কাজ করে ইতিহাসের আঁস্তাকুড়ে নিক্ষিপ্ত হয়েছে। ছাত্রদল না শোধরালে তারাও একইভাবে আঁস্তাকুড়ে নিক্ষিপ্ত হবে।’

শাখা ছাত্রশিবির সভাপতি রাকিব মুরাদ বলেন, ‘সশস্ত্র ছাত্রদল যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের ক্যাডারদের পাহাড়ায় দেয়ালে শিবির মুক্ত ক্যাম্পাস লিখলেই শিবির মুক্ত করা যায় না। বরং ছাত্রদলের এই ঘৃণিত কাজের জন্য সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে শিবিরের গ্রহণযোগ্যতা আরো বাড়লো। আমরা শিক্ষার্থীবান্ধব কাজের মাধ্যমে রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়কে শিক্ষা ও গবেষণার পাদপিঠ বানাতে চাই। আর ছাত্রদল সেসব না পেরে সন্ত্রাসের পথ বেছে নিয়ে অশান্তি তৈরি করতে চাইছে। তাদের শিক্ষার্থীরা ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছে।’

এদিকে, ঘটনার সময় প্রধান ফটকের সামনে রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল ছাড়াও মহানগর ও জেলা ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দলের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী অবস্থান নিয়ে জামায়াত-শিবিরের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করছিল।

উল্লেখ্য, সোমবার (৩ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীনতা স্মারক চত্বরে জুলাই প্রদর্শনীর আয়োজন করে শিবির। সেখানে ‘সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী, মতিউর রহমান নিজামী ও মীর কাসেম আলী জুডিশিয়াল কিলিংয়ের শিকার’ লেখা ও ছবি সম্বলিত ব্যানার রাখা হয়। ছাত্রদল নেতারা ব্যানারটি সরিয়ে নিতে বললে দু'পক্ষের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা হয়। এক পর্যায়ে বাঁধে সংঘর্ষ। আহত হন অন্তত ২০ জন।