
১৬ অক্টোবর থেকে বাংলাদেশে হিন্দুদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপন হতে যাচ্ছে। স্বাধীনতার পর থেকে আজ অর্ধশতাব্দী ধরে এই ইস্যুটি দেশের নিরাপত্তার একটি উপাদান হিসেবে জিইয়ে রাখা হয়েছে। পূজার সময় এলে প্রতি বছরই হিন্দুদের নিরাপত্তার জন্য বাড়তি বন্দোবস্ত করা হয়। কাজেই প্রশ্ন আসে, কেন আজ পর্যন্ত জাতি এই সংখ্যালঘু নিরাপত্তার বিষয়টি সুরাহা করতে পারল না? আসলে এটি একটি আর্থ-রাজনৈতিক ইস্যু। কখনো কখনো ভূরাজনৈতিক ইস্যু হিসেবেও সংখ্যালঘু নিরাপত্তার বিষয়টি ব্যবহৃত হয়ে থাকে। সুতরাং রাজনৈতিকভাবে এর ফয়সালা না করলে জাতির জন্য সবসময়ই এটি নিরাপত্তা ইস্যু হিসেবে উত্থাপিত হতে থাকবে।
আওয়ামী-ভারতীয় রাজনীতির ডাইনামিক্স : বাংলাদেশের সংখ্যালঘু ইস্যু আওয়ামী লীগ ও ভারত বরাবরই ব্যবহার করে আসছে। ভারত আমাদের দেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের মনগড়া বয়ান তৈরি করে এক দিকে তাদের হিন্দুত্ববাদী রাজনীতিকে হৃষ্টপুষ্ট করছে, অন্য দিকে বাংলাদেশকে ভূরাজনৈতিক চাপে ফেলার উপাদান হিসেবে ব্যবহার করছে। আর দেশের অভ্যন্তরে আওয়ামী লীগ আজন্ম এই সংখ্যালঘুদেরকে ব্যবহার করেছে। এক দিকে সংখ্যালঘুদের সহানুভূতি অর্জন করে ভোটব্যাংক হাতিয়ে নিয়েছে অন্য দিকে নিজেরাই সংখ্যালঘু নির্যাতন, দখলবাজি ইত্যাদি করে বিরোধী পক্ষের ওপর মিথ্যা দোষ চাপিয়ে বিরোধীদের কোণঠাসা করেছে। বিশেষ করে গত ১৬ বছরের আওয়ামী শাসনের সময় আওয়ামী নেতাকর্মীরাই সংখ্যালঘুদের জায়গাজমি দখল, জুলুম-নির্যাতন ইত্যাদি সংঘটিত করে বিএনপি-জামায়াত এবং ইসলামী গোষ্ঠীগুলোর ওপর দোষ চাপিয়েছে। এভাবে তারা এক ঢিলে দুই পাখি শিকার করেছে এক যুগেরও বেশি সময় ধরে। প্রথমত, লুটপাট ও দখলবাজি জায়েজ করেছে এবং বিরোধী নেতাকর্মীদের ধরপাকড়, জেল-জুলুম এবং মামলা-হামলার মাধ্যমে এলাকাছাড়া করেছে। দ্বিতীয়ত, বিশ্ববাসীকে জানান দিয়েছে এ দেশের ইসলামী রাজনীতি মূলত সাম্প্রদায়িক শক্তি যারা অমুসলিমদের ওপর জঙ্গিবাদ কায়েম করেছে!
