
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে ‘লেহরা দো তিরঙ্গা’ (জাতীয় পতাকা ওড়াও) মিছিলে যোগ দিতে যাওয়ার কয়েক মিনিট আগে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকেকে নিজ বাসা থেকে আটক করেছে দিল্লি পুলিশ। শুক্রবার বিকেল ৫টায় দিল্লিতে ‘তেরঙা ওড়াও’ কর্মসূচির ডাক দিয়েছিলেন তিনি।
এক সপ্তাহের মধ্যে এটি দীপকের দ্বিতীয়বার আটক হওয়ার ঘটনা। এর আগে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) চলাকালে ভোটার তালিকায় কারচুপির অভিযোগে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে মুম্বাই থেকে দিল্লিতে পৌঁছানোর পর তাকে আটক করা হয়েছিল।
সিজেপির দুই সদস্য সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কারের গ্রেফতরের প্রতিবাদে শুক্রবার এ পতাকা মিছিলের আয়োজন করা হয়। গত ১৩ অক্টোবর যন্তর মন্তরে জাতীয় পতাকা হাতে প্রবেশের অভিযোগে তাদের পাঁচ দিনের বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়। এর এক দিন আগে ঐতিহাসিক স্থানটিকে প্রতিবাদের জন্য নির্ধারিত স্থানগুলোর তালিকা থেকে বাদ দেয়া হয়েছিল।
মিছিল না করতে পুলিশের নোটিশ
আটকের আগে দিল্লি পুলিশের একটি দল দীপকের বাড়িতে গিয়ে তাকে মিছিল না করার নির্দেশ দিয়ে নোটিশ দেয়।
ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার (বিএনএস) ১৬৩ ধারায় জারি করা ওই নোটিশে বলা হয়, নয়াদিল্লির গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকা কনট প্লেসের আশপাশে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রয়েছে। পাশাপাশি, নতুন দিল্লি পৌর পরিষদ (এনডিএমসি) প্রস্তাবিত তিরঙ্গা মিছিলের অনুমতি দেয়নি বলেও উল্লেখ করা হয়।
নোটিশে সতর্ক করে বলা হয়, অনুমতি ছাড়া মিছিল করলে তা আইন লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হতে পারে এবং সে ক্ষেত্রে পুলিশ আইনি ব্যবস্থা নেবে।
৩১ বছর বয়সী দীপকেকে পুলিশ আরো জানায়, জাতীয় পতাকা ওড়ানো নিষিদ্ধ নয়। তবে অনুমতি ছাড়া মিছিল করা বা জনসমাগম ঘটানো চলমান বিধিনিষেধের লঙ্ঘন হতে পারে। জাতীয় পতাকার যথাযথ ব্যবহারের বিধান সম্পর্কেও তাকে অবহিত করা হয়।
‘আমার বিরুদ্ধে কী অভিযোগ?’
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, নিজের বসার ঘরে সোফায় বসে আছেন দীপকে। তার কাঁধে জড়ানো ছিল একটি ছোট জাতীয় পতাকা। সামনে থাকা পুলিশ সদস্যকে তিনি প্রশ্ন করেন, ‘আপনি আমার বিরুদ্ধে কী অভিযোগ এনেছেন?’
ভিডিওতে কাচের টেবিলের ওপর বেশ কিছু কাগজপত্রও দেখা যায়। দীপকে সেগুলো পরীক্ষা করে নথির বিভিন্ন অংশ পুলিশ সদস্যদের সামনে পড়ে শোনাচ্ছিলেন।
তাকে আটকের সুনির্দিষ্ট কারণ এবং পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ সম্পর্কে পুলিশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা প্রয়োজন।
সূত্র : এনডিটিভি
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








