
* ঋণ ও অনুদান দিচ্ছে এডিবি
* রক্ষা পাবে ৯,৮০০ হেক্টর জমি ও বহুমুখী পরিকাঠামো
বাংলাদেশী নদীগুলোর দ্রুত পরিবর্তনশীল গতিপথ, চর জাগা এবং যমুনা ও পদ্মার তীব্র নদীভাঙন ও বন্যার ঝুঁকি কমাতে দুই হাজার ৩০১ কোটি টাকার নতুন মেগা প্রকল্প হাতে নিয়েছে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়। ‘অ্যাডাপটিভ রিভার সিস্টেম ম্যানেজমেন্ট প্রজেক্ট’ (এআরএসএমপি) শীর্ষক এই প্রকল্পে বড় অঙ্কের ঋণ ও অনুদান দিচ্ছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। চলতি অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) অন্তর্ভুক্তির জন্য প্রকল্পটি ইতোমধ্যে আন্তঃমন্ত্রণালয় প্রোগ্রামিং কমিটিতে বিবেচনাধীন রয়েছে। অক্টোবর ২০২৬ থেকে জুন ২০৩০ পর্যন্ত মোট ৪৫ মাস মেয়াদে এটি বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (বাপাউবো)।
যমুনা ও মেঘনা নদীর ভাঙন মোকাবেলায় ২০০২ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত ‘যমুনা-মেঘনা রিভার ইরোশন মিটিগেশন প্রজেক্ট’-এর মাধ্যমে প্রথমবারের মতো ‘অ্যাডাপটিভ অ্যাপ্রোচ’ প্রয়োগ করা হয়। পরবর্তীতে এডিবি ও নেদারল্যান্ডস সরকারের সহায়তায় ‘ফ্লাড অ্যান্ড রিভারব্যাংক ইরোশন রিস্ক ম্যানেজমেন্ট ইনভেস্টমেন্ট প্রোগ্রামে’র ১ম ও ২য় পর্যায় সফলভাবে সিরাজগঞ্জ, টাঙ্গাইল ও মানিকগঞ্জে বাস্তবায়িত হয়। সেই সফল অভিজ্ঞতার আলোকেই এবার যমুনা ও পদ্মার পরিবর্তিত গতিপ্রকৃতি সামলাতে নতুন এই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
প্রকল্পের মোট প্রাক্কলিত ব্যয় ২,৩০১ কোটি টাকা। এর মধ্যে- এডিবি ঋণ ১,৮০৩ কোটি ৪৫ লাখ ৭৭ হাজার টাকা (১৫০ মিলিয়ন ডলারের কনসেশনাল লোন)। এডিবি অনুদান ৭৩ কোটি ৮০ হাজার টাকা (৬ মিলিয়ন ডলার) ও সরকারি অর্থায়ন (জিওবি) ৪২৩ কোটি ৭৪ লাখ ২৩ হাজার টাকা।
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পের আওতায় ৬.৯১ হেক্টর জমি অধিগ্রহণ করা হবে। এটি বাস্তবায়িত হলে সিরাজগঞ্জ, টাঙ্গাইল ও মানিকগঞ্জ জেলায় নদীর ভাঙন থেকে রক্ষা পাবে প্রায় ৯ হাজার ৮০০ হেক্টর জমি। সুরক্ষিত হবে হাজার হাজার বসতবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় উপাসনালয়, বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সরকারি-বেসরকারি গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো। এ ছাড়া সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে আরো প্রায় ৫ হাজার ২০০ হেক্টর জমি বন্যার কবল থেকে মুক্ত রাখা সম্ভব হবে।
শুধু বাঁধ বা প্রতিরক্ষামূলক প্রাচীর নির্মাণ নয়; প্রকল্পের মূল দর্শন হলো পরিবর্তিত নদীর চালচিত্রের সাথে মানিয়ে নেয়ার ‘অ্যাডাপটিভ’ বা রূপান্তরযোগ্য পদ্ধতি। যমুনার গভীরতা বৃদ্ধি ও জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে তৈরি নতুন চ্যানেল সামলাতে এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। প্রকল্পটি ঢাকা বিভাগের টাঙ্গাইল, মানিকগঞ্জ ও ঢাকা এবং রাজশাহী বিভাগের সিরাজগঞ্জ ও পাবনা জেলার একাধিক উপজেলায় বাস্তবায়ন হবে। এর আওতায় রয়েছে- নদীতীর সংরক্ষণ, অ্যাডাপটেশন ওয়ার্ক, উচ্চ ঢালে তরঙ্গ প্রতিরোধ ও ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন। খালের প্রবাহ সক্ষমতা বৃদ্ধি, ইছামতি নদীর চ্যানেল উন্নয়ন, আধুনিক পানি ব্যবস্থাপনা কাঠামো ও সেতু নির্মাণ। নদী ও শাখা নদীগুলোর পানি প্রবাহ বৃদ্ধির মাধ্যমে সেচ, মৎস্য সম্পদ উন্নয়ন ও নৌচলাচলের নতুন পথ উন্মোচন।
পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করেছেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শতভাগ স্বচ্ছতার সাথে কাজ সম্পন্ন হলে যমুনা-পদ্মার ভাঙন রোধের পাশাপাশি স্থানীয় কৃষি ও সামগ্রিক অর্থনীতিতে ব্যাপক ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।








