সেনাবাহিনী, অপপ্রচার, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ইন্টারনেট

 


* ক্রান্তিলগ্নে সেনাপ্রধান দায়িত্ব পালন না করলে দেশে যুদ্ধ হতো : আব্দুল হক
* সেনাপ্রধানের মতো যেকোনো ব্যক্তির মর্যাদাহানি অপরাধ : ড. সাজ্জাদ

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী বা শীর্ষ পর্যায়ের নেতৃত্বকে নিশানা করে ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন পোস্ট ও কনটেন্ট ছড়িয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হচ্ছে। পরিকল্পিতভাবে মনগড়া তথ্য ছড়িয়ে সাধারণ মানুষের মনে সন্দেহ-সংশয়ের বীজ বুনছে একটি সংঘবদ্ধ চক্র। আধুনিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও বিভিন্ন প্রযুক্তি ব্যবহার করে নকল ছবি তৈরি এবং অসত্য বা খণ্ডিত তথ্য দিয়ে চমকপ্রদ ‘স্ক্রিপ্ট’ সাজাচ্ছেন তারা, যা পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়া হচ্ছে। এতে মুহূর্তের মধ্যেই ওইসব ভিডিও বা পোস্ট পৌঁছে যাচ্ছে বিপুলসংখ্যক মানুষের কাছে এবং বিভ্রান্তির মধ্যে পড়ছেন একশ্রেণীর সাধারণ মানুষ।
‘রিউমর স্ক্যানার’সহ তথ্য যাচাইকারী একাধিক প্রতিষ্ঠানের ডিজিটাল ফরেনসিক বিশ্লেষণে স্পষ্ট উঠে এসেছে- সেনাবাহিনী প্রধান বা সরাসরি সেনাবাহিনীকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়ানো তথ্যের অধিকাংশই ‘এআই’ নির্মিত এবং ভিত্তিহীন। মনগড়া তথ্যজুড়ে তৈরি এসব কনটেন্ট বা পোস্ট কেবল কোনো বিচ্ছিন্ন সাইবার অপরাধ বা সাময়িক অপচেষ্টা নয়; বরং এর মাধ্যমে সেনাবাহিনীকে ক্ষতিগ্রস্ত বা রাষ্ট্রকে দুর্বল করার সুসংগঠিত তৎপরতা বলে মনে করছেন সামরিক বিশেষজ্ঞ ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলো বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে- বিভ্রান্তিকর, ভুয়া বা আংশিক সত্য তথ্য দিয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে পোস্ট ও কনটেন্টের মাধ্যমে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে সবচেয়ে বেশি টার্গেট করা হয়েছে। শুধু সেনাবাহিনী নয়, একইভাবে টার্গেট করা হচ্ছে নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী কিংবা সশস্ত্র বাহিনীর শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদেরও। ফলে সশস্ত্র বাহিনীর মতো রাষ্ট্রের এমন গুরুত্বপূর্ণ কাঠামোকে নিয়ে ধারাবাহিকভাবে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর ঘটনাগুলোকে জনগণের আস্থা নষ্ট করার অপচেষ্টা হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।
সচেতন নাগরিকরাও প্রশ্ন তুলছেন- কেন বারবার দেশের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা ও আস্থার প্রতীক হিসেবে পরিচিত সেনাবাহিনীকে টার্গেট করে এমন বিভ্রান্তিকর ও অসত্য তথ্য ছড়ানো হচ্ছে? এগুলো কি শুধুই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশি ‘এনগেজমেন্ট’ বা ‘ভিউ’ পাওয়ার প্রতিযোগিতা, নাকি কোনো নির্দিষ্ট ‘এজেন্ডা’ বাস্তবায়নের গভীর প্রক্রিয়া? এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে রিটায়ার্ড আর্মড ফোর্সেস অফিসার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের (রাওয়া) চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব:) মোহাম্মদ আবদুল হক নয়া দিগন্তকে বলেন, ‘সেনাবাহিনীপ্রধান এবং সেনাবাহিনী কী কী কাজ করছে, তা সবারই জানা। অপপ্রচারগুলো পারপাসফুলি (উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে) করা হচ্ছে প্রতিবেশী দেশে বসে। এগুলো করছে ফ্যাসিস্টদের দোসররা। তারা এগুলোতে ইন্ধন দিচ্ছে এবং তাদের লোকজন এই দেশবিরোধী অপচেষ্টা ও কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে সেনাবাহিনী ও সেনাপ্রধানকে টার্গেট করা হয়েছে। সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান এমন এক সঙ্কটময় মুহূর্তে দায়িত্ব পালন করেছেন, যখন একটা সিদ্ধান্ত নেয়াটা ছিল সবচেয়ে বড় ব্যাপার। তিনি যদি সিদ্ধান্ত নিতে দেরি করতেন কিংবা না নিতেন, তাহলে দেশে যুদ্ধ লেগে যেত। এ দেশে এমন একজন সেনাপ্রধান রয়েছেন, যিনি একটু ইসলামিক মাইন্ডের- এটাও তার টার্গেট হওয়ার অন্যতম একটি কারণ। এটা সেনাবাহিনীর জন্য যেমন বিব্রতকর, তেমনি সামরিক বাহিনীর মনোবলেও সরাসরি আঘাত হানছে। সুতরাং যা প্রচার করা হচ্ছে, তার সবই মিথ্যা।’
