
* ঋণ শোধে খরচ ৬৯.৮৯ কোটি ডলার
* বৈদেশিক সহায়তা মাত্র ২৯.৪৫ কোটি ডলার
* অর্থছাড় প্রায় ৬১ শতাংশ কমেছে
এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি), আইডিএ, এআইআইবি, ভারত, চীনের মতো বাংলাদেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে অর্থায়নকারী মূল উন্নয়ন সহযোগীরা চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দু’মাসে (জুলাই-আগস্ট) কোনো ধরনের প্রতিশ্রুতি দেয়নি। উল্টো বৈদেশিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি কমেছে ১.৪ শতাংশ। তবে অর্থ ছাড়ের গতি কমেছে ৬০.৭২ শতাংশ। উল্টো দিকে পুরনো ঋণ শোধের বোঝা বেড়েছে, পৌনে ৫ শতাংশ। চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে বাংলাদেশে নতুন বৈদেশিক সহায়তা হিসেবে ছাড় হয়েছে ২৯ কোটি ৪৫ লাখ ৬০ হাজার ডলার। একই সময়ে ঋণের আসল ও সুদ মেটাতে খরচ হয়েছে ৬৯ কোটি ৮৯ লাখ ২০ হাজার ডলার। নতুন সরকারের প্রথম বাজেটেই এটি বড় ধাক্কা।
অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সংশ্লিষ্টরা জানান, নতুন করে যে অর্থ এসেছে, তার তুলনায় ঋণ শোধে বেরিয়ে গেছে ৪০ কোটি ৪৩ লাখ ৬০ হাজার ডলার বেশি। বৈদেশিক অর্থপ্রবাহের এই হিসাবই এখন বাংলাদেশের আর্থিক চাপের একটি গুরুত্বপূর্ণ চিত্র। এ দিকে চলতি অর্থবছর সরকার বাজেটসহায়তা খাতে পরিকল্পনা করেছে এক হাজার ৯ কোটি ৯০ লাখ ডলার।
প্রতিশ্রুতি কমেছে ১.৪ শতাংশ
অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) রোববারের হালনাগাদ হিসাব বলছে, জুলাই-আগস্টে বাংলাদেশ মোট ২৪ কোটি তিন লাখ ৯০ হাজার ডলারের বৈদেশিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি পেয়েছে। একটি ঋণ এবং ৮টি অনুদান চুক্তির মাধ্যমে এটি এসেছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে সেই অঙ্ক ছিল ২৪ কোটি ৩৮ লাখ ১০ হাজার ডলার পেয়েছিল। অর্থাৎ প্রতিশ্রুতি কমেছে প্রায় ১.৪ শতাংশ। চলতি অর্থবছরের প্রতিশ্রুতির মধ্যে ৯ কোটি ৭১ লাখ ১০ হাজার ডলার অনুদান এবং ১৪ কোটি ৩২ লাখ ৮০ হাজার ডলার হলো ঋণ।
চীন ও এআইআইবি ছাড় করেনি
অর্থ ছাড়ের ক্ষেত্রে চিত্রটি একেবারেই ভিন্ন রকম। গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে ৭৫ কোটি ৭০ হাজার ডলার ছাড় করেছিল উন্নয়ন সহযোগীরা। এ বার তা নেমে এসেছে ৩৯ শতাংশে যা ২৯ কোটি ৪৫ লাখ ৬০ হাজার ডলার বা প্রায় ৬১ শতাংশ কম। মূল ধাক্কাটি এসেছে ঋণ ছাড়ে। গত বছর যেখানে ঋণ হিসেবে ৭৪ কোটি ৬১ লাখ ৬০ হাজার ডলার পাওয়া গিয়েছিল, এবার তা হয়েছে মাত্র ২৯ কোটি ১৩ লাখ ৭০ হাজার ডলার। অনুদান হিসেবে এসেছে ৩১ লাখ ৯০ হাজার ডলার।
এখানে দাতা সংস্থাগুলির মধ্যে সবচেয়ে বেশি অর্থ ছাড় করেছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)-১২ কোটি ৮৭ লাখ ২০ হাজার ডলার। এরপর আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা (আইডিএ) সাত কোটি ৩৯ লাখ ৬০ হাজার ডলার, জাপান তিন কোটি ৯০ লাখ ৪০ হাজার ডলার, ভারত তিন কোটি তিন লাখ ডলার এবং রাশিয়া দুই কোটি ছয় লাখ ৫০ হাজার ডলার দিয়েছে। তবে চীন এবং এআইআইবি থেকে এই সময়ে কোনো অর্থ ছাড় হয়নি বা পাওয়া যায়নি।
ছাড়ের টাকায় ঋণ পরিশোধ
বাংলাদেশের ঋণ পরিশোধের অঙ্ক বেড়েছে। দাতারা যে অর্থ ছাড় করেছে সেটা দিয়েই দায় পরিশোধ করতে হচ্ছে। জুলাই-আগস্টে মোট ৬৯ কোটি ৮৯ লাখ ২০ হাজার ডলার পরিশোধ করেছে বাংলাদেশ। এর মধ্যে আসল ৫১ কোটি ৬০ লাখ ৪০ হাজার ডলার এবং সুদ ১৮ কোটি ২৮ লাখ ৮০ হাজার ডলার। টাকার হিসাবে এই পরিমাণ প্রায় ৮ হাজার ৬২৬.২৫ কোটি টাকা। গত বছরের একই সময়ে ঋণ পরিশোধ হয়েছিল ৬৬ কোটি ৭১ লাখ ১০ হাজার ডলার। অর্থাৎ এক বছরে বেড়েছে প্রায় ৪.৮ শতাংশ।
সব মিলিয়ে প্রথম দুই মাসের হিসাব বলছে, নতুন বৈদেশিক অর্থ পাওয়ার গতি যেখানে উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। সেখানে পুরনো ঋণের দায় মেটানোর অঙ্ক বেড়েছে। জুলাই-অগস্টে ২৯ কোটি ৪৫ লাখ ৬০ হাজার ডলার বৈদেশিক সহায়তা ছাড়ের বিপরীতে ৬৯ কোটি ৮৯ লাখ ২০ হাজার ডলার ঋণ পরিশোধ হওয়ায় বৈদেশিক অর্থের নিট প্রবাহ ঋণাত্মক হয়েছে। এর ফলে বৈদেশিক মুদ্রার জোগান এবং রিজার্ভ ব্যবস্থাপনায় চাপের বিষয়টি সামনে আসছে।








