
ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আগামী কমিটি গঠনকে ঘিরে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মধ্যে মুহাম্মদ আফাজ উদ্দিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, সাংগঠনিক ভূমিকা ও সামাজিক কর্মকাণ্ড নিয়ে আলোচনা চলছে।
দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা ও আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকার পাশাপাশি সামাজিক ও পরিবেশবান্ধব বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের কারণে মুহাম্মদ আফাজ উদ্দিনকে নিয়ে দলীয় নেতাকর্মী ও স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা রয়েছে। তার সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডের মধ্যে উত্তরার দিয়াবাড়ি লেক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার উদ্যোগ উল্লেখযোগ্য।
সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, এক বছরেরও বেশি সময় ধরে তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে নিজ উদ্যোগ ও অর্থায়নে লেকটির বিভিন্ন অংশ পরিষ্কার করেছেন। কখনো কোমরসমান, কখনো গলাসমান পানিতে নেমে এবং কখনো সাঁতরে আবর্জনা পরিষ্কারের এ উদ্যোগে প্রায় ৮ কিলোমিটার এলাকায় কাজ করা হয়েছে।
এছাড়া গুলশান-বনানী লেক পরিষ্কার এবং উত্তরার বিভিন্ন সেক্টরে ময়লা-আবর্জনা অপসারণের কাজেও তিনি নেতাকর্মীদের সাথে অংশ নিয়েছেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
সামাজিক কর্মকাণ্ডের অংশ হিসেবে অসহায় ও দরিদ্র মানুষের মধ্যে পোশাক ও খাবার বিতরণ, হাসপাতালে হুইলচেয়ার প্রদান এবং সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর বিভিন্ন উদ্যোগে তার সম্পৃক্ততার কথা বলা হয়েছে। তারেক রহমানের ৬১তম জন্মদিন উপলক্ষে পিছিয়ে পড়া নারীদের মধ্যে ৬১টি সেলাই মেশিন বিতরণের উদ্যোগও তিনি নেন। এছাড়া হিজড়া সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে বস্ত্র বিতরণ করেছেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা
মুহাম্মদ আফাজ উদ্দিন ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সদ্য-সাবেক আহবায়ক কমিটির যুগ্ম আহবায়ক ও সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
এর আগে উত্তরা পশ্চিম থানা বিএনপির আহবায়ক ও সদস্য সচিব, উত্তরা মডেল থানা যুবদলের সভাপতি, বৃহত্তর উত্তরা থানা ছাত্রদলের সভাপতি এবং হরিরামপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
তার নিজের ও সংশ্লিষ্টদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, রাজনৈতিক কারণে তার বিরুদ্ধে শতাধিক মামলা হয়েছে। এর মধ্যে দুইটি মামলায় তিনি সাজাপ্রাপ্ত হন এবং মোট ছয় বছরের বেশি সাজার রেকর্ড রয়েছে বলে তার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। এছাড়া দুই দফায় গ্রেফতার ও তিন মাসের বেশি কারাবরণের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
তার পরিবারের পক্ষ থেকে রাজনৈতিক কারণে বাড়িঘরে হামলা ও ভাঙচুর, পরিবারের সদস্যদের ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং একাধিকবার তার ওপর হামলার ঘটনাও দাবি করা হয়েছে। এসব প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে গেছেন বলে তার অনুসারীদের দাবি।
ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আগামী কমিটি গঠনকে ঘিরে নেতৃত্ব নির্বাচন ও দায়িত্ব বণ্টন নিয়ে আলোচনা চলছে। এ প্রক্রিয়ায় দলের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, সাংগঠনিক ভূমিকা, আন্দোলনে সক্রিয়তা ও জনসম্পৃক্ত কর্মকাণ্ড কতটা গুরুত্ব পায়, সেটি এখন সংশ্লিষ্ট মহলের আলোচনার বিষয়।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