রিউমর স্ক্যানারের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসেই বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এবং বাহিনীর উচ্চপদস্থ নেতৃত্বকে ঘিরে অন্তত ৯৬টি মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য শনাক্ত করা হয়েছে। ২০২৫ সালের একই সময়ে এই সংখ্যাটি ছিল ৭৪। অর্থাৎ, মাত্র এক বছরের ব্যবধানে সেনাবাহিনীকে লক্ষ্য করে প্রচারিত অপতথ্য ও গুজবের মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় ৩০ শতাংশ।
একই সময়ে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানকে সরাসরি নিশানা বানিয়ে ২১টি সুনির্দিষ্ট ভুয়া তথ্য ছড়ানো হয়েছে, যা নিরপেক্ষ ফ্যাক্টচেকিংয়ে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও মনগড়া বলে প্রমাণিত হয়েছে। শুধু সেনাবাহিনী নয়, সামগ্রিকভাবে সশস্ত্র বাহিনী এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কেন্দ্র করে চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে মোট ১৯৫টি অপতথ্য শনাক্ত করেছে রিউমর স্ক্যানার। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় আইনশৃঙ্খলা ও সামরিক বাহিনীকে ঘিরে ছড়ানো অপপ্রচারের এই হার বেড়েছে প্রায় ৭১ শতাংশ। সাম্প্রতিক সময়েও সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীকে নিয়ে কিংবা শীর্ষ কর্মকর্তাদের টার্গেট করে বিভ্রান্তিকর পোস্ট ও কনটেন্ট প্রকাশ করা হচ্ছে ফেসবুক, ইউটিউবসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।
সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক স্বার্থ বা সামাজিকমাধ্যমে উন্মাদনা তৈরির উদ্দেশ্যে বহুল আলোচিত ‘কতিপয় অ্যাক্টিভিস্ট ও বিতর্কিত কিছু সেনা কর্মকর্তা’ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার চালাচ্ছেন। সম্প্রতি প্রকাশিত ‘১৫ মিনিটস’ নামক ভিডিওকে কেন্দ্র করে সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে ব্যাপক বিভ্রান্তিকর তথ্য তুলে ধরা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। ওই ভিডিওতে দাবি তোলা হয়, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে নাকি সেনাবাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ পদে ‘ভারতপন্থী’ ব্যক্তিদের বসানোর চেষ্টা চলছে। শুধু তাই নয়, একই ভিডিওতে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানের একটি কথিত ‘গোপন পরিকল্পনা’র দাবিও সামনে আনা হয়েছিল। যদিও ইউটিউবারের ওই ভিডিওতে তোলা এসব চাঞ্চল্যকর অভিযোগের পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য, কর্তৃপক্ষের বক্তব্য বা প্রশাসনিক দলিল- এমনকি কোনো তথ্যপ্রমাণও উপস্থাপন করা হয়নি। মূলত এসব বিভ্রান্তিমূলক তথ্য ছড়ানোর মাধ্যমে দেশের মানুষের কাছে সশস্ত্র বাহিনী তথা শীর্ষ নেতৃত্বকে হেয় করা এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপতৎপরতা হিসেবেই দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।
সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাস্তবতা বা ঘটনাপ্রবাহ বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়- অপপ্রচারকারীদের এসব কাল্পনিক দাবির সাথে প্রকৃত পরিস্থিতির কোনো সম্পর্ক নেই। বিশেষ করে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের সঙ্কটময় পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান যে অপরিসীম ধৈর্য, পেশাদারত্ব ও বিচক্ষণতার পরিচয় দিয়েছিলেন, তা দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে প্রশংসিত হয়েছে। চব্বিশের ৫ আগস্ট তৎকালীন সরকারপ্রধানের পদত্যাগের পর দেশে যখন এক গভীর প্রশাসনিক শূন্যতা ও রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল, তখন সমস্ত ক্ষমতার কেন্দ্রে থাকা সত্ত্বেও সেনাবাহিনী সরাসরি রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করেনি। বরং সেনাপ্রধান প্রকাশ্যে রাজনৈতিক দলগুলোর শীর্ষ নেতৃত্বের সাথে বৈঠক করেন এবং সংবিধান ও রাষ্ট্রপতির নির্দেশনা অনুযায়ী একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের প্রক্রিয়াকে বেগবান করেন। তিনি দেশবাসীকে শান্ত থাকার ও সহিংসতা বন্ধ করার সরাসরি আহ্বান জানান।