এলপিজি, খাদ্যপণ্য, ট্রাক, গাবদ-রিমদান সীমান্ত, পাকিস্তান, ইরান,
গাবদ-রিমদান সীমান্তপথটি ‘গেট ২৫০’ নামেও পরিচিত। দ্য ডন

ইরানের সাথে পাকিস্তানের গাবদ-রিমদান সীমান্তপথ আবারো খুলে দেয়া হয়েছে। শনিবার সীমান্ত খুলে দেয়ার পর দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য আবারো শুরু হয়েছে। একই সাথে এক সপ্তাহ ধরে আটকে থাকা তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) ও নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যবাহী ট্রাক চলাচলের সুযোগ পেয়েছে।

Advertisement

পাকিস্তানের পুরানো ইংরেজি দৈনিক দ্য ডন রোববার (২৫ অক্টোবর) জানায়, ১৭ অক্টোবর থেকে এই সীমান্তপথে বাণিজ্য বন্ধ ছিল। গাবদ-রিমদান সীমান্তপথটি পাকিস্তানের গোয়াদর জেলা ও ইরানের সিস্তান প্রদেশের রিমদানের মধ্যে অবস্থিত। এটি ‘গেট ২৫০’ নামেও পরিচিত। ২০২০ সালে সীমান্তপথটি আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করা হয়।

গোয়াদর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মীর নাভিদ জান কালমাতি শনিবার সকালে বাণিজ্য কার্যক্রম শুরুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, ‘আজ সকালে পাকিস্তান ইরানের সাথে গাবদ-রিমদান সীমান্ত খুলে দিয়েছে। আমদানি ও রফতানি পণ্য নিয়ে ট্রাকসহ অন্যান্য যানবাহনকে দুই দেশের মধ্যে চলাচলের অনুমতি দেয়া হয়েছে।’

সীমান্ত খুলে দেয়ার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানান কালমাতি। তিনি বলেন, এতে সীমান্তের দুই পাশে আটকে পড়া ব্যবসায়ী ও পরিবহনকর্মীরা তাৎক্ষণিক স্বস্তি পাবেন।

তার আশা, সরবরাহব্যবস্থা আবারো সচল হওয়ায় পাকিস্তানজুড়ে এলপিজির সঙ্কট কমবে। একই সাথে জ্বালানি ও খাদ্যপণ্যের আকাশছোঁয়া দাম কমাতেও এটি সহায়তা করবে।

ট্রাকে আগুনের পর নিরাপত্তা জোরদার

সপ্তাহের শুরুতে সীমান্ত এলাকায় হামলার পর শনিবার নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেন স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা। এরপর পণ্যবাহী বহরের নিরাপত্তায় অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করা হয়। এর পরই সীমান্ত খুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

বৃহস্পতিবার গাবদ-রিমদান সীমান্তের কাছে আটকে থাকা পণ্যবাহী ট্রাকগুলোতে হামলা চালায় অজ্ঞাতপরিচয় বন্দুকধারীরা। এতে কয়েক ডজন ট্রাকে আগুন ধরে যায়। আরো কয়েকটি ট্রাক ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

গত ১৭ অক্টোবর থেকে এসব ট্রাক সীমান্তের কাছে আটকে ছিল। ওই দিন পাকিস্তানের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় আকস্মিকভাবে গাবদ-রিমদান ও তাফতান—দুই সীমান্তপথে বাণিজ্য স্থগিত করে। এ বিষয়ে মন্ত্রণালয় একটি স্মারকলিপি জারি করে। এতে ৩ অক্টোবরের বাণিজ্য আদেশ তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাহার করা হয়। তবে বাণিজ্য বন্ধের কোনো কারণ জানানো হয়নি।