কৃষি, প্রকল্প
বিশ্বব্যাংক।

  

Advertisement

কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা, কৃষি সম্প্রসারণসেবায় স্যাটেলাইট ও ড্রোনের মতো আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং নিরাপদ খাদ্য সরবরাহব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকার একটি নতুন মেগা প্রকল্পের প্রস্তুতি চলছে। ‘বাংলাদেশ এগ্রি এন্টারপ্রেনিউরশিপ প্রজেক্ট’ (বিএপি) নামে প্রস্তাবিত এ প্রকল্পে কৃষি, প্রাণিসম্পদ ও মৎস্য খাতকে অন্তর্ভুক্ত করে চারটি কম্পোনেন্টে কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা করা হয়েছে। বিশ্বব্যাংকের প্রস্তাবিত ৯০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার অর্থায়নের ভিত্তিতে প্রকল্পটি এগিয়ে নেয়ার উদ্যোগ থাকলেও এর অর্থায়ন, কার্যক্রম ও অনুমোদন এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, চার বছরে প্রথমপর্যায়ে ৩৫০ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ের প্রস্তাব রয়েছে। ক্ষুদ্র উৎপাদকদের সংগঠিত করে বাজারের সাথে সরাসরি সংযোগ স্থাপন, কৃষকদের কাছে দ্রুত ও নির্দিষ্ট তথ্যভিত্তিক পরামর্শ পৌঁছে দেয়া এবং উৎপাদন থেকে ভোক্তা পর্যন্ত কৃষিপণ্যের গতিপথ শনাক্ত করার ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। তবে প্রস্তাবিত ৯০০ মিলিয়ন ডলারের সামগ্রিক অর্থায়নের বিপরীতে প্রথমপর্যায়ের ব্যয় পরিকল্পনা ৩৫০ মিলিয়ন ডলারে সীমিত থাকায় অবশিষ্ট অর্থের ব্যবহার ও পূর্ণাঙ্গ অর্থায়ন কাঠামো চূড়ান্ত করার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের চলমান ‘পার্টনার’- প্রোগ্রাম অন এগ্রিকালচারাল অ্যান্ড রুরাল ট্রান্সফরমেশন ফর নিউট্রিশন, এন্টারপ্রেনিউরশিপ অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স- প্রকল্পের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে বৃহত্তর পরিসরে কৃষির রূপান্তর ঘটানোর লক্ষ্য নিয়ে নতুন এ উদ্যোগের প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। ২০২৩ সালের জুলাইয়ে শুরু হওয়া পার্টনার প্রকল্প চলমান থাকা অবস্থায়ই বিএপির প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম এগিয়ে নেয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, পার্টনারের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে নতুন প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষি উৎপাদন, বাজারব্যবস্থা ও কৃষকসেবায় আরো বিস্তৃত পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে।
বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে প্রস্তাবিত কর্মসূচির লিড ফোকাল হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন পার্টনার প্রকল্পের প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর (পিসি) ড. মো: শাখাওয়াত হোসেন শরীফ। তিনি জানান, নতুন প্রকল্পের প্রস্তুতিমূলক দল গঠন করা হয়েছে। বর্তমানে বিভিন্ন কম্পোনেন্টের কারিগরি নোট তৈরির কাজ চলছে। মাঠপর্যায়ের চাহিদা, সরকারের অগ্রাধিকার এবং বর্তমান নির্বাচিত সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের প্রয়োজন বিবেচনায় নিয়ে কর্মসূচি ও কার্যক্রম নির্ধারণ করা হবে।
চার কম্পোনেন্টে ব্যয়ের পরিকল্পনা
