
বাড়িতে কিভাবে মদ তৈরি করা যায়, তা জানতে বারবার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) সাহায্য নিয়েছিলেন এক যুবক। সেই সূত্রে পাওয়া আংশিক তথ্য কাজে লাগিয়ে বেআইনি মদের কারবার শুরু করার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
ভারতের মধ্যপ্রদেশের দেওয়াস জেলায় বিষাক্ত মদ খেয়ে ১৩ জনের মৃত্যুর তদন্তে এমনই তথ্য পেয়েছে পুলিশ।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে অভিযুক্তদের তৈরি মদের সাথে মৃত্যুর ঘটনাগুলোর সরাসরি যোগ রয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। ফরেন্সিক পরীক্ষার রিপোর্টের অপেক্ষায় রয়েছেন তদন্তকারীরা।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে মদ তৈরির চেষ্টা
পুলিশের দাবি, মূল অভিযুক্ত অজয় রাঠোর গত সেপ্টেম্বর থেকে ২ অক্টোবরের মধ্যে একাধিকবার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিভিন্ন মাধ্যম ব্যবহার করে বাড়িতে মদ তৈরির পদ্ধতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। সেই সূত্রে পাওয়া অসম্পূর্ণ তথ্যের ভিত্তিতে পরে ইন্টারনেটে রাসায়নিক সরবরাহকারীদের খুঁজতে শুরু করেন।
তদন্তকারীরা জানায়, এরপর ইন্দোরের ‘রাইজিং ব্রাদার্স’ নামে একটি বিক্রেতা সংস্থার সাথে যোগাযোগ করেন অজয়। সেখান থেকে একটি রাসায়নিক সংগ্রহের অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
পুলিশের দাবি, ওই রাসায়নিক ব্যবহার করেই বেআইনি মদ তৈরির কারবার শুরু করেছিলেন তিনি।
পুরনো বোতলে ভরে বিক্রির অভিযোগ
পুলিশের দাবি, গত ১ অক্টোবর রাসায়নিক হাতে পাওয়ার পর অজয় ও তার সহযোগীরা বেআইনিভাবে মদ তৈরি শুরু করেন। পুরনো এবং ফেলে দেয়া মদের বোতলে সেই তরল ভরে বাজারে ছড়িয়ে দেয়া হতো।
এমনকি আসল মদের সাথেও নকল মদ মিশিয়ে গ্রাম অঞ্চলে বিক্রি করা হয়েছিল বলে তদন্তকারীদের ধারণা। ফলে কোনটি আসল আর কোনটি নকল, তা বোঝা ক্রেতাদের পক্ষে কঠিন হয়ে পড়ত।
রাসায়নিক সরবরাহের সাথে যুক্ত থাকার অভিযোগে ইন্দোরের বাসিন্দা আমন কাসলিওয়ালকেও গ্রেফতার করা হয়েছে। যে গুদাম থেকে রাসায়নিক সংগ্রহ করা হয়েছিল, সেটি সিল করে দিয়েছে পুলিশ। সেখান থেকে নমুনা সংগ্রহের পাশাপাশি সন্দেহভাজন মদের নমুনাও ফরেন্সিক পরীক্ষাগারে পাঠানো হবে। মদের মধ্যে কী কী উপাদান রয়েছে, তা পরীক্ষার মাধ্যমে জানার চেষ্টা চলছে।
১৩ মৃত্যুর সাথে যোগ রয়েছে কি?
দেওয়াসের চান্দানা ও বিনজানা গ্রামে ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে একাধিক মৃত্যুর ঘটনা সামনে এসেছে। বিষাক্ত মদ খেয়েই ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। প্রাথমিক পর্যায়ে জেলা প্রশাসন চান্দানা গ্রামের মৃত্যুর সাথে বেআইনি মদের যোগ থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছিল। সেই দাবি ঘিরে বিতর্কের মধ্যেই পুলিশি তদন্তে উঠে আসে বেআইনি মদের কারবারের অভিযোগ।
সূত্র : দ্য ওয়াল
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