এভাবে গত ১৬ বছরের শাসনকালে আওয়ামী সরকার জামায়াত ও ইসলামী দলগুলোকে মাঠছাড়া করেছে এবং বিএনপিকে একক বিরোধীপক্ষ হিসেবে রাজনীতির মাঠে দুর্বল করে ফ্যাসিবাদ কায়েমের সুযোগ নিয়েছে। তবে বাংলাদেশের সাধারণ নাগরিকদের এসব কথিত সংখ্যালঘু নির্যাতনের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই বা ছিল না। এর সাথে সাম্প্রদায়িকতারও কোনো সংশ্রব নেই। যারা এই নির্যাতনের সাথে সরাসরি জড়িত তারা মূলত আওয়ামী রাজনীতির নেতাকর্মী এবং একটি সঙ্ঘবদ্ধ অপরাধী চক্র বা গোষ্ঠী। এরা মূলত দখলবাজি ও লুটপাটের উদ্দেশ্যেই সংখ্যালঘু নির্যাতনের ডিসকোর্স ব্যবহার করে থাকে। সেই সাথে নিজেদেরকে হিন্দু-বান্ধবের মিথ্যা বয়ান প্রচার করে হিন্দু নাগরিকদের সহানুভূতি অর্জনের প্রচেষ্টা চালায়। অন্য দিকে ভারতের হিন্দুত্ববাদী বিজেপি সরকার আঞ্চলিক হিন্দুদের অভিভাবকত্ব অর্জনের লক্ষ্যে বাংলাদেশে হিন্দু নির্যাতনের অলীক গল্প প্রচার করে।
বাংলাদেশে কাঠামোগত সংখ্যালঘু নির্যাতন : দেশে সাধারণভাবে বিভিন্ন আর্থসামাজিক ও রাজনৈতিক স্বার্থে সংখ্যালঘু বা হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা বা নির্যাতনের ফৌজদারি অপরাধ হয়ে থাকে। এ ধরনের ফৌজদারি অপরাধ দেশের মুসলমান নাগরিকদের ওপরেও করা হয়। এগুলো সাধারণত কোনো সংখ্যালঘুভিত্তিক অপরাধ নয়; বরং দেশের অন্য দশটি ঘটনার মতোই ক্ষমতাসীন সঙ্ঘবদ্ধ অপরাধী গোষ্ঠী বা ব্যক্তি অত্যাচার-নির্যাতন করে থাকে। তবে একজন মুসলমানের ওপর এ ধরনের নির্যাতন হলে সেটিকে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে দেখা হয়; কিন্তু একই অপরাধ কোনো হিন্দুর ওপর সংঘটিত হলেই সেটিকে সংখ্যালঘু বা সাম্প্রদায়িক নির্যাতন সংজ্ঞায়িত করা একটি বিশেষ গোষ্ঠী এবং বিশেষ কিছু সংবাদমাধ্যমের প্রবণতা দেখা যায়। আর আনুষ্ঠানিক সংবাদমাধ্যম তো সবসময় ক্ষমতাসীনদের নিয়ন্ত্রণেই থাকে। অবশ্য বেশ কিছু অপরাধ বা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা ও নির্যাতন কাঠামোগতভাবে হয়েছিল বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন। বিগত আওয়ামী সরকারের সময় ২০০৯ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে এ ধরনের বেশ কয়েকটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সংখ্যালঘু হামলার ঘটনা ঘটেছে। যেগুলোর অধিকাংশই ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের এবং তাদের অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী ঘটিয়েছে। এরপর রাষ্ট্র তাদেরকে আড়াল করার উদ্দেশ্যে বিরোধীদের ওপর ক্র্যাকডাউন করেছে এবং বিরোধী ও ইসলামী গোষ্ঠীর কাজ বলে দেশে ও বিদেশে প্রচারণা চালিয়ে রাজনৈতিক সুবিধা নেয়ার চেষ্টা করেছে।
ক. রামু হামলা : একজন বৌদ্ধ তরুণের ফেসবুকে ইসলাম অবমাননার ছবি দেয়া হয়েছে এই অপপ্রচার চালিয়ে ২০১২ সালের ২৯ এবং ৩০ সেপ্টেম্বর বৌদ্ধমন্দির এবং তাদের বাড়িঘরে হামলা চালানো হয়। পুরো দু’দিনব্যাপী রামু, টেকনাফ, পটিয়া এবং উখিয়া উপজেলায় এসব হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট হয়। ১২টি মন্দির ও বৌদ্ধবিহার এবং ৫০টি বাড়িঘর ধ্বংস করা হয়। এর বিচারবিভাগীয় তদন্তে ছাত্রলীগ নেতা নূরুল ইসলাম সেলিম, শ্রমিক লীগ নেতা উইনুস রানা চৌধুরী, ছাত্রলীগ কর্মী জয়নাল আবেদিন ভুট্টোর নাম আসে। কিন্তু চার্জশিটে পুলিশ স্থানীয় বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীদের নামে চার্জশিট দেয়। ওই তদন্তে প্রশাসন ও স্থানীয় ওসির নির্লিপ্ততার তথ্য উঠে আসে এবং এটি সুপরিকল্পিত হামলা ছিল বলে জানা যায়। এরপর আওয়ামী সরকার পরের এক যুগেও এই হামলার কোনো বিচার করেনি।
