
ক্রীড়া প্রতিবেদক
জাতীয় ক্রিকেট লিগে পঞ্চম রাউন্ডে শেষ দিনের নাটকীয়তা ম্যাচ জমে উঠেছিল চট্টগ্রাম ও সিলেটের। লক্ষ্যটা ছিল নাগালে। শেষ দিনে ৯ উইকেট হাতে রেখে জয়ের জন্য চট্টগ্রামের প্রয়োজন ছিল ১০১ রান। এমন সমীকরণে সহজ জয়ই পাওয়ার কথা ছিল চট্টগ্রামের। কিন্তু ক্রিকেট যে অনিশ্চয়তার খেলা, হঠাৎ ব্যাটিং ধসে তৈরি হলো শঙ্কা। তবে একপ্রান্ত আগলে রেখে অনেক দূর এগিয়ে দিলেন সাদিকুর রহমান। নিজে পেলেন শতরানের উষ্ণ ছোঁয়া। রুদ্ধশ্বাস লড়াই শেষে চট্টগ্রাম জিতেছে ১ উইকেটে। চট্টগ্রামের মতোই রান তাড়া করে জয় পেয়েছে খুলনা ও রংপুর। ড্র হওয়া ম্যাচে ১ রানের জন্য সেঞ্চুরিবঞ্চিত হওয়ার বেদনায় পুড়েছেন আশিকুর রহমান শিবলি।
সিলেটের দুই ইনিংসেই ছিল সমান ২১৮ রান করে। চট্টগ্রামের প্রথম ইনিংসে ২১০ রানের ফলে জয়ের জন্য তাদের সামনে লক্ষ্য ছিল ২২৭ রান। শেষ দিনে জিততে হলে প্রয়োজন ছিল ১০১ রান। গতকাল আরো দুই উইকেট হারিয়ে করে ফেলেছিল ৬১ রান। জয়ের জন্য যখন প্রয়োজন ৪০ রান, তখনো হাতে রয়েছে সাত উইকেট। সেখান থেকে অবিশ্বাস্যভাবে ঘুরে দাঁড়ায় সিলেট। পরের ২৩ রানের মধ্যে তারা তুলে নিল ছয় উইকেট। তবে এবারের লিগে তৃতীয় সেঞ্চুরি করে চট্টগ্রামের জয়ের নায়ক সাদিকুর। সব মিলে প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে ষষ্ঠ সেঞ্চুরিতে ঠিক ১০০ রান করে আউট হন ৩৪ ছুঁইছুঁই বাঁহাতি ওপেনার। ম্যাচসেরার পুরস্কারও উঠে তার হাতে। তবে তার আউটের পর তখনো জয়ের জন্য চট্টগ্রামের প্রয়োজন ১৭ রান। কিন্তু সিলেটের বোলাররা ভাঙতে পারল না শেষ জুটি। শেষ উইকেট জুটিতে চ্যালেঞ্জিং পথটা পাড়ি দেন আশরাফুল হাসান ও সঞ্জিত মজুমদার। চলতি লিগে চট্টগ্রামের এটি দ্বিতীয় জয়। এর সাথে একটি ড্র করে মোট ২৪ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের দুইয়ে তারা। সমান ম্যাচে ২০ পয়েন্ট নিয়ে চারে সিলেট।
খুলনা বিভাগীয় স্টেডিয়ামে স্বাগতিকরা প্রথম ইনিংসে ২৮০ রান করে ১০৮ রানেই গুটিয়ে দিয়েছিল ময়মনসিংহকে। ফলোঅনে পড়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ৩১৯ রানে থেমে যায় ময়মনসিংহর ইনিংস। শেষ দিন ১৪০ রানের লক্ষ্য ছুঁতে ২ উইকেট হারায় খুলনা। ৮০ রানের ইনিংস খেলে দলের জয়ে বড় ভূমিকা রাখেন এনামুল হক। এবারের লিগে এটি তার দ্বিতীয় ফিফটি। ম্যাচসেরা হন মোহাম্মদ মিঠুন।
বগুড়া শহীদ চান্দু স্টেডিয়ামে রাজশাহীর প্রথম ইনিংসে ২৩১ রানের জবাবে ২৫৬ রান করেছিল রংপুর। দ্বিতীয় ইনিংসে রাজশাহী আগের দিনের ৩ উইকেটে ১১০ রানের সাথে ৭৪ রান যোগ করতেই অলআউট হয়। ফলে ম্যাচের শেষ দিন ১৬০ রানের লক্ষ্যে শুরু থেকে আক্রমণাত্মক ক্রিকেট খেলে রংপুর। ফর্মে থাকা ওপেনার মিম মোসাদ্দেক একপ্রান্ত আগলে রেখে ৮৯ বলে খেলেন ৬১ রানের ইনিংস। পাঁচ নম্বরে নেমে এক চার ও তিন ছক্কায় ১৯ বলে ৩০ রান করে দলকে ৬ উইকেটে জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন রিশাদ হোসেন। পঞ্চম রাউন্ডে এসে প্রথম জয়ের দেখা পেল বর্তমান চ্যাম্পিয়ন রংপুর।
রাজশাহী বিভাগীয় স্টেডিয়ামে বৃষ্টি ও ভেজা আউটফিল্ডে প্রথম দুই দিন খেলাই হয়নি। ম্যাচের ভাগ্য অবশ্য লেখা হয়ে যায় তৃতীয় দিনেই। অপেক্ষা ছিল শুধু শিবলির সেঞ্চুরির। ৯৯ রানে দাঁড়িয়ে তানভির ইসলামের বলে ইনসাইড আউট করে খেললেন তরুণ ওপেনার। কাভারে থাকা ইফতেখার হোসেন ডান দিকে ঝাঁপিয়ে দুর্দান্ত এক ক্যাচ নিলে হতাশায় সঙ্গী হয় শিবলির। আর আগের দিন ৬২ রানে অপরাজিত থেকে খেলতে নামা আবদুল্লাহ সেঞ্চুরি থেকে ৬ রান দূরে থাকতে তাইবুর পারভেজের বলে কট বিহাইন্ড হয়ে যান। ফলে জাতীয় লিগের পঞ্চম রাউন্ডের চার ম্যাচের এটি একমাত্র ড্র। আর ড্র হওয়া ম্যাচের সেরা হয়েছেন তানভির ইসলাম।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