প্রস্তাবিত বাংলাদেশ এগ্রি এন্টারপ্রেনিউরশিপ প্রজেক্টের আওতায় চারটি কম্পোনেন্ট রাখা হচ্ছে। এগুলো হলো- উৎপাদন ও বাজারসংযোগে ‘প্রোডাক্টিভ পার্টনারশিপ’, কৃষকসেবার আধুনিকায়নে ‘ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার টু ইম্প্রুভ এগ্রিকালচার পাবলিক সাপোর্ট’, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে ‘স্ট্রেংদেনিং ফুড সেফটি অ্যান্ড ট্রেসেবিলিটি সিস্টেম’ এবং প্রকল্প ব্যবস্থাপনা ও সমন্বয়ে ‘প্রোগ্রাম ম্যানেজমেন্ট, লার্নিং অ্যান্ড কো-অর্ডিনেশন’।
প্রস্তুতিমূলক পর্যায়ে বিশ্বব্যাংকের পক্ষ থেকে প্রকল্পটির জন্য মোট ৯০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার অর্থায়নের প্রস্তাব রয়েছে। এর মধ্যে প্রথমপর্যায়ে চারটি কম্পোনেন্টের আওতায় যথাক্রমে ২২৫ মিলিয়ন, ৭৫ মিলিয়ন, ৩০ মিলিয়ন ও ২০ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ের পরিকল্পনা করা হয়েছে। সবমিলিয়ে প্রাথমিক পর্যায়ের ব্যয় দাঁড়ায় ৩৫০ মিলিয়ন ডলার। তবে অর্থায়ন ও অনুমোদন চূড়ান্ত না হওয়ায় এ বরাদ্দ এবং কার্যক্রমে পরিবর্তন আসতে পারে।
প্রকল্পের আওতায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর (ডিএই), প্রাণিসম্পদ অধিদফতর ও মৎস্য অধিদফতর কাজ করবে। এর মধ্যে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর লিড এজেন্সি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে। বিভিন্ন উপকম্পোনেন্ট ও কার্যক্রম যুক্ত করার পরিকল্পনাও রয়েছে। মাঠপর্যায়ের বাস্তব চাহিদার সাথে এসব কার্যক্রমের সমন্বয় এবং তিনটি অধিদফতরের মধ্যে কার্যকর সহযোগিতা প্রতিষ্ঠা প্রকল্প প্রস্তুতি ও বাস্তবায়নের গুরুত্বপূর্ণ দিক হবে।
উৎপাদক থেকে ভোক্তা-মধ্যস্বত্বভোগী কমানোর পরিকল্পনা :
প্রথম কম্পোনেন্ট ‘প্রোডাক্টিভ পার্টনারশিপে’র মূল লক্ষ্য ক্ষুদ্র কৃষক ও কৃষি উদ্যোক্তাদের সংগঠিত করে উৎপাদিত পণ্যের বাজার সম্প্রসারণ এবং ন্যায্যমূল্য পাওয়ার সুযোগ বাড়ানো। দেশের বিপুলসংখ্যক ক্ষুদ্র উৎপাদক বিচ্ছিন্নভাবে পণ্য উৎপাদন করেন। ফলে পণ্যের মানবজায় রাখা, নিয়মিত সরবরাহ নিশ্চিত করা, বাজারজাতকরণ এবং বড় ক্রেতাদের সাথে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপনে তাদের নানা সীমাবদ্ধতার মুখে পড়তে হয়।
এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় ক্ষুদ্র উৎপাদকদের পণ্য একত্র করা বা অ্যাগ্রিগেশনের মাধ্যমে বাজারজাতকরণের উপযোগী করার পরিকল্পনা রয়েছে। এরপর প্রয়োজনীয় মানদণ্ড ও বিধিবিধান অনুসরণ করে পণ্য বিপণনের ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। এর মাধ্যমে উৎপাদকদের সাথে ভোক্তা ও বড় ক্রেতাদের সরাসরি সংযোগ স্থাপন এবং মধ্যস্বত্বভোগীর ওপর নির্ভরতা কমানোর লক্ষ্য নেয়া হয়েছে।
ড. মো: শাখাওয়াত হোসেন শরীফ বলছেন, উৎপাদিত পণ্য একত্র করা, প্রয়োজনীয় মানদণ্ড পূরণ এবং বাজারের চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে ক্ষুদ্র উৎপাদকদেরও বড় বাজারে প্রবেশের সুযোগ সৃষ্টি হবে। এতে কৃষক ন্যায্য দাম পাওয়ার পাশাপাশি ভোক্তার কাছে মানসম্মত পণ্য পৌঁছানো সহজ হতে পারে।
তবে এ উদ্যোগের সুফল নির্ভর করবে উৎপাদকদের সংগঠিত করা, পণ্যের মান বজায় রাখা, সংরক্ষণ ও পরিবহনব্যবস্থা উন্নত করা এবং ক্রেতাদের সাথে কার্যকর বাজারসংযোগ প্রতিষ্ঠার ওপর। শুধু মধ্যস্বত্বভোগীর সংখ্যা কমানোই যথেষ্ট নয়; কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে বাজারে প্রতিযোগিতা, সরবরাহ ব্যবস্থার স্বচ্ছতা এবং উৎপাদকদের দরকষাকষির সক্ষমতা বাড়ানোও গুরুত্বপূর্ণ হবে।
