
একসময় শীত এলেই বগুড়ার শিবগঞ্জের গ্রামাঞ্চলে দেখা মিলত আখের ক্ষেত ও গুড় তৈরির ব্যস্ততা। মাঠ থেকে আখ কেটে রস বের করে বড় কড়াইয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা জ্বাল দিয়ে তৈরি করা হতো সুস্বাদু গুড়। সময়ের সাথে আখ চাষ ও দেশীয় পদ্ধতিতে গুড় তৈরির সেই ঐতিহ্য অনেকটাই হারিয়ে গেছে। তবে অবসর জীবনে আখ চাষ ও গুড় তৈরির মাধ্যমে পুরনো দিনের সেই স্বাদ ফিরিয়ে আনছেন মোকামতলার রহবল এলাকার অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বিনয় মাস্টার।
শিক্ষকতা থেকে অবসরের পর বসে না থেকে কৃষিকাজে মনোনিবেশ করেন তিনি। বর্তমানে সাড়ে তিন বিঘা জমিতে আখ চাষ করেছেন। নিজের জমির আখ থেকেই তৈরি করছেন গুড়। এতে অবসর সময় কাটানোর পাশাপাশি হারিয়ে যেতে বসা গ্রামীণ ঐতিহ্যও ধরে রাখছেন তিনি।
গত মঙ্গলবার সকালে রহবল বর্মসর এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, জমিতে সারি সারি আখ। পরিপক্ব আখ কেটে মেশিনে চাপ দিয়ে রস বের করা হচ্ছে। পরে সেই রস বড় পাত্রে সংগ্রহ করে ঢালা হচ্ছে কড়াইয়ে। চুলায় প্রায় তিন থেকে সাড়ে তিন ঘণ্টা জ্বাল দেয়ার পর রসের পানি কমে ঘন হয়ে আসে। এরপর কড়াই নামিয়ে কাঠের নাড়ানি দিয়ে কিছুক্ষণ নাড়াচাড়া করা হয়। ধীরে ধীরে ঘন রস জমাট বেঁধে তৈরি হয় গুড়।
পরে প্রায় আধা কেজি করে ওজন করে হাতের সাহায্যে মুঠো আকারে গুড় তৈরি করা হয়। এসব গুড় খুচরা ও পাইকারি বিক্রি করেন বিনয় মাস্টার।
তিনি বলেন, দীর্ঘ দিন রহবল দ্বিমুখী উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছিলেন। অবসরের পর কৃষিকাজের প্রতি আগ্রহ থেকে আখ চাষ শুরু করেন। নিজের উৎপাদিত আখ দিয়ে গুড় তৈরির কাজও করছেন তিনি।
বিনয় মাস্টার বলেন, আগে এ এলাকায় অনেকেই আখ চাষ ও গুড় তৈরি করতেন। এখন আখ চাষ কমে যাওয়ায় দেশীয় পদ্ধতিতে গুড় তৈরির প্রচলনও কমেছে। তাই পুরনো ঐতিহ্য ধরে রাখতে নিজেই এ উদ্যোগ নিয়েছেন।
স্থানীয়রা জানান, একসময় শিবগঞ্জের গ্রামগুলোতে আখ ও গুড় তৈরির ব্যাপক প্রচলন ছিল। বিনয় মাস্টারের উদ্যোগে সেই পুরনো দিনের স্মৃতি আবারো ফিরে এসেছে।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