খ. নির্বাচনোত্তর সংখ্যালঘু হামলার ন্যারেটিভ : ২০১৪ সালের নির্বাচনের পর দিনাজপুরের কোরানি গ্রামে, যশোরের মালোপাড়া, গাইবান্ধা এবং সাতক্ষীরায় হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। হামলার পরপরই বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীদের ব্যাপক ধরপাকড় করে পুলিশ এবং সাতক্ষীরায় পুলিশ-বিজিবি-র্যাব মিলে জামায়াত নেতাকর্মীদের বাড়িঘর বুলডোজার দিয়ে মাটির সাথে মিশিয়ে দেয়। কিন্তু হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর কারা হামলা করল তার সঠিক তদন্ত বা বিচার কোনোটিই পরবর্তী ১১ বছরেও করেনি আওয়ামী লীগ সরকার। জানা যায়, নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াত যোগ না দেয়ায় আওয়ামী লীগের দুই প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর খালি মাঠ দখলের দ্বন্দ্বের ফলেই সেই সংখ্যালঘু হামলা হয়েছিল। ফলে সংখ্যালঘু হামলার ঘটনা সরকারের সাজানো বলেই অনেকে ধারণা করেন।
গ. নাসির নগর সংখ্যালঘু নির্যাতন : ২০১৬ সালের ৩০ অক্টোবর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসির নগরে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর ভয়াবহ হামলা হয়। এখানেও জনৈক রসরাজ দাসের ফেসবুকে ইসলাম ধর্ম অবমাননার প্রচারণা চালিয়ে হামলা সংঘটিত হয়। ৪ এবং ১৩ নভেম্বরে আবারো হামলা হয় হিন্দুদের বাড়িঘরে। এসব হামলায় অগ্নিসংযোগ, বাড়িঘর লুটপাট ও ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়। ১৫টি মন্দির এবং ১০০ বাড়িঘরে হামলা হয় স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা দেওয়ান আতিকুর রহমান আঁখি, আবুল হাশেম, সুরুজ আলী, শেখ মোহাম্মদ আবদুল আহাদ প্রমুখের সরাসরি নেতৃত্বে। তবে বিডি নিউজ ২৪ ডটকমের প্রতিবেদনে বলা হয়— স্থানীয় আওয়ামী লীগ সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী মোহাম্মদ সায়েদুল হক এবং জেলা আওয়ামী লীগ প্রেসিডেন্ট ওবায়দুল মুক্তাদির চৌধুরীর মধ্যকার আধিপত্যের দ্বন্দ্বের ফলেই এই সংখ্যালঘু হামলার ঘটনা ঘটে। আর পুলিশের ভূমিকা ছিল সর্বৈব দায়িত্বজ্ঞানহীন। এই ঘটনায় আটটি মামলার সাতটিতেই কোনো অগ্রগতি নেই।
ঘ. শাল্লা আক্রমণ : হেফাজত নেতা আল্লামা মামুনুল হক সুনামগঞ্জের দিরাই এলাকায় হেফাজতে ইসলামীর একটি সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন ২০২১ সালের ১৫ মার্চ। ১৬ মার্চ জনৈক জুম্মন দাস ফেসবুকে মামুনুল হককে নিয়ে কটূক্তি করেন। ১৭ মার্চ শাল্লার নোয়াগাঁও গ্রামে হিন্দুদের ওপর হামলা হয়। হামলায় ৮৯টি বাড়ি এবং আটটি মন্দির ভাঙা হয় এবং ব্যাপক লুটপাট হয়। হামলায় নেতৃত্ব দেন যুবলীগ নেতা শাহিদুল ইসলাম স্বাধীন। শাহিদুল ইসলাম স্বাধীনের সাথে নোয়াগাঁও গ্রামের অধিবাসীদের একটি ‘জলমহাল’ নিয়ে দ্বন্দ্ব ছিল আগে থেকেই। এই ঘটনায়ও পুলিশের দায়িত্বে চরম অবহেলার খবর পাওয়া যায়। পরবর্তী চার বছরেও আওয়ামী লীগ সরকার এই সহিংসতার কোনো বিচার করেনি।
ঙ. কুমিল্লার পূজামণ্ডপের ঘটনা : ২০২১ সালের ১৩ অক্টোবর কুমিল্লার নানুয়া দীঘির পাড় পূজা মণ্ডপে গভীর রাতে কে বা কারা মূর্তির পায়ের কাছে পবিত্র কুরআন রেখে দিয়েছিল। খবর পেয়ে পুলিশ তা উদ্ধার করে এবং উদ্ধার তৎপরতার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। প্রতিক্রিয়ায় কুমিল্লা, নোয়াখালী, চাঁদপুর, চট্টগ্রাম এবং রংপুরে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর ব্যাপক হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট হয়। চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে প্রতিবাদ মিছিলে পুলিশ গুলি চালালে চারজন নিহত হন। এসব ঘটনায় সারা দেশে দু’জন হিন্দু এবং ছয়জন মুসলমান নাগরিক নিহত হন। কুরআন রাখার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে জনৈক ইকবাল হোসেনের ১৬ মাসের কারাদণ্ড হয়। ইকবাল হোসেনকে বিএনপির মেয়র মনিরুল হক সাক্কুর সাথে যুক্ত থাকার কথা জানায় পুলিশ। কিন্তু পরবর্তী আড়াই বছরেও এর কোনো সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার করেনি আওয়ামী সরকার। এই ঘটনাকে অনেকেই মেয়র হিসেবে সাক্কুর ক্যারিয়ার ধ্বংসের পাঁয়তারা বলে থাকেন। কারণ ঘটনার মাত্র ৯ মাস পরই কুমিল্লার সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে সাক্কুকে পরাজিত করে আওয়ামী লীগ প্রার্থী আরফানুল হক রিফাত মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলেন।
অভ্যুত্থানোত্তর ভারতের অপপ্রচার : ৫ আগস্ট অভ্যুত্থানে হাসিনা ও আওয়ামী সরকারের পতনকে ভারত নিজেদের পতন হিসেবে বিবেচনা করে। ফলে এই স্বতঃস্ফূর্ত গণ-অভ্যুত্থানকে প্রশ্নবিদ্ধ এবং ব্যর্থ করে দেয়ার জন্য ভারতের সব মিডিয়া, রাজনৈতিক নেতৃত্ব থেকে শুরু করে সরকার পর্যন্ত এটিকে সংখ্যালঘুু নির্যাতনের মিথ্যা বয়ান বলে বিশ্বজুড়ে প্রচার করতে থাকে। হিন্দুত্ববাদী মোদি সরকার বাংলাদেশে হিন্দু নির্যাতনের বিভিন্ন অলীক গল্প এবং মিথ্যা ভিডিও ছড়িয়ে বাংলাদেশের আপামর জনতার বিজয়কে সংখ্যালঘু নির্যাতনের কঙ্কক লেপন করার সব প্রচেষ্টাই চালায়। তবে তাদের এই মিথ্যা বয়ান বিফলে গেলেও দেশীয় আওয়ামী চর, বুদ্ধিজীবী এবং কিছু মিডিয়া দেশের অভ্যন্তরে অস্থিরতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে উসকানি দিয়ে ভারতের মিথ্যা ন্যারেটিভের অনুরণন করেছে।
আসন্ন পূজায় নিরাপত্তা ইস্যু
আসন্ন পূজায় সংখ্যালঘু হিন্দুদের নিরাপত্তা ইস্যুতে সরকারকে যথেষ্ট আন্তরিক মনে হচ্ছে। সরকার বহুমুখী নিরাপত্তা পদক্ষেপ গ্রহণের কথা জানাচ্ছে। গত দুই বছরের পূজায় তেমনটি সমস্যা ছিল না। পুলিশের বিপর্যস্ত অবস্থা থাকা সত্ত্বেও সরকারে আন্তরিকতা এবং বিএনপি-জামায়াতসহ সব দল ও মতের মানুষের সহযোগিতা ছিল। এবারো আশা করি সব রাজনৈতিক দলের সহযোগিতা এবং সজাগ দৃষ্টি থাকবে। তবে সবচেয়ে সুবিধার বিষয় হলো আওয়ামী শাসনের ন্যায় সরকারের ভেতরের কেউ সংখ্যালঘু নিরাপত্তার হুমকি সৃষ্টি করতে চাইবে না। আওয়ামী সরকারের রাজনীতির একটি বড় উপাদান ছিল সংখ্যালঘুদের নিয়ে ইস্যু উৎপাদন। ফলে সেই সরকার ও তাদের দলের ভেতরে-বাইরে থেকে সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনাগুলো ঘটানো এবং প্রচারণার প্রবণতা ছিল। বর্তমান সরকার কিংবা বিরোধীদল কারো সেই সংখ্যালঘু তত্ত্ব নেই। কিন্তু সমস্যা হলো— ফ্যাসিস্টদের অবশিষ্টাংশ দেশে সমাজের সাথে মিশে রয়েছে। তাদের হাতে প্রচুর অর্থপ্রবাহ আছে। প্রতিবেশী দেশের ভূরাজনৈতিক স্বার্থও এই ফ্যাসিস্টদের সাথে মিলে একাকার! কাজেই সাবোটাজমূলক কিছুুই ঘটানোর চেষ্টা যে হবে না সেটি বলা যায় না। এ জন্য পুলিশ, সরকারি দল, বিরোধী দল এবং সাধারণ নাগরিক সবাই সজাগ থাকলে এবারের পূজাও নির্বিঘ্নে, বিনা হুমকিতে হিন্দু সম্প্রদায় পালন করতে সক্ষম হবে। এ জন্য পুলিশি নিরাপত্তার পাশাপাশি সাইবার নিরাপত্তা, মণ্ডপে মণ্ডপে সিসিটিভি ব্যবহার, গোয়েন্দা নজরদারি, আনসার মোতায়েন এবং ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে এলাকাবাসী মনিটরিং সেল গঠন করে সক্রিয় থাকলে কোনো দুষ্কৃতকারীই নিরাপত্তার ব্যাঘাত ঘটাতে দুঃসাহস করবে না।
লেখক : সাবেক সেনা কর্মকর্তা ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক
maksud2648@yahoo.com
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