পাঁচ কোটি কৃষকের জন্য ডিজিটাল সেবার পরিকল্পনা 
দ্বিতীয় কম্পোনেন্ট ‘ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার টু ইম্প্রুভ এগ্রিকালচার পাবলিক সাপোর্ট’। এর আওতায় প্রচলিত কৃষি সম্প্রসারণসেবাকে আধুনিক ডিজিটাল কাঠামোয় রূপান্তরের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
ড. মো: শাখাওয়াত হোসেন শরীফ জানান, দেশে প্রায় পাঁচ কোটি কৃষক রয়েছেন। তাদের কাছে আধুনিক কৃষি তথ্য ও পরামর্শ পৌঁছে দেয়ার দায়িত্বে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের জনবল প্রায় ২৬ হাজার। এই জনবল দিয়ে প্রত্যেক কৃষকের কাছে প্রয়োজন অনুযায়ী দ্রুত ও সময়োপযোগী সেবা পৌঁছে দেয়া কঠিন। এ কারণে প্রযুক্তিনির্ভর সম্প্রসারণ ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।
প্রস্তাবিত ডিজিটাল ব্যবস্থার মাধ্যমে আবহাওয়া, রোগবালাই, পোকামাকড়ের আক্রমণ, বাজারদর এবং ফসলের পরিচর্যার উপযুক্ত সময় সম্পর্কে কৃষকদের তথ্য দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে স্যাটেলাইটের ছবি বিশ্লেষণ ও ড্রোন প্রযুক্তি ব্যবহারের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হয়েছে। ফসলের অবস্থা ও মাঠপর্যায়ের তথ্য বিশ্লেষণ করে কোন জমিতে কখন সেচ, সার প্রয়োগ, আগাছা নিয়ন্ত্রণ কিংবা অন্যান্য পরিচর্যা প্রয়োজন, সে বিষয়ে কৃষককে নির্দিষ্ট পরামর্শ দেয়ার লক্ষ্য রয়েছে। এর ফলে অপ্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণের ব্যবহার কমানো, উৎপাদন ব্যয় হ্রাস এবং ফলন ও মুনাফা বাড়ানোর সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে।
বর্তমানে কৃষকের কাছে তথ্য পৌঁছানোর ক্ষেত্রে মাঠপর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তাদের ওপর উল্লেখযোগ্য নির্ভরতা রয়েছে। ডিজিটাল সেবা চালু হলে একই তথ্য দ্রুত অনেক কৃষকের কাছে পৌঁছানো এবং নির্দিষ্ট এলাকার রোগবালাই বা উৎপাদনসংক্রান্ত সমস্যা শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেয়ার সুযোগ বাড়বে। তবে এর কার্যকারিতা নির্ভর করবে নির্ভরযোগ্য তথ্যভাণ্ডার, ডিজিটাল অবকাঠামো, কৃষকের প্রযুক্তি ব্যবহারের সক্ষমতা এবং সেবার সহজলভ্যতা নিশ্চিত করার ওপর।
নিরাপদ খাদ্যে গুরুত্ব পাবে ট্রেসেবিলিটি 
তৃতীয় কম্পোনেন্ট ‘স্ট্রেংদেনিং ফুড সেফটি অ্যান্ড ট্রেসেবিলিটি সিস্টেম’। এর লক্ষ্য কৃষিপণ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং উৎপাদন থেকে ভোক্তার কাছে পৌঁছানো পর্যন্ত পণ্যের গতিপথ শনাক্ত করার ব্যবস্থা গড়ে তোলা।
কৃষিতে রাসায়নিক উপকরণের অনিয়ন্ত্রিত বা অনুপযুক্ত ব্যবহার জনস্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগের বিষয়। কীটনাশক ও অন্যান্য কৃষি উপকরণের নিরাপদ ব্যবহার নিশ্চিত করা, উৎপাদিত পণ্য ক্ষতিকর রাসায়নিকের অবশিষ্টাংশের ঝুঁকি কমানো এবং নিরাপদ খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে কার্যকর নজরদারি প্রয়োজন। প্রস্তাবিত এ কম্পোনেন্টে এসব বিষয়কে গুরুত্ব দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