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা আরো বলেন, ওই আন্দোলনের চূড়ান্ত মুহূর্তে আন্দোলনরত সাধারণ জনগণের বিরুদ্ধে সামরিক শক্তি প্রয়োগ না করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছিল সেনাবাহিনীর শীর্ষ নেতৃত্ব। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম রয়টার্সের একটি প্রতিবেদনেও নিশ্চিত করা হয়েছিল, আন্দোলনের শেষ মুহূর্তে সেনাপ্রধান স্পষ্টভাবেই জানিয়ে দিয়েছিলেন যে সাধারণ নাগরিকদের ওপর কোনো বলপ্রয়োগ করা হবে না। সামরিক নেতৃত্বের এই দায়িত্বশীল ও রক্তপাতহীন অবস্থানের কারণেই দেশে এক সম্ভাব্য গৃহযুদ্ধ এড়ানো সম্ভব হয়েছে। অন্য দিকে সেনাবাহিনী সবসময় একটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের পথকেই সমর্থন জুগিয়ে এসেছে। সেনাপ্রধান প্রকাশ্যে ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক’ নির্বাচনের কথা বলেছেন। শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে রাজনৈতিক সরকারের হাতে রাষ্ট্রক্ষমতা হস্তান্তর প্রক্রিয়ায় সশস্ত্র বাহিনী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
অন্য দিকে ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত সময়কালের সামগ্রিক ডিজিটাল চিত্র পর্যালোচনায় রিউমর স্ক্যানার দেশজুড়ে মোট ৩ হাজার ২১০টি অপতথ্য শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছে। এসব তথ্যের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তৈরি হওয়া প্রচারণার পাশাপাশি বেশ কিছু বিভ্রান্তিকর উপাদানও বিদ্যমান ছিল। ফেসবুক, টিকটক, ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় সব ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে প্রতিনিয়ত আপলোড হওয়া তথ্যের একটি বড় অংশই ফরেনসিক বিশ্লেষণে মিথ্যা অথবা বিকৃত হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে।
প্ল্যাটফর্মভিত্তিক উপাত্তে আরো দেখা যায়, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে ২ হাজার ৮২২টি অপতথ্য ফেসবুকে, ৬০০টি টিকটকে, ৫৬২টি ইনস্টাগ্রামে এবং ২৪৫টি ইউটিউবে ছড়িয়েছে। সেনাপ্রধান বা সামরিক বাহিনীর সংবেদনশীল বিষয় নিয়ে তৈরি একটি বিভ্রান্তিকর বার্তা দ্রুততার সাথে এক প্ল্যাটফর্ম থেকে অন্য প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে পড়ার ফলে অতি অল্প সময়েই তা বিপুলসংখ্যক ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর কাছে পৌঁছে যাচ্ছে। ফলে এটি প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ করার বিষয়টি একটি প্রাতিষ্ঠানিক প্রযুক্তিনির্ভর চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে কোনো ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার পদায়ন বা পদোন্নতি হলেই তাকে টার্গেট করে সত্য-মিথ্যের মিশ্রণে চমকপ্রদ পোস্ট বা ভিডিও কনটেন্ট ছড়িয়ে দেয়া হচ্ছে। শুধু ২০২৬ সালের মার্চ মাসেই সারা দেশে ৯৩টি এআই-নির্মিত ভুয়া উপাদান শনাক্ত করা হয়, যার একটি বড় অংশ ছিল সেনাবাহিনী ও এর নেতৃত্বকে নিশানা করে তৈরি।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. সাজ্জাদ সিদ্দিকী গতকাল নয়া দিগন্তকে বলেন, ‘সেনাপ্রধানের মতো একজন ব্যক্তি কিংবা প্রধান বিচারপতি, রাষ্ট্রপতি- যাই হোন না কেন, যেকোনো ব্যক্তির মর্যাদাহানি অবশ্যই অপরাধ বলে আমি মনে করি। আর পরবর্তী সময়ে যাদের ওপর রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব বলুন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বলুন কিংবা জাতীয় সমৃদ্ধি বলুন- এই জাতীয় ব্যাপারগুলো যখন একজন ব্যক্তির ওপর নির্ভরশীল, তখন তাকে নিয়ে এভাবে কুৎসা বা অস্থিরতা সৃষ্টি করা একদম উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।’
তিনি আরো বলেন, ‘ছোট ছোট বিষয়গুলোতে যখন আমরা দায়মুক্তি দিয়ে দিই, তখন একটা প্রজন্ম বা গোষ্ঠী স্বার্থের কারণে সেই গোষ্ঠীটি ডেভেলপ করে। তখন তারা সেনাপ্রধান বলুন কিংবা বিচারপতি- কাউকেই আর রেহাই দিতে চায় না। ফলে এটি একটি নৈরাজ্যকর অবস্থার সৃষ্টি করে। তাই অপতথ্য ছড়ানোকারীদের আইনের আওতায় আনাটা অত্যন্ত জরুরি।’