ট্রেসেবিলিটি ব্যবস্থার মাধ্যমে কোন কৃষিপণ্য কোথায় উৎপাদিত হয়েছে, উৎপাদনে কী ধরনের উপকরণ ব্যবহার করা হয়েছে এবং সরবরাহ ব্যবস্থার কোন কোন ধাপ অতিক্রম করে পণ্যটি বাজারে এসেছে, তা শনাক্ত করার সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। ফলে অনিরাপদ পণ্য শনাক্ত করা, প্রয়োজন হলে বাজার থেকে প্রত্যাহার এবং উৎপাদক ও সরবরাহকারীর জবাবদিহি নিশ্চিত করা সহজ হবে।
ড. মো: শাখাওয়াত হোসেন শরীফের মতে, এ কম্পোনেন্টের লক্ষ্য দেশীয় ভোক্তাদের কাছে নিরাপদ কৃষিপণ্য সহজলভ্য করা। তবে এ ব্যবস্থা কার্যকর করতে শুধু প্রযুক্তি চালু করলেই হবে না; কৃষিপণ্যের নমুনা পরীক্ষা, মাননিয়ন্ত্রণ, রাসায়নিকের নিরাপদ ব্যবহার বিষয়ে কৃষকদের প্রশিক্ষণ এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়ও প্রয়োজন হবে।
চার বছরে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা, থাকবে আন্তর্জাতিক সেবাদাতা
চতুর্থ কম্পোনেন্ট ‘প্রোগ্রাম ম্যানেজমেন্ট, লার্নিং অ্যান্ড কো-অর্ডিনেশনে’র আওতায় প্রকল্পের ব্যবস্থাপনা, বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয়, অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং বাস্তবায়ন তদারকির পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী, প্রথম তিনটি কম্পোনেন্টের কার্যক্রম মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়নে আন্তর্জাতিক পর্যায় থেকে একটি ইন্টারনাল সার্ভিস প্রোভাইডার (আইএসপি) নিয়োগের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এ সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান তিনটি কম্পোনেন্টের মধ্যে সমন্বয় প্রতিষ্ঠা, বাস্তবায়ন পদ্ধতি নির্ধারণ এবং মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম পরিচালনায় সহায়তা করবে।
প্রাথমিক পরিকল্পনায় চার বছরে চারটি কম্পোনেন্টের আওতায় প্রথম পর্যায়ে ৩৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয়ের প্রস্তাব রয়েছে। তবে এ ব্যয় নির্ভর করছে সরকারের অনুমোদন, বিশ্বব্যাংকের সাথে অর্থায়ন ও কর্মসূচি নিয়ে সমঝোতা এবং চূড়ান্ত প্রকল্প কাঠামোর ওপর। একইভাবে সামগ্রিক ৯০০ মিলিয়ন ডলারের প্রস্তাবিত অর্থায়ন কিভাবে পর্যায়ক্রমে কাজে লাগানো হবে, সেটিও চূড়ান্ত আলোচনার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।
সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, পার্টনার প্রকল্প চলমান থাকা অবস্থায়ই নতুন প্রকল্পের প্রস্তুতি এগিয়ে নেয়া গেলে কৃষির রূপান্তরে ধারাবাহিকতা বজায় রাখা সম্ভব হবে। পার্টনারের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে উৎপাদন, বাজারসংযোগ, ডিজিটাল সম্প্রসারণসেবা ও খাদ্য নিরাপত্তাকে একটি সমন্বিত কাঠামোর আওতায় আনার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
তবে প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকার সম্ভাব্য অর্থায়নের এ উদ্যোগের বাস্তব সুফল নির্ভর করবে পরিকল্পনাকে কার্যকর প্রকল্প কাঠামোয় রূপ দেয়া, অর্থায়ন নিশ্চিত করা, বাস্তবায়নকারী সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় এবং মাঠপর্যায়ে কৃষকের চাহিদাকে অগ্রাধিকার দেয়ার ওপর। বিশেষ করে ক্ষুদ্র কৃষকের ন্যায্যমূল্য, প্রযুক্তিনির্ভর সেবার বাস্তব প্রাপ্যতা এবং নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে দৃশ্যমান অগ্রগতি অর্জনই হবে প্রস্তাবিত মেগা প্রকল্পের সাফল্যের প্রধান মাপকাঠি